leadT1ad

১১ দলীয় জোট

এনসিপির চাহিদা ৩০ আসন, ১০ আসনের আলোচনা ‘অবান্তর’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। স্ট্রিম গ্রাফিক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জোটের নেতারা বলছে, ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দুই-তিন দিন লাগবে। এই চূড়ান্ত মনোনয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চাহিদা ৩০টি আসন। তবে চাহিদা অনুযায়ী আসন না পেলেও কাছাকাছি আসন পেতে পারে বলে মনে করছেন জোটের অন্য দলের নেতারা।

সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপিকে ১০ আসন দেওয়া নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের নেতারা এনসিপিকে ১০ আসন দেওয়ার বিষয়টিকে ‘অবান্তর’ বলছেন। এনসিপি নেতারা বলছেন, ‘অসত্য’ তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।

এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহবুব আলম স্ট্রিমকে বলেন, ‘কিছু কিছু গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে এনসিপিকে ১০টি আসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যেটা অসত্য। আমাদের আলাপ-আলোচনা এখনও চলমান। জোটে আমাদের প্রত্যাশিত ৩০ বা তার বেশি আসন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকেও আসন নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে আশা করছি সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’

জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ‘অসন্তোষ’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জোটের ১১ দলের মধ্যে কোন অসন্তোষ নেই। চূড়ান্ত ঘোষণা আসলে শীগ্রই সেটা দেখতে পাবেন।’

দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল-আমিনও ১০ আসনের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘কেউ লেখে ১০ আসন, কেউ লেখে ১০০ আসন। যার যা ইচ্ছে তা-ই লিখে দিচ্ছে।’

কতটি আসন চাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ৩০টি আসন চেয়েছি। আলাপ-আলোচনা এখনও চলমান আছে।’

এদিকে শুধু এনসিপি না ১১ দলীয় জোটের অন্য নেতারাও একই কথা বলছেন। জোটের আরেকটি দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান স্ট্রিমকে বলেন, ‘এনসিপির আসন চাহিদা ৩০টি। তবে মার্কেটে যে ১০ আসনের আলোচনা চলছে তা অবান্তর। দুই-তিন দিনের মধ্যে যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে তখন সেটা দেখা যাবে।’

জোট থেকে এনসিপিকে কতটি আসন দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনসিপিকে হয়তো ৩০টি আসনও দেওয়া হবে না আবার ১০টিও না। এর মাঝামাঝি হতে পারে। সেই আসন সংখ্যা ২০টির বেশি হতেই পারে।’

এই বিষয়ে জানার জন্য জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

যদিও এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপিকে ১০টি আসনে ছাড় দেওয়ার খবরকে ‘কাল্পনিক’ বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

শুরুতে আটটি দল নিয়ে এই নির্বাচনী জোট গঠিত হলেও পরে তা ১১ দলে উন্নীত হয়। শুরুর আটটি দল হলো—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

গত ২৮ ডিসেম্বর এই আট দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। সর্বশেষ এই জোটে যুক্ত হয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত