আবদুল্লাহ কাফি

অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র, বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকা। পুরান ঢাকা এলাকায় তিনি ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। উত্তরাধিকার রক্ষার চ্যালেঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর ছেলে, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। অন্যদিকে ইশরাকের এই লড়াইয়ে মোকাবিলার প্রত্যয় তুলে ধরছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আবদুল মান্নান।
রাজধানীর সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত হয়েছে ঢাকা-৬ আসন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। এই আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ২ হাজার ৮৬৭ জন।
সরেজমিনে আসনটি আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিগলিতে ঝুলছে নির্বাচনী ব্যানার। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ভোট চাচ্ছেন। আশ্বাস দিচ্ছেন এবং দোয়া নিচ্ছেন। ভোটাররাও আগ্রহভরে তাঁদের ভরণ করছেন, নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন।
এই আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস, পানি, রাস্তা, মাঠ, শিশুপার্ক সংকট ও যানজট এই এলাকার প্রধান সমস্যা। ভোটাররা এমন একজন প্রার্থীকে নির্বাচন করতে চান, যিনি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জয়ী হওয়ার পর কাজ করবেন। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে তাঁদের সঙ্গে থাকবেন। সেইসঙ্গে বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায়, চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা চান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং কেমিক্যাল গোডাউনও পুরান ঢাকার জন্য মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। এই সংকট থেকেও পরিত্রাণ চান স্থানীয়রা। পুরান ঢাকার শিংটোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ শেখ স্ট্রিমকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার সবচে বড় সমস্যা যাতায়াত ব্যবস্থা। রাস্তাগুলো খুবই সরু। নানা প্রয়োজনে অনেক মানুষেরই যাতায়াত এই এলাকায়। কিন্তু যানজটের কারণে কোনো দিকে সহজে যাওয়া যায় না। পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো চওড়া করা ও নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করাটাও সময়ের দাবি।’
রূপচান লেনের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী সোহেল। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে পারে। ভূমিকম্প হলে আতঙ্কে থাকতে হয়। এই ঝুঁকি থেকে মুক্তির কথা যারা বলছেন, তাঁদের আমরা নির্বাচিত করতে চাই।’
আহাদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘ভয়াবহ কেমিক্যাল, প্লাস্টিকসহ অসংখ্য বিষাক্ত পদার্থের গোডাউন ছড়িয়ে আছে এই এলাকায়। এসব থেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগেও পুরান ঢাকায় নানা অঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রার্থীরা এসব বিষয়ে তেমন জোর দিচ্ছেন না।’
পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজার এলাকাটি সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেই বিবেচিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকায় সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়ি আছে ১৪২টি। এসব বাড়ির কয়েক হাজার ফ্ল্যাটে বাস করেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। আসন্ন নির্বাচনে এই এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। অন্যদিকে তাঁদের সমর্থন পেতে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরাও।

শাঁখারিবাজারের বাসিন্দা শোভা রানী দত্ত। তিনি টিপ, আগরবাতি, পূজার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করেন। স্ট্রিমকে এই নারী ব্যবসায়ী বলেন, ‘নির্বাচনে কে জয়ী হবেন, সেটা তো জানি না। তবে যেই আসুক, সবার আগে চাই নিরাপত্তা। এই এলাকায় ইদানিং চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে। দিনেদুপুরে নারীদের কান, গলা থেকে টান দিয়ে জুয়েলারি ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। আমরা এসব থেকে মুক্তি চাই।’
শাঁখারিবাজারের আরেক বাসিন্দা মীরন দাস। পেশায় তিনি বাদ্যযন্ত্র কারিগর। বাদ্যযন্ত্র মেরামত ও বিক্রির একটি দোকানও রয়েছে তাঁর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে দেখেছি, এবার নতুন কাউকে দেখতে চাই। যাঁরা আমাদের ধর্মকে সম্মান দেবে, সহাবস্থানে বিশ্বাস করবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা তো ধর্মীয় সংখ্যালঘু। আমাদের নিয়ে নানা রকমের রাজনীতি হয়, আগেও হয়েছে। এবার আমরা এমন কাউকে চাই, যারা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখবেন। নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করতে দেবেন। অহেতুক রাজনীতি করবেন না।’
এবারের নির্বাচনে আসনটিতে ইশরাক-মান্নান ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও পাঁচজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন, গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইউনুস আলী আকন্দ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন ও জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু)।
বাকি পাঁচ জনের মধ্যে আবার গণঅধিকার পরিষদের ফখরুল ইসলাম এরইমধ্যে বিএনপি মনোনীত ইশরাককে সমর্থন দিয়ে তাঁর প্রচারণায় মাঠে কাজ করছেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিগত আন্দোলন-সংগ্রামগুলোতে আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছি। এবারের নির্বাচনেও বিএনপির সঙ্গে আমাদের আসন সমঝোতা রয়েছে। তাই আমার লিডার নুরুল হক নূরের অনুমতিক্রমে ইশরাক ভাইকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ শুরু করেছি। ১২ তারিখ পর্যন্ত আমরা মাঠে কাজ করে যাব। আমরা আশাবাদী, ইশরাক ভাই বিপুল ভোটে জিতে আসবেন।’
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, প্রার্থী সাত জন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা হবে ধানের শীষ ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। যদিও অন্যদের হিসাবের বাইরে রাখছেন না কেউই।
ভোটারদের একাংশ বলছেন, সাদেক হোসেন খোকা এই এলাকার বিখ্যাত মানুষ। আওয়ামী লীগের আমলেও তিনি এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। এবার তাঁর ছেলে ইশরাকও জয়ের দাবিদার। অন্যদিকে আরেক অংশ মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী নিজেরে যোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজের কারণে জয়ী হবেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
বাংলাবাজারের বাসিন্দা শামীম হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘সাধারণ প্রার্থী হিসেবে ইশরাক হোসেন এগিয়ে আছেন। এই এলাকায় তাঁর ব্যাপক পরিচিতি আছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারাও পুরোদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কাউকেই ফেলে দেওয়া যাবে না।’
ভোটের প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে এই আসনের ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন। ওনারা এবার ধানের শীষে ভোট দিবেন এবং ওনাদের সমস্যাগুলো যাতে আমরা আগামী দিনে সমাধান করি, সেই প্রতিশ্রুতিও চাইছেন। আমরাও সেটা দিচ্ছি।’
নির্বাচনী এলাকার সমস্যা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এখানে প্রধান সমস্যা গ্যাসের সংকট। এটার সমাধান আমরা অবশ্যই করব। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা কমানোর প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি। এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেম সচল করে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করব। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাব।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছোট করে দেখি না। যারাই আছেন, তাদের সবাইকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। তবে তাঁদের সবার সঙ্গে আমার একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাঁদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা করি।’
অন্যদিকে সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আসনের সব শ্রেণিপেশার মানুষ আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। তাঁরা পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে। তাদের হৃদয়ের ভেতরে আজ যে আগ্নেয়গিরির মতন উৎপাত শুরু হয়েছে, ইনশাল্লাহ, ১২ তারিখে এটা দাবানলের মতো জ্বলে উঠবে।’
প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে আমরা আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করব। ভালো কাজ দিয়ে মোকাবিলা করব।’
বিএনপির প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই প্রতিপক্ষ সারা দেশ এবং ঢাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। তারা নগর ভবনে তালা দিয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টার ভবন ঘেরাও করে রেখেছিল। জনগণ এরকম নেতৃত্ব চায় না। নতুন বাংলাদেশে মানুষ স্মার্ট, ভদ্র, সভ্য ও সুশিক্ষিত নেতৃত্ব চায়।’
জনগণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক চায় না; নিরাপদে বাঁচতে চায় বলে মনে করেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘জনগণ যানজটমুক্ত শহর চায়। গ্যাস সংকটের সমাধান ও স্যুয়ারেজ লাইনের পরিবর্তন চায়। জনগণকে বলছি, আমরা এগুলো দূর করব। পাশাপাশি আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করে চিকিৎসা সমস্যার সমাধান করবো এবং উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা বিপ্লব গড়ে তুলবো।’

অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র, বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকা। পুরান ঢাকা এলাকায় তিনি ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। উত্তরাধিকার রক্ষার চ্যালেঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর ছেলে, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। অন্যদিকে ইশরাকের এই লড়াইয়ে মোকাবিলার প্রত্যয় তুলে ধরছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আবদুল মান্নান।
রাজধানীর সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত হয়েছে ঢাকা-৬ আসন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। এই আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ২ হাজার ৮৬৭ জন।
সরেজমিনে আসনটি আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিগলিতে ঝুলছে নির্বাচনী ব্যানার। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ভোট চাচ্ছেন। আশ্বাস দিচ্ছেন এবং দোয়া নিচ্ছেন। ভোটাররাও আগ্রহভরে তাঁদের ভরণ করছেন, নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন।
এই আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস, পানি, রাস্তা, মাঠ, শিশুপার্ক সংকট ও যানজট এই এলাকার প্রধান সমস্যা। ভোটাররা এমন একজন প্রার্থীকে নির্বাচন করতে চান, যিনি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জয়ী হওয়ার পর কাজ করবেন। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে তাঁদের সঙ্গে থাকবেন। সেইসঙ্গে বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায়, চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা চান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং কেমিক্যাল গোডাউনও পুরান ঢাকার জন্য মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। এই সংকট থেকেও পরিত্রাণ চান স্থানীয়রা। পুরান ঢাকার শিংটোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ শেখ স্ট্রিমকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার সবচে বড় সমস্যা যাতায়াত ব্যবস্থা। রাস্তাগুলো খুবই সরু। নানা প্রয়োজনে অনেক মানুষেরই যাতায়াত এই এলাকায়। কিন্তু যানজটের কারণে কোনো দিকে সহজে যাওয়া যায় না। পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো চওড়া করা ও নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করাটাও সময়ের দাবি।’
রূপচান লেনের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী সোহেল। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে পারে। ভূমিকম্প হলে আতঙ্কে থাকতে হয়। এই ঝুঁকি থেকে মুক্তির কথা যারা বলছেন, তাঁদের আমরা নির্বাচিত করতে চাই।’
আহাদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘ভয়াবহ কেমিক্যাল, প্লাস্টিকসহ অসংখ্য বিষাক্ত পদার্থের গোডাউন ছড়িয়ে আছে এই এলাকায়। এসব থেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগেও পুরান ঢাকায় নানা অঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রার্থীরা এসব বিষয়ে তেমন জোর দিচ্ছেন না।’
পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজার এলাকাটি সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেই বিবেচিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকায় সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়ি আছে ১৪২টি। এসব বাড়ির কয়েক হাজার ফ্ল্যাটে বাস করেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। আসন্ন নির্বাচনে এই এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। অন্যদিকে তাঁদের সমর্থন পেতে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরাও।

শাঁখারিবাজারের বাসিন্দা শোভা রানী দত্ত। তিনি টিপ, আগরবাতি, পূজার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করেন। স্ট্রিমকে এই নারী ব্যবসায়ী বলেন, ‘নির্বাচনে কে জয়ী হবেন, সেটা তো জানি না। তবে যেই আসুক, সবার আগে চাই নিরাপত্তা। এই এলাকায় ইদানিং চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে। দিনেদুপুরে নারীদের কান, গলা থেকে টান দিয়ে জুয়েলারি ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। আমরা এসব থেকে মুক্তি চাই।’
শাঁখারিবাজারের আরেক বাসিন্দা মীরন দাস। পেশায় তিনি বাদ্যযন্ত্র কারিগর। বাদ্যযন্ত্র মেরামত ও বিক্রির একটি দোকানও রয়েছে তাঁর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে দেখেছি, এবার নতুন কাউকে দেখতে চাই। যাঁরা আমাদের ধর্মকে সম্মান দেবে, সহাবস্থানে বিশ্বাস করবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা তো ধর্মীয় সংখ্যালঘু। আমাদের নিয়ে নানা রকমের রাজনীতি হয়, আগেও হয়েছে। এবার আমরা এমন কাউকে চাই, যারা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখবেন। নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করতে দেবেন। অহেতুক রাজনীতি করবেন না।’
এবারের নির্বাচনে আসনটিতে ইশরাক-মান্নান ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও পাঁচজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন, গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইউনুস আলী আকন্দ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন ও জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু)।
বাকি পাঁচ জনের মধ্যে আবার গণঅধিকার পরিষদের ফখরুল ইসলাম এরইমধ্যে বিএনপি মনোনীত ইশরাককে সমর্থন দিয়ে তাঁর প্রচারণায় মাঠে কাজ করছেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিগত আন্দোলন-সংগ্রামগুলোতে আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছি। এবারের নির্বাচনেও বিএনপির সঙ্গে আমাদের আসন সমঝোতা রয়েছে। তাই আমার লিডার নুরুল হক নূরের অনুমতিক্রমে ইশরাক ভাইকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ শুরু করেছি। ১২ তারিখ পর্যন্ত আমরা মাঠে কাজ করে যাব। আমরা আশাবাদী, ইশরাক ভাই বিপুল ভোটে জিতে আসবেন।’
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, প্রার্থী সাত জন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা হবে ধানের শীষ ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। যদিও অন্যদের হিসাবের বাইরে রাখছেন না কেউই।
ভোটারদের একাংশ বলছেন, সাদেক হোসেন খোকা এই এলাকার বিখ্যাত মানুষ। আওয়ামী লীগের আমলেও তিনি এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। এবার তাঁর ছেলে ইশরাকও জয়ের দাবিদার। অন্যদিকে আরেক অংশ মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী নিজেরে যোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজের কারণে জয়ী হবেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
বাংলাবাজারের বাসিন্দা শামীম হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘সাধারণ প্রার্থী হিসেবে ইশরাক হোসেন এগিয়ে আছেন। এই এলাকায় তাঁর ব্যাপক পরিচিতি আছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারাও পুরোদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কাউকেই ফেলে দেওয়া যাবে না।’
ভোটের প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে এই আসনের ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন। ওনারা এবার ধানের শীষে ভোট দিবেন এবং ওনাদের সমস্যাগুলো যাতে আমরা আগামী দিনে সমাধান করি, সেই প্রতিশ্রুতিও চাইছেন। আমরাও সেটা দিচ্ছি।’
নির্বাচনী এলাকার সমস্যা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এখানে প্রধান সমস্যা গ্যাসের সংকট। এটার সমাধান আমরা অবশ্যই করব। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা কমানোর প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি। এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেম সচল করে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করব। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাব।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছোট করে দেখি না। যারাই আছেন, তাদের সবাইকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। তবে তাঁদের সবার সঙ্গে আমার একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাঁদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা করি।’
অন্যদিকে সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আসনের সব শ্রেণিপেশার মানুষ আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। তাঁরা পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে। তাদের হৃদয়ের ভেতরে আজ যে আগ্নেয়গিরির মতন উৎপাত শুরু হয়েছে, ইনশাল্লাহ, ১২ তারিখে এটা দাবানলের মতো জ্বলে উঠবে।’
প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে আমরা আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করব। ভালো কাজ দিয়ে মোকাবিলা করব।’
বিএনপির প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই প্রতিপক্ষ সারা দেশ এবং ঢাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। তারা নগর ভবনে তালা দিয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টার ভবন ঘেরাও করে রেখেছিল। জনগণ এরকম নেতৃত্ব চায় না। নতুন বাংলাদেশে মানুষ স্মার্ট, ভদ্র, সভ্য ও সুশিক্ষিত নেতৃত্ব চায়।’
জনগণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক চায় না; নিরাপদে বাঁচতে চায় বলে মনে করেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘জনগণ যানজটমুক্ত শহর চায়। গ্যাস সংকটের সমাধান ও স্যুয়ারেজ লাইনের পরিবর্তন চায়। জনগণকে বলছি, আমরা এগুলো দূর করব। পাশাপাশি আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করে চিকিৎসা সমস্যার সমাধান করবো এবং উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা বিপ্লব গড়ে তুলবো।’

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যে পরিবর্তন এনেছে তা শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, মানুষের ভাগ্যেও পরিবর্তন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
৩২ মিনিট আগে
ওই তিন প্রার্থী হলেন– কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
৩৫ মিনিট আগে
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা বছরের পর বছর গুপ্ত হয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিল, তারাই আজ মজলুমদের গুপ্ত আর সুপ্ত বলছেন।
২ ঘণ্টা আগে
‘আপনাদের অনেকেই এসে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদেরকে বলবেন তোমরা গুপ্ত। যারাই বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে, তাদের একটাই নাম–গুপ্ত। কারণ, আমরা গত ১৬ বছরে তাদের দেখি নাই, যারা ৫ তারিখ পালিয়েছে, তারা তাদের সঙ্গে মিশে ছিল।’
২ ঘণ্টা আগে