leadT1ad

ঝিনাইদহ-১

৫ ইস্যু ঘিরে শৈলকুপার ভোটের মাঠ সরগরম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ০৬
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন সরগরম ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা ও হিসাব-নিকাশে এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও এবারের ভোটের মূল আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে ৫টি বিশেষ ইস্যুকে কেন্দ্র করে—গড়াই নদীর ভাঙন রোধ, কৃষি হিমাগার স্থাপন, বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদক নির্মূল এবং সামাজিক সহিংসতা বন্ধ।

১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত শৈলকুপা উপজেলাটি দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক দলাদলির জন্য পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে এখানে সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই ‘লাঠিয়াল সংস্কৃতি’ ও খুনাখুনি বন্ধ করে একটি শান্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত শৈলকুপা গড়াই এখন ভোটারদের প্রধান চাওয়া।

বিষ্ণুদিয়া এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ‘সামাজিক দলাদলির ভয়ে পুরুষরা শান্তিতে ঘরে থাকতে পারে না। আমরা এমন এমপি চাই যে এলাকার দাঙ্গা চিরতরে বন্ধ করবে।’ প্রথমবারের ভোটার বিপুল বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা মারামারি আর মাদক চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থান আর শান্তিপূর্ণ শৈলকুপা।’

গড়াই নদীর তীরবর্তী সারুটিয়া ও হাকিমপুর ইউনিয়নের মানুষ প্রতিবছর নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। গত দুই যুগ ধরে স্থায়ী বাঁধের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গড়াইপাড়ের বাসিন্দা মোমেনা খাতুন বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ভোটের সময় সবাই আশ্বাস দেয় কিন্তু কাজের কাজ হয় না। আমাদের দিকে যে নজর দিবে আমরা তাকেই ভোট দেব।’

পাশাপাশি পেঁয়াজ ও রসুন চাষীদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি সরকারি কৃষি হিমাগার। পেঁয়াজ চাষি আমজাদ হোসেনের কণ্ঠে ঝরল ক্ষোভ— ‘নেতারা ভোটের মাঠে এসে বলছে কোল্ড স্টোরেজ বানিয়ে দেবে, কিন্তু ভোট শেষে কেউ কথা রাখে না। এবার যে আমাদের লিখিত দেবে তাকেই ভোট দেব।’

শৈলকুপার সামাজিক ও সাংস্কৃতিককর্মী আলমগীর অরণ্য মনে করেন, কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিক সচেতনতা ছাড়া দাঙ্গা দমন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘এখানে রাজনৈতিক শক্তির চেয়ে সামাজিক শক্তির প্রাধান্য বেশি। সন্ত্রাস ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে হলে সাংস্কৃতিক চর্চা ও কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই।’

এ আসনে লড়ছেন বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও বাসদের প্রার্থীরা।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শৈলকুপায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স। গড়াই নদীর ভাঙন রোধ ও বেকারত্ব দূরীকরণ আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান অগ্রাধিকার।’

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘বিগত সময়ে দুর্নীতির কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ। আমার প্রধান প্রতিশ্রুতি দুর্নীতিমুক্ত শৈলকুপা। আমি নির্বাচিত হলে গড়াই নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, কৃষি হিমাগার তৈরি এবং অসুস্থ রাজনীতির কারণে সৃষ্ট হানাহানি বন্ধে সর্বোচ্চ কাজ করব।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মো. সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া ব্যতিক্রমী এক প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘আমি ষাটোর্ধ্ব কৃষকদের পেনশন ভাতা চালুর চেষ্টা করব। ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে বেকারত্ব নিরসন এবং শৈলকুপা থেকে অপরাজনীতি চিরতরে দূর করব।’

ঝিনাইদহ-১ আসনে এবার ৫ জন প্রার্থী লড়াই করলেও মূল আলোচনা বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরে। ৫ লাখ ভোটারদের এই আসনে শেষ পর্যন্ত শৈলকুপাবাসী কাকে তাদের অভিভাবক হিসেবে বেছে নেন, তা এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত