জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

হঠাৎ বৃষ্টি আলু চাষির ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর ও গাইবান্ধা

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ২১: ২৪
গাইবান্ধায় আলু খেত ভেসে গেছে বৃষ্টির পানিতে। স্ট্রিম ছবি

আলু উৎপাদনের বড় অংকের টাকা খরচ হলেও মিলছিল না দাম। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে খেত। এতে আলু পঁচার শঙ্কায় দিশেহারা উত্তরবঙ্গের রংপুর ও গাইবান্ধার আলু চাষিরা।

সরেজমিনে শনিবার (১৪ মার্চ) রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ১৫টি এবং গাইবান্ধার একাধিক মাঠে দেখা যায়, একরের পর একর আলুর জমি পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও কৃষকরা বালতি ও ডোল দিয়ে জমি থেকে পানি সেচে বের করার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ কাদামাটির মধ্যেই আলু তুলে সড়কের ধারে শুকাতে দিচ্ছেন।

চাষিরা বলছেন, এবার আলুর কেজিতে তাদের খরচ হয়েছে এলাকাভেদে ১৬ টাকার মতো। তবে বাজারে আলুর দাম পাচ্ছেন ৯ থেকে ১০ টাকা। এরমধ্যে ভারী বৃষ্টিতে জমি তলিয়ে গেছে। এই অবস্থা কয়েক দিন থাকলে সব আলু পঁচে যাবে। সেক্ষেত্রে চাষিদের আমছালা দুইই যাবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর রংপুরে বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলিয়ে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবারও ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ১৬ মার্চ পর্যন্ত রংপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কখনও রোদ, কখনও মেঘ, আবার মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতে পারে।

আলু খেতে জমে থাকা পানি সরানোর চেষ্টা কৃষকের। স্ট্রিম ছবি
আলু খেতে জমে থাকা পানি সরানোর চেষ্টা কৃষকের। স্ট্রিম ছবি

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ৫২ শতাংশ মতো আলু তোলা হয়েছে। আর গাইবান্ধায় আলু চাষ হয়েছে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে।

রংপুরের ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক নুর আলম জানান, গত বছর আলুতে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান পোষাতে এবার এক একর জমিতে চাষ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার আলু তোলার কথা ছিল। তবে রাতের বৃষ্টিতে পুরো খেত পানিতে তলিয়ে যায়।

দোলাপাড়া মাঠে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘মনে হয় এবার ফকির হয়ে যাব। আজ আলু তোলার জন্য মানুষ নিয়েছিলাম। সেই মানুষ দিয়েই সকাল থেকে পানি সেচছি, তবু পানি শেষ হচ্ছে না। আল্লায় জানে এই আলু আর পাব কিনা। কেজিতে খরচ পড়েছে ১৬ টাকা, কিন্তু ১০ টাকায়ও কেউ নিতে চায় না।’

পাশের পোদ্দারপাড়া মাঠে ইকরচালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিলন রহমান শ্রমিক নিয়ে ডুবে যাওয়া আলুর খেত থেকে পানি বের করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ একর জমির আলু ডুবে গেছে। শনিবার থেকে আলু তোলার কথা ছিল। পাঁচজন শ্রমিক নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই একর জমির পানিই বের করতে পারিনি। এমনিতেই আলুর দাম নাই, তার ওপর এই অবস্থা হলে আমাদের মতো চাষিদের মরণ ছাড়া উপায় থাকবে না।’

রংপুরে ভারী বৃষ্টিতে মাটি সরে বের হয়ে গেছে আলু। স্ট্রিম ছবি
রংপুরে ভারী বৃষ্টিতে মাটি সরে বের হয়ে গেছে আলু। স্ট্রিম ছবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাখাহার এলাকার কৃষক ফুল মিয়া বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আলু তোলা বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে বাড়তি সময়ের পাশাপাশি আলু পঁচার ভয়ও তৈরি হয়েছে।

রংপুরের অন্তত ৩০ কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এক কেজি আলু উৎপাদনে ১৪ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ৯ থেকে ১০ টাকা দরেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে খেত ডুবে যাওয়ায় অনেক আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আছেন তারা।

মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে রংপুরে সবচেয়ে বেশি ডুবেছে সদর, তারাগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুর এলাকার মাঠ। এসব এলাকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করছেন।

শনিবার পীরগাছায় ক্ষতিগ্রস্ত আলু খেত পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, কৃষকের কষ্টের ফসল তোলার শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতি দেখা কষ্টের। বিষয়টি নিয়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারনের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, আলুর ভরা মৌসুমে বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে চাষিদের ক্ষতি কমাতে মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

সম্পর্কিত