ব্যালট পেপারে মানুষের নামের পাশে নয়, মানুষ সিল মেরেছে কুকুর, বিড়াল, গন্ডার, শিম্পাঞ্জির নামের পাশে। কোথাও এসব হয়েছে মজা করে, কোথাও আবার হয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে। চলুন, তেমনই কিছু অদ্ভুত প্রার্থীর গল্পে চোখ রাখা যাক যারা নির্বাচনের মাঠে নেমেছিল, আর কখনো কখনো মানুষের সঙ্গেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিল। যদিও বেশিরভাগই ছিল প্রতীকী।
স্ট্রিম ডেস্ক

আমরা সবাই জানি, নির্বাচনে সাধারণত মানুষই প্রার্থী হন। তাঁরা মঞ্চে উঠে ভাষণ দেন, ভোট চাইতে মানুষের দরজায় দরজায় যান। ভোটের লড়াই মানেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রতিযোগিতা। এটাই আমাদের চেনা ছবি। কিন্তু ইতিহাসে এমন কিছু সময় এসেছে, যখন এই স্বাভাবিক নিয়ম একেবারে বদলে গেছে।
ব্যালট পেপারে মানুষের নামের পাশে নয়, মানুষ সিল মেরেছে কুকুর, বিড়াল, গন্ডার, শিম্পাঞ্জির নামের পাশে। কোথাও এসব হয়েছে মজা করে, কোথাও আবার হয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে। চলুন, তেমনই কিছু অদ্ভুত প্রার্থীর গল্পে চোখ রাখা যাক যারা নির্বাচনের মাঠে নেমেছিল, আর কখনো কখনো মানুষের সঙ্গেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিল। যদিও বেশিরভাগই ছিল প্রতীকী।
ব্রাজিলের রাজনীতির ইতিহাসে ‘কাকারেকো’ নামটি আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়। মজার ব্যাপার হলো, কাকারেকো কোনো মানুষ ছিল না। ঘটনাটি ১৯৫৯ সালের। তখন সাও পাওলো শহরে সিটি কাউন্সিল নির্বাচন চলছে। কিন্তু শহরের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। চারদিকে দুর্নীতি, খানাখন্দে ভরা রাস্তা, আর ভেঙে পড়া পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। মানুষ রাজনীতিবিদদের ওপর এতটাই বিরক্ত ছিল যে, তাঁরা আর কোনো প্রার্থীকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।

এই হতাশার সময়েই সাংবাদিক ইতাবোরাই মার্তিন্স এক অভিনব প্রতিবাদের কথা বলেন। তিনি প্রস্তাব দেন, সাও পাওলো চিড়িয়াখানার পাঁচ বছর বয়সী একটি গণ্ডারকে সিটি কাউন্সিলের প্রার্থী করা হোক। গণ্ডারটির নাম ছিল কাকারেকো। তাঁর যুক্তি ছিল একজন দুর্নীতিবাজ মানুষের চেয়ে একটি গন্ডার অনেক ভালো।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, শহরবাসী এই প্রস্তাবে দারুণ সাড়া দেয়। ভোটের দিন গণনা শুরু হলে দেখা যায়, কাকারেকো পেয়েছে প্রায় এক লাখ ভোট। এই সংখ্যা ছিল ওই নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের মোট ভোটের চেয়েও বেশি। যদিও নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত একটি পশুকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি। তবু কাকারেকো হয়ে ওঠে ব্রাজিলে প্রতিবাদী ভোটের প্রতীক। আজও সেখানে প্রতিবাদের ভোটকে মানুষ ‘কাকারেকো ভোট’ বলে ডাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার ছোট্ট জনপদ টালকিটনা। ১৯৯৭ সালে এই শহরটি হঠাৎ করেই আলোচনায় আসে এক অদ্ভুত কারণে। শহরের ‘মেয়র’ হিসেবে পরিচিতি পায় স্টাবস নামের একটি বিড়াল। তবে স্টাবস কোনো সরকারি ক্ষমতাসম্পন্ন মেয়র ছিল না। সে ছিল স্থানীয় মানুষের ভালোবাসার ‘প্রতীকী মেয়র’।
স্টাবসের ‘অফিস’ বলা হতো শহরের একটি মুদি দোকানকে। পর্যটকেরা সেখানে গেলেই মজা করে জিজ্ঞেস করত, ‘মেয়র কোথায়?’ ধীরে ধীরে স্টাবস নিজেই টালকিটনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে। মানুষ শুধু বিড়াল মেয়রকে দেখার জন্যই শহরে ঘুরতে আসত।

স্টাবসের আরেকটি মজার অভ্যাস ছিল। প্রায় প্রতিদিন বিকেলে সে কাছের একটি খাবারের দোকানে যেত। সেখানে তাকে দেওয়া হতো ক্যাটনিপ মেশানো পানি। শহরবাসী মজা করে একে বলত স্টাবসের ‘মেয়রসুলভ দায়িত্ব পালন’।
১৯৯৭ সাল থেকে টানা প্রায় ২০ বছর স্টাবস টালকিটনার প্রতীকী মেয়র হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৭ সালের ২১ জুলাই তার মৃত্যু হয়। যদিও সে কখনো শহর চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবু এই বিড়াল মেয়র টালকিটনাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিল। অনেকের মতে, কোনো মানুষ মেয়রও হয়ত শহরটিকে এতটা জনপ্রিয় করতে পারতেন না।
ব্রাজিলে অদ্ভুত নির্বাচনী কাণ্ডের গল্প কম নয়। সাও পাওলোতে গন্ডার কাকারেকোর ঘটনার প্রায় তিন দশক পর ১৯৮৮ সালে রিও ডি জেনিরোর মেয়র নির্বাচনের সময় আবারও এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের ঘটনা সামনে আসে। এবার প্রার্থী করা হয় রিও চিড়িয়াখানার শিম্পাঞ্জি ম্যাকাকো তিয়াওকে।
তখন ব্রাজিল সামরিক শাসনের পর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরছে, কিন্তু মানুষের বড় অংশ রাজনীতিবিদদের ওপর ভরসা হারাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে ‘ক্যাসেটা পপুলার’ নামের জনপ্রিয় স্যাটায়ার ম্যাগাজিন এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন শুরু করে। তাদের স্লোগান ছিল, ‘ভোট মাঙ্কি, গেট মাঙ্কি’। মূলত রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের চেপে রাখা ক্ষোভ ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে তারা পুরো রাজনৈতিক সিস্টেমকে ব্যঙ্গ করতে চেয়েছিল।

তিয়াও ছিল চিড়িয়াখানার খুব বদমেজাজি এক শিম্পাঞ্জি। সে প্রায়ই দর্শনার্থীদের দিকে কাদা বা নোংরা ছুড়ে মারত। ম্যাগাজিনটি প্রচার করে যে, রাজনীতিবিদরাও তো জনগণের দিকে কাদা ছুড়ে মারে। তাই তিয়াও-ই হবে তাদের আসল প্রতিনিধি!
তখন কাগজের ব্যালটে অনেকে প্রতিবাদ জানাতে তিয়াও-এর নাম লেখে। তিয়াও প্রায় ৪ লাখ ভোট পায় এবং ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। যদিও তিয়াও নিবন্ধিত প্রার্থী না হওয়ায় এসব ভোট অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। এই ঘটনা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া শিম্পাঞ্জি’ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
১৯৮১ সাল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট্ট জনপদ সুনোলে ঘটে এক অদ্ভুত কিন্তু দারুণ ব্যঙ্গাত্মক ঘটনা। সেখানে মেয়র নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ বা আস্থা ছিল না। রাজনীতির প্রতি এই অনীহার মাঝেই প্রতীকীভাবে মেয়র পদে প্রার্থী করা হয় বসকো রামোস নামের একটি কুকুরকে।
বসকো ছিল শান্ত স্বভাবের এক কুকুর। তার জাত ছিল ল্যাব্রাডর ও রটউইলারের মিশ্রণ। শুরুতে বিষয়টি ছিল নিছক মজা ও প্রতিবাদ। কিন্তু মানুষ এই মজাকেই সিরিয়াসভাবে নেয়। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, বসকো দুইজন মানুষ প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে। এভাবেই সে সুনোলের প্রতীকী মেয়র হিসেবে পরিচিতি পায়।

বসকো কোনো আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন মেয়র ছিল না। সে শহর চালানোর সিদ্ধান্ত নিত না, আইন বানাত না। তবু ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বসকোই ছিল সুনোলের মেয়র। এই কুকুর মেয়রের গল্প খুব দ্রুত শহরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ঘটনাটি আলোচনায় আসে। অনেকেই এটিকে রাজনীতির ওপর এক তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ হিসেবে দেখেছেন।
১৯৬৮ সাল। শিকাগোতে চলছে ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশন। ঠিক সেই সময়ে ‘ইয়ুথ ইন্টারন্যাশনাল পার্টি’ বা ইপ্পিজ নামের একদল আন্দোলনকারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। প্রার্থীটি ছিল ১৪৫ পাউন্ড ওজনের একটি শূকর, যার নাম দেওয়া হয় ‘পিগাসাস দ্য ইমমর্টাল’।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল খুব স্পষ্ট। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটনে যারা বসে আছে, তারা সবাই শূকরের মতো আচরণ করছে। তারা যুদ্ধ বাধিয়ে মানুষ মারছে। তাই আমরা আসল শূকরকেই হোয়াইট হাউসে পাঠাতে চাই, যে অন্তত মানুষ মারবে না।
প্রার্থিতা ঘোষণার আয়োজনের সময়ই ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। শিকাগো পুলিশ পিগাসাসকে কনফিসকেট করে এবং কয়েকজন ইপ্পিজ সমর্থককে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পিগাসাস আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছে।

আমরা সবাই জানি, নির্বাচনে সাধারণত মানুষই প্রার্থী হন। তাঁরা মঞ্চে উঠে ভাষণ দেন, ভোট চাইতে মানুষের দরজায় দরজায় যান। ভোটের লড়াই মানেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রতিযোগিতা। এটাই আমাদের চেনা ছবি। কিন্তু ইতিহাসে এমন কিছু সময় এসেছে, যখন এই স্বাভাবিক নিয়ম একেবারে বদলে গেছে।
ব্যালট পেপারে মানুষের নামের পাশে নয়, মানুষ সিল মেরেছে কুকুর, বিড়াল, গন্ডার, শিম্পাঞ্জির নামের পাশে। কোথাও এসব হয়েছে মজা করে, কোথাও আবার হয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে। চলুন, তেমনই কিছু অদ্ভুত প্রার্থীর গল্পে চোখ রাখা যাক যারা নির্বাচনের মাঠে নেমেছিল, আর কখনো কখনো মানুষের সঙ্গেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিল। যদিও বেশিরভাগই ছিল প্রতীকী।
ব্রাজিলের রাজনীতির ইতিহাসে ‘কাকারেকো’ নামটি আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়। মজার ব্যাপার হলো, কাকারেকো কোনো মানুষ ছিল না। ঘটনাটি ১৯৫৯ সালের। তখন সাও পাওলো শহরে সিটি কাউন্সিল নির্বাচন চলছে। কিন্তু শহরের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। চারদিকে দুর্নীতি, খানাখন্দে ভরা রাস্তা, আর ভেঙে পড়া পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। মানুষ রাজনীতিবিদদের ওপর এতটাই বিরক্ত ছিল যে, তাঁরা আর কোনো প্রার্থীকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।

এই হতাশার সময়েই সাংবাদিক ইতাবোরাই মার্তিন্স এক অভিনব প্রতিবাদের কথা বলেন। তিনি প্রস্তাব দেন, সাও পাওলো চিড়িয়াখানার পাঁচ বছর বয়সী একটি গণ্ডারকে সিটি কাউন্সিলের প্রার্থী করা হোক। গণ্ডারটির নাম ছিল কাকারেকো। তাঁর যুক্তি ছিল একজন দুর্নীতিবাজ মানুষের চেয়ে একটি গন্ডার অনেক ভালো।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, শহরবাসী এই প্রস্তাবে দারুণ সাড়া দেয়। ভোটের দিন গণনা শুরু হলে দেখা যায়, কাকারেকো পেয়েছে প্রায় এক লাখ ভোট। এই সংখ্যা ছিল ওই নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের মোট ভোটের চেয়েও বেশি। যদিও নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত একটি পশুকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি। তবু কাকারেকো হয়ে ওঠে ব্রাজিলে প্রতিবাদী ভোটের প্রতীক। আজও সেখানে প্রতিবাদের ভোটকে মানুষ ‘কাকারেকো ভোট’ বলে ডাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার ছোট্ট জনপদ টালকিটনা। ১৯৯৭ সালে এই শহরটি হঠাৎ করেই আলোচনায় আসে এক অদ্ভুত কারণে। শহরের ‘মেয়র’ হিসেবে পরিচিতি পায় স্টাবস নামের একটি বিড়াল। তবে স্টাবস কোনো সরকারি ক্ষমতাসম্পন্ন মেয়র ছিল না। সে ছিল স্থানীয় মানুষের ভালোবাসার ‘প্রতীকী মেয়র’।
স্টাবসের ‘অফিস’ বলা হতো শহরের একটি মুদি দোকানকে। পর্যটকেরা সেখানে গেলেই মজা করে জিজ্ঞেস করত, ‘মেয়র কোথায়?’ ধীরে ধীরে স্টাবস নিজেই টালকিটনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে। মানুষ শুধু বিড়াল মেয়রকে দেখার জন্যই শহরে ঘুরতে আসত।

স্টাবসের আরেকটি মজার অভ্যাস ছিল। প্রায় প্রতিদিন বিকেলে সে কাছের একটি খাবারের দোকানে যেত। সেখানে তাকে দেওয়া হতো ক্যাটনিপ মেশানো পানি। শহরবাসী মজা করে একে বলত স্টাবসের ‘মেয়রসুলভ দায়িত্ব পালন’।
১৯৯৭ সাল থেকে টানা প্রায় ২০ বছর স্টাবস টালকিটনার প্রতীকী মেয়র হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৭ সালের ২১ জুলাই তার মৃত্যু হয়। যদিও সে কখনো শহর চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবু এই বিড়াল মেয়র টালকিটনাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিল। অনেকের মতে, কোনো মানুষ মেয়রও হয়ত শহরটিকে এতটা জনপ্রিয় করতে পারতেন না।
ব্রাজিলে অদ্ভুত নির্বাচনী কাণ্ডের গল্প কম নয়। সাও পাওলোতে গন্ডার কাকারেকোর ঘটনার প্রায় তিন দশক পর ১৯৮৮ সালে রিও ডি জেনিরোর মেয়র নির্বাচনের সময় আবারও এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের ঘটনা সামনে আসে। এবার প্রার্থী করা হয় রিও চিড়িয়াখানার শিম্পাঞ্জি ম্যাকাকো তিয়াওকে।
তখন ব্রাজিল সামরিক শাসনের পর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরছে, কিন্তু মানুষের বড় অংশ রাজনীতিবিদদের ওপর ভরসা হারাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে ‘ক্যাসেটা পপুলার’ নামের জনপ্রিয় স্যাটায়ার ম্যাগাজিন এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন শুরু করে। তাদের স্লোগান ছিল, ‘ভোট মাঙ্কি, গেট মাঙ্কি’। মূলত রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের চেপে রাখা ক্ষোভ ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে তারা পুরো রাজনৈতিক সিস্টেমকে ব্যঙ্গ করতে চেয়েছিল।

তিয়াও ছিল চিড়িয়াখানার খুব বদমেজাজি এক শিম্পাঞ্জি। সে প্রায়ই দর্শনার্থীদের দিকে কাদা বা নোংরা ছুড়ে মারত। ম্যাগাজিনটি প্রচার করে যে, রাজনীতিবিদরাও তো জনগণের দিকে কাদা ছুড়ে মারে। তাই তিয়াও-ই হবে তাদের আসল প্রতিনিধি!
তখন কাগজের ব্যালটে অনেকে প্রতিবাদ জানাতে তিয়াও-এর নাম লেখে। তিয়াও প্রায় ৪ লাখ ভোট পায় এবং ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। যদিও তিয়াও নিবন্ধিত প্রার্থী না হওয়ায় এসব ভোট অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। এই ঘটনা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া শিম্পাঞ্জি’ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
১৯৮১ সাল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট্ট জনপদ সুনোলে ঘটে এক অদ্ভুত কিন্তু দারুণ ব্যঙ্গাত্মক ঘটনা। সেখানে মেয়র নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ বা আস্থা ছিল না। রাজনীতির প্রতি এই অনীহার মাঝেই প্রতীকীভাবে মেয়র পদে প্রার্থী করা হয় বসকো রামোস নামের একটি কুকুরকে।
বসকো ছিল শান্ত স্বভাবের এক কুকুর। তার জাত ছিল ল্যাব্রাডর ও রটউইলারের মিশ্রণ। শুরুতে বিষয়টি ছিল নিছক মজা ও প্রতিবাদ। কিন্তু মানুষ এই মজাকেই সিরিয়াসভাবে নেয়। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, বসকো দুইজন মানুষ প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে। এভাবেই সে সুনোলের প্রতীকী মেয়র হিসেবে পরিচিতি পায়।

বসকো কোনো আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন মেয়র ছিল না। সে শহর চালানোর সিদ্ধান্ত নিত না, আইন বানাত না। তবু ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বসকোই ছিল সুনোলের মেয়র। এই কুকুর মেয়রের গল্প খুব দ্রুত শহরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ঘটনাটি আলোচনায় আসে। অনেকেই এটিকে রাজনীতির ওপর এক তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ হিসেবে দেখেছেন।
১৯৬৮ সাল। শিকাগোতে চলছে ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশন। ঠিক সেই সময়ে ‘ইয়ুথ ইন্টারন্যাশনাল পার্টি’ বা ইপ্পিজ নামের একদল আন্দোলনকারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। প্রার্থীটি ছিল ১৪৫ পাউন্ড ওজনের একটি শূকর, যার নাম দেওয়া হয় ‘পিগাসাস দ্য ইমমর্টাল’।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল খুব স্পষ্ট। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটনে যারা বসে আছে, তারা সবাই শূকরের মতো আচরণ করছে। তারা যুদ্ধ বাধিয়ে মানুষ মারছে। তাই আমরা আসল শূকরকেই হোয়াইট হাউসে পাঠাতে চাই, যে অন্তত মানুষ মারবে না।
প্রার্থিতা ঘোষণার আয়োজনের সময়ই ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। শিকাগো পুলিশ পিগাসাসকে কনফিসকেট করে এবং কয়েকজন ইপ্পিজ সমর্থককে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পিগাসাস আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছে।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ।
১০ ঘণ্টা আগে১৯৬৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এড সলিভান টিভি শোতে বিটলসের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজির গড়ে। সেদিন প্রায় ৪০ শতাংশ আমেরিকান একসঙ্গে টিভির পর্দায় দেখেছিল চার তরুণকে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘বিটলম্যানিয়া’।
১ দিন আগে
আজ ফিওদর দস্তয়েভস্কির মৃত্যুদিন। প্রকাশের দেড়শ বছর পরও দস্তয়েভস্কির লেখা আজকের মানুষের সংকট সম্পর্কে ঠিক ততটাই সত্য কথা বলে, যতটা বলে আধুনিক জিনতত্ত্বের কোনো বই। এই লেখাগুলো দেখিয়ে দেয় যে শিল্পীর অন্তর্দৃষ্টি অনেক সময় ভবিষ্যৎকে আগেই দেখতে পায়।
১ দিন আগে
ইতিহাসে গণভোটের ধারণা প্রাচীন। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে প্রাচীন এথেন্সে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার চর্চা দেখা যায়। আধুনিককালে প্রথম উল্লেখযোগ্য গণভোট হয় ফ্রান্সে।
২ দিন আগে