leadT1ad

ফেনীতে তরুণ ভোটারই এমপি নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জার’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফেনী

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৪৫
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী জেলায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যাই ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের ফলাফল নির্ধারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় ভোটার ছিল ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় এক লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হওয়া ফেনীর নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। এই তরুণদের একটি বড় অংশ ২০০৮ সালের পর আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।

ফেনীর তিনটি আসনেই হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফেনী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এস এম কামাল উদ্দিন।

ফেনী-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) দলীয় ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজেও শক্তিশালী। তবে তাঁর বিপরীতে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রতীকে জনতার অধিকার পার্টির (পিআরপি) চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম ভূঞা এবং ইসলামী আন্দোলনের একরামুল হক ভূঞাসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ফেনী-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ফেনীর তরুণরা। ফেনী-১ আসনের শরীফ উল্ল্যাহ বলেন, ‘আমরা শুধু জয়-পরাজয়ের গল্প শুনেছি, নিজের চোখে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখিনি। এবার সুযোগ এসেছে, আমরা ভোটের গুরুত্ব বুঝি। এবার আমরাই হব নির্বাচনের গেম চেঞ্জার।’

ফেনী সদরের ২৬ বছর বয়সী আমীর হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু পোস্টার-ব্যানার দেখে নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দিতে চাই।’ একই আসনের কামাল হোসেনের মতে, এ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীকে আসন ছেড়ে দেওয়াতে তরুণদের মধ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তরুণরাই যাকে ভোট দিবে, সেই বিজয়ী হবে।

দাগনভূঞার ভোটার নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমাদের প্রজন্ম কখনো ঠিকঠাক ভোটের পরিবেশ দেখেনি। ৫ আগস্টের পর যে দল তরুণদের মনোভাব বুঝে রাজনীতি করেছে, ভোট তাদের ব্যালটেই যাবে।’

নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে প্রহর গুনছেন ফেনীর ৬ লাখ তরুণ ভোটার। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে তাঁদের রায়ই নির্ধারণ করবে জেলার আগামীর নেতৃত্ব।

Ad 300x250

সম্পর্কিত