জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমাবেশে গোলাম পরওয়ার

ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ২৯
সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। সমাবেশে নেতারা বলেছেন, রক্ত দিয়ে গড়া ‘জুলাই সনদ’ অস্বীকার করে এবং কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে কেউ টিকতে পারবে না।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি হয়েছে। যারা এটি করেছে, আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের পতন ঘটানো হবে।’

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ম্যানিপুলেশন ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তা ধূলিসাৎ করা হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার সময় হঠাৎ সম্প্রচার বন্ধ করে ১১ দলীয় ঐক্যের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষের ভোট এবং “না” ভোট সমান দেখানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে একটি সিন্ডিকেট আগে থেকেই ফলাফল নির্ধারণ করে রেখেছিল। যারা ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—জুলাই সনদকে অস্বীকার করলে আপনাদেরও ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।’

সমাবেশে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান অভিযোগ করেন, ‘ড. ইউনুস যেদিন লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে গিয়েছিলেন, সেদিনই নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হয়েছিল। তারেক রহমান বলেছিলেন “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”, আর সেই প্ল্যান ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা।’

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মঞ্জু টিআইবির প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে কারচুপি হয়েছে। জাল ভোট, ফলাফল পরিবর্তন ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকে কলুষিত করা হয়েছে। আমরা রাজপথ ছাড়ব না, লড়াই করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব।’

সমাবেশে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ভাই ওসমান হাদীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে। বোনেরা গুলিবদ্ধ হয়েছে, তাদের বোরকা ধরে টানাটানি করা হয়েছে। আমরা ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমানের কাছ থেকে কড়ায়-গণ্ডায় এর হিসাব বুঝে নেব।’

এদিকে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগ এসে শেষ হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত