মাহবুবুল আলম তারেক

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে ইরানকে দ্রুত আলোচনায় ফিরতে হবে। নইলে নতুন পারমাণবিক চুক্তির সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে’ রয়েছে। নতুন কোনো হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্ত জবাব দেওয়া হবে।
এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে গত বছরের ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায়। গত জুনে ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করে।
সর্বশেষ উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ডিসেম্বরের শেষ দিকে। ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এর কারণ ছিল অর্থনৈতিক ধস, চরম মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন। এই বিক্ষোভ ছিল ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড়। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সহায়তা আসছে’। তিনি ইরানে বোমা হামলার হুমকিও দেন। পরে তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তিনি তেহরানের আশ্বাস গ্রহণ করেন যে গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কিন্তু ইরান হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে আন্দোলন দমন করে।
এতে দুই দেশ নতুন সামরিক সংঘাতের পথে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার, বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান। সবকিছু ইরানের আঘাতের সীমার মধ্যে রাখা হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নৌবাহিনী মোতায়েন করে সরাসরি যুদ্ধ মহড়া চালিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ও বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যাহত করা হতে পারে।
কূটনৈতিক আলোচনা এখন স্থবির। যুক্তরাষ্ট্র কিছু পূর্বশর্ত দিয়েছে। ইরান বলছে, এসব শর্ত তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তারা যুদ্ধ ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ যুদ্ধ হলে তেলের দাম বেড়ে যাবে এবং পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
এই বিরোধের মূল বিষয় হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। দুই পক্ষের দাবি এখনো পরস্পরবিরোধী। ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে।
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামানো। এই লক্ষ্য অর্জনে কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে ইরানের মধ্যবিত্ত শ্রেণি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা দাবি করে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান অবশ্য বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য।
বারাক ওবামার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এটি ‘যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমা ছিল ৩.৬৭ শতাংশ। মজুত রাখা যেত সর্বোচ্চ ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম।
এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু অস্ত্র তৈরির জন্য ছিল অপ্রতুল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। কিন্তু পরে ইরানের ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অস্ত্র তৈরির পথে বড় ধাপ। ৯০ শতাংশ হলে সেটি পুরোপুরি অস্ত্র-মানের হয়।
২০১৮ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। তিনি আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইরান কিছুদিন চুক্তি মানার চেষ্টা করেছিল। ইউরোপ, রাশিয়া ও চীন তখন পাশে ছিল। পরে জো বাইডেনও অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প আবার চাপ বাড়ান। এরপর ইরান দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে।
২০২৫ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, ইরান ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে। কোনো অ-পারমাণবিক রাষ্ট্রের জন্য এটি অস্বাভাবিক।
এই তথ্য দেখিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার যৌক্তিকতা দেখায়। একজন গবেষক বলেন, ওয়াশিংটনে একটি শক্তিশালী মতবাদ আছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেলে তা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিও ত্যাগ করতে হবে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একেবারেই বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে মজুত সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
গত জুনের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ইরানি নিহত হন। ইরানের পাল্টা হামলায় ৩২ জন ইসরায়েলি নিহত হয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আয়রন ডোম ভেদ করে কয়েকটি শহরে আঘাত হানে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও উদ্বিগ্ন হয়। ইরানের এমাদ, খোররামশাহর, ঘাদর, সেজ্জিল ও সৌমার ক্ষেপণাস্ত্র ১,৭০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। এই পরিসরে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা কমাতে হবে।
আঞ্চলিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রধান দাবি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ঘিরে। এই প্রভাব গড়ে উঠেছে সরকার, ধর্মীয় সংগঠন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জোটের মাধ্যমে। এই জোটকে বলা হয় ‘প্রতিরোধের অক্ষ’। গত দুই বছরে এই জোট বড় ধাক্কা খেয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতন হয়। তিনি ছিলেন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
লেবাননে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর নেতৃত্বকে ধ্বংস করেছে। গাজায় হামাস এবং ইয়েমেনে হুথিরাও যুদ্ধের মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছে। তবু এসব গোষ্ঠী পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। অনেক দল এখনো সক্রিয় রয়েছে।
এই সপ্তাহে ইরাকভিত্তিক কাতাইব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, ইরানে হামলা হলে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ও সহায়তা বন্ধ করতে হবে।
ইরান কী চায়
ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম দাবি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। ১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়েছে। এর ফলে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর ইরানের তেল রপ্তানি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে যায়। সরকার প্রতিবছর শত শত বিলিয়ন ডলার আয় হারায়।
ইরানের মুদ্রার দরও ভেঙে পড়েছে। এই সপ্তাহে এক ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ইরানি রিয়াল। আমদানির খরচ বেড়ে গেছে। দ্রব্যমূল্য দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। বিশেষ করে, তৃতীয় দেশগুলোকে বাণিজ্যে বাধা দেয় এমন ‘দ্বিতীয়িক নিষেধাজ্ঞা’ বন্ধ করতে হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি
ইরান বরাবরই বলে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে। তবে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটির কট্টরপন্থীরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি তুলেছে।
সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান বদলায়নি। তবে ইরান চায়, সীমিত পরিসরে হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখতে। সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালু রাখতে। আন্তর্জাতিক পরিদর্শক ফিরিয়ে আনার আগে নতুন সমঝোতা করতে।
ইরানের দাবি, আইএইএ-র আগের প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলার অজুহাত দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
ইরান মনে করে, তার ক্ষেপণাস্ত্রই তার প্রধান নিরাপত্তা রক্ষাকবচ। বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পারে। এতে ইরান কৌশলগত সুবিধা পায়।
ইরানের দাবি, তাকে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বজায় রাখতে দিতে হবে।
আঞ্চলিক প্রভাব
ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক একটি জটিল রাজনৈতিক ও আদর্শিক কাঠামোর মধ্যে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিন প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আসাদ সরকারের পতন হয়েছে। হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়েছে। তবু ইরান মনে করে, তার প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ইরানের জোট ও প্রভাব এই ক্ষতির মধ্যেও টিকে থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোপন আলোচনার অগ্রগতিও গুরুত্বপূর্ণ।
ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো, যেমন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, ঘোষণা দিয়েছে—তারা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে দেবে না। কাতার কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তবু যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এখন আরব সাগরে অবস্থান করছে।
গত জুন মাসে ট্রাম্প ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালান। এর মধ্যে ফোর্দোতে মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাও ছিল।
ট্রাম্প আলোচনা চাইলেও ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টোফার ফেদারস্টোন বলেন, ‘বাস্তব অর্থবহ আলোচনা হতে হলে বিরাট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ওবামা আমলের চুক্তি ভেঙে দেওয়ার কারণে ইরান ট্রাম্পকে বিশ্বাস করবে না। ইউরোপীয় দেশগুলোও তার অনির্দেশ্য আচরণের কারণে তাকে সহায়তা করতে আগ্রহী নয়।
ইরান প্রকাশ্যে জানিয়েছে, সামরিক হুমকির মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না।
তবু কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রক্সান ফারমান ফারমাইয়ান বলেন, ইরান অন্তত আলোচনার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় খাদ্যের দাম বেড়েছে। মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ চরম চাপে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকট বাস্তব।
তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞা উঠাতে না পারলে অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে। বহিরাগত হস্তক্ষেপে দেশে বিশৃঙ্খলা ও বিভাজনও ঘটতে পারে। এ কারণেই ইরান আলোচনায় যেতে বাধ্য হতে পারে।
ফারমান ফারমাইয়ান বলেন, ট্রাম্প সম্ভবত ‘পারমাণবিক আত্মসমর্পণ’ আদায়ে চাপ অব্যাহত রাখবেন। তবে তিনি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতে চাইবেন।
তিনি বলেন, ‘এখন যুদ্ধ হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল জড়িয়ে পড়বে। ট্রাম্প তা বহন করতে পারবেন না।’এই পরিস্থিতি তাকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে। দ্রুত একটি চুক্তিও হতে পারে। তবে তার চুক্তিগুলো সাধারণত নিজস্ব স্বার্থকেন্দ্রিক হয়।
ভেনেজুয়েলার চুক্তির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানকার তেলের অর্থ এখন কাতারের একটি তহবিলে যাচ্ছে, যা ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে।
তিনি বলেন, আরেকটি চাপের কৌশল হতে পারে খার্গ দ্বীপ দখল করা। সেখান দিয়েই ইরানের ৯০ শতাংশ তেল প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি হয়। এতে ইরানের আর্থিক শিরা কেটে যাবে। এটি ট্রাম্পের পছন্দের ‘দ্রুত জয়’ হতে পারে। তবে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকিই এখন পর্যন্ত তাকে থামিয়ে রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য কনভারসেশন, রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে ইরানকে দ্রুত আলোচনায় ফিরতে হবে। নইলে নতুন পারমাণবিক চুক্তির সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে’ রয়েছে। নতুন কোনো হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্ত জবাব দেওয়া হবে।
এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে গত বছরের ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায়। গত জুনে ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করে।
সর্বশেষ উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ডিসেম্বরের শেষ দিকে। ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এর কারণ ছিল অর্থনৈতিক ধস, চরম মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন। এই বিক্ষোভ ছিল ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড়। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সহায়তা আসছে’। তিনি ইরানে বোমা হামলার হুমকিও দেন। পরে তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তিনি তেহরানের আশ্বাস গ্রহণ করেন যে গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কিন্তু ইরান হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে আন্দোলন দমন করে।
এতে দুই দেশ নতুন সামরিক সংঘাতের পথে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার, বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান। সবকিছু ইরানের আঘাতের সীমার মধ্যে রাখা হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নৌবাহিনী মোতায়েন করে সরাসরি যুদ্ধ মহড়া চালিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ও বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যাহত করা হতে পারে।
কূটনৈতিক আলোচনা এখন স্থবির। যুক্তরাষ্ট্র কিছু পূর্বশর্ত দিয়েছে। ইরান বলছে, এসব শর্ত তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তারা যুদ্ধ ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ যুদ্ধ হলে তেলের দাম বেড়ে যাবে এবং পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
এই বিরোধের মূল বিষয় হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। দুই পক্ষের দাবি এখনো পরস্পরবিরোধী। ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে।
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামানো। এই লক্ষ্য অর্জনে কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে ইরানের মধ্যবিত্ত শ্রেণি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা দাবি করে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান অবশ্য বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য।
বারাক ওবামার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এটি ‘যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমা ছিল ৩.৬৭ শতাংশ। মজুত রাখা যেত সর্বোচ্চ ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম।
এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু অস্ত্র তৈরির জন্য ছিল অপ্রতুল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। কিন্তু পরে ইরানের ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অস্ত্র তৈরির পথে বড় ধাপ। ৯০ শতাংশ হলে সেটি পুরোপুরি অস্ত্র-মানের হয়।
২০১৮ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। তিনি আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইরান কিছুদিন চুক্তি মানার চেষ্টা করেছিল। ইউরোপ, রাশিয়া ও চীন তখন পাশে ছিল। পরে জো বাইডেনও অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প আবার চাপ বাড়ান। এরপর ইরান দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে।
২০২৫ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, ইরান ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে। কোনো অ-পারমাণবিক রাষ্ট্রের জন্য এটি অস্বাভাবিক।
এই তথ্য দেখিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার যৌক্তিকতা দেখায়। একজন গবেষক বলেন, ওয়াশিংটনে একটি শক্তিশালী মতবাদ আছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেলে তা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিও ত্যাগ করতে হবে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একেবারেই বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে মজুত সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
গত জুনের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ইরানি নিহত হন। ইরানের পাল্টা হামলায় ৩২ জন ইসরায়েলি নিহত হয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আয়রন ডোম ভেদ করে কয়েকটি শহরে আঘাত হানে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও উদ্বিগ্ন হয়। ইরানের এমাদ, খোররামশাহর, ঘাদর, সেজ্জিল ও সৌমার ক্ষেপণাস্ত্র ১,৭০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। এই পরিসরে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা কমাতে হবে।
আঞ্চলিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রধান দাবি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ঘিরে। এই প্রভাব গড়ে উঠেছে সরকার, ধর্মীয় সংগঠন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জোটের মাধ্যমে। এই জোটকে বলা হয় ‘প্রতিরোধের অক্ষ’। গত দুই বছরে এই জোট বড় ধাক্কা খেয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতন হয়। তিনি ছিলেন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
লেবাননে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর নেতৃত্বকে ধ্বংস করেছে। গাজায় হামাস এবং ইয়েমেনে হুথিরাও যুদ্ধের মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছে। তবু এসব গোষ্ঠী পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। অনেক দল এখনো সক্রিয় রয়েছে।
এই সপ্তাহে ইরাকভিত্তিক কাতাইব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, ইরানে হামলা হলে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ও সহায়তা বন্ধ করতে হবে।
ইরান কী চায়
ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম দাবি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। ১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়েছে। এর ফলে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর ইরানের তেল রপ্তানি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে যায়। সরকার প্রতিবছর শত শত বিলিয়ন ডলার আয় হারায়।
ইরানের মুদ্রার দরও ভেঙে পড়েছে। এই সপ্তাহে এক ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ইরানি রিয়াল। আমদানির খরচ বেড়ে গেছে। দ্রব্যমূল্য দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। বিশেষ করে, তৃতীয় দেশগুলোকে বাণিজ্যে বাধা দেয় এমন ‘দ্বিতীয়িক নিষেধাজ্ঞা’ বন্ধ করতে হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি
ইরান বরাবরই বলে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে। তবে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটির কট্টরপন্থীরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি তুলেছে।
সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান বদলায়নি। তবে ইরান চায়, সীমিত পরিসরে হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখতে। সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালু রাখতে। আন্তর্জাতিক পরিদর্শক ফিরিয়ে আনার আগে নতুন সমঝোতা করতে।
ইরানের দাবি, আইএইএ-র আগের প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলার অজুহাত দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
ইরান মনে করে, তার ক্ষেপণাস্ত্রই তার প্রধান নিরাপত্তা রক্ষাকবচ। বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পারে। এতে ইরান কৌশলগত সুবিধা পায়।
ইরানের দাবি, তাকে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বজায় রাখতে দিতে হবে।
আঞ্চলিক প্রভাব
ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক একটি জটিল রাজনৈতিক ও আদর্শিক কাঠামোর মধ্যে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিন প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আসাদ সরকারের পতন হয়েছে। হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়েছে। তবু ইরান মনে করে, তার প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ইরানের জোট ও প্রভাব এই ক্ষতির মধ্যেও টিকে থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোপন আলোচনার অগ্রগতিও গুরুত্বপূর্ণ।
ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো, যেমন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, ঘোষণা দিয়েছে—তারা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে দেবে না। কাতার কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তবু যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এখন আরব সাগরে অবস্থান করছে।
গত জুন মাসে ট্রাম্প ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালান। এর মধ্যে ফোর্দোতে মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাও ছিল।
ট্রাম্প আলোচনা চাইলেও ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টোফার ফেদারস্টোন বলেন, ‘বাস্তব অর্থবহ আলোচনা হতে হলে বিরাট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ওবামা আমলের চুক্তি ভেঙে দেওয়ার কারণে ইরান ট্রাম্পকে বিশ্বাস করবে না। ইউরোপীয় দেশগুলোও তার অনির্দেশ্য আচরণের কারণে তাকে সহায়তা করতে আগ্রহী নয়।
ইরান প্রকাশ্যে জানিয়েছে, সামরিক হুমকির মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না।
তবু কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রক্সান ফারমান ফারমাইয়ান বলেন, ইরান অন্তত আলোচনার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় খাদ্যের দাম বেড়েছে। মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ চরম চাপে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকট বাস্তব।
তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞা উঠাতে না পারলে অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে। বহিরাগত হস্তক্ষেপে দেশে বিশৃঙ্খলা ও বিভাজনও ঘটতে পারে। এ কারণেই ইরান আলোচনায় যেতে বাধ্য হতে পারে।
ফারমান ফারমাইয়ান বলেন, ট্রাম্প সম্ভবত ‘পারমাণবিক আত্মসমর্পণ’ আদায়ে চাপ অব্যাহত রাখবেন। তবে তিনি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতে চাইবেন।
তিনি বলেন, ‘এখন যুদ্ধ হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল জড়িয়ে পড়বে। ট্রাম্প তা বহন করতে পারবেন না।’এই পরিস্থিতি তাকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে। দ্রুত একটি চুক্তিও হতে পারে। তবে তার চুক্তিগুলো সাধারণত নিজস্ব স্বার্থকেন্দ্রিক হয়।
ভেনেজুয়েলার চুক্তির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানকার তেলের অর্থ এখন কাতারের একটি তহবিলে যাচ্ছে, যা ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে।
তিনি বলেন, আরেকটি চাপের কৌশল হতে পারে খার্গ দ্বীপ দখল করা। সেখান দিয়েই ইরানের ৯০ শতাংশ তেল প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি হয়। এতে ইরানের আর্থিক শিরা কেটে যাবে। এটি ট্রাম্পের পছন্দের ‘দ্রুত জয়’ হতে পারে। তবে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকিই এখন পর্যন্ত তাকে থামিয়ে রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য কনভারসেশন, রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস

বাংলাদেশ সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে। এর নাম জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ২০২৬–২০৩০। এটি প্রণয়ন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
১ দিন আগে
সাংবাদিকতার মূল শক্তি নিহিত সঠিক প্রশ্ন তোলার সাহসে । আপাতদৃষ্ট সত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত বাস্তবতাকে উন্মোচন করাই সাংবাদিকতার নিরন্তর দায়বদ্ধতা। এবারের নির্বাচনে ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর বিশেষ আয়োজন ‘কিপ কোয়েশ্চেনিং’ সিরিজের আজকের আলোচনার বিষয়—গণতন্ত্র না মবতন্ত্র?
২ দিন আগে
বাংলাদেশে চলছে নির্বাচনী ডামাডোল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে জল্পনা-কল্পনার ডানা মেলছে। কানে ভেসে আসছে কূটনীতিক পাড়ার ফিসফিসানি।
৩ দিন আগে
দুবাইয়ের জেবেল আলির আদলে বাংলাদেশেও গড়ে উঠছে প্রথম ‘ফ্রি ট্রেড জোন’। বিশ্বজুড়ে এর সফলতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত থাকলেও আমাদের দেশে এর স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই জোনের প্রকৃত সুবিধা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো ঠিক কী?
৩ দিন আগে