জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ভোটের ফল ঘোষণা দীর্ঘায়িত হবে না, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত কম্পাইল: ইসি সচিব

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ইসি সচিব আখতার আহমেদ। ফাইল ছবি

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত হবে না বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল কম্পাইল সম্পন্ন করা হবে।’

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিদেশি সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফল আসতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল যাচাই-বাছাইয়ে তুলনামূলকভাবে সময় বেশি লাগে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে না।’

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে আখতার আহমেদ জানান, দেশের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনের সব ব্যালট পেপার ও নির্বাচন উপকরণ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে গেছে। একটি আসনে প্রার্থীর ইন্তেকালের কারণে ভোট স্থগিত থাকলেও বাকি সব আসনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ব্যালট পেপারগুলো রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এর অর্থ, ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘রক্তস্নাত জুলাই-পরবর্তী সময়ে নির্বাচন আয়োজন ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সঠিক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা ছিল প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।’ সময় ও সুযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নির্ভুল তালিকা করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত ভোটার বাদ দেওয়া—সব কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সহজ ছিল না। তবে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা হয়েছে।’

নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনও কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে উল্লেখ করেন আখতার আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ইসি সচিব। স্ট্রিম ছবি
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ইসি সচিব। স্ট্রিম ছবি

মোবাইল ফোন ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখন স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং একইসঙ্গে তথ্যপ্রবাহে অপ্রয়োজনীয় বাধা না আসে।’

অপতথ্য ও গুজব প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘দেশের ভেতর থেকে ছড়ানো অপতথ্য তুলনামূলকভাবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও দেশের বাইরে থেকে ছড়ানো অপতথ্য মোকাবিলায় কিছুটা সময় লাগে।’

মিডিয়া সেন্টারের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এই সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচনসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা পৌঁছায়।’

সংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা তথ্য সরবরাহ করব। তথ্যের ব্যাখ্যা আপনাদের থাকবে। তবে অপতথ্য ও অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সত্য যত কঠিনই হোক, সেটাই তুলে ধরতে হবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষে এখন আমরা মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য—উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ একটি নির্বাচন উপহার দেওয়া।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব ফারজানা বলেন, ‘নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক ভাবনা নয়, এটি দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।’

তিনি জানান, এবার ১৯টি বন্ধু দেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসেছেন, যারা পূর্বেও বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নীতিমালা মেনে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আজাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিকরা এই মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া বিশ্বদরবারে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরবেন।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত