leadT1ad

ইসির বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টাকে নালিশ দেবে এনসিপি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৩৭
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। স্ট্রিম ছবি

আপিল শুনানির প্রক্রিয়াকে ‘নাটক’ ও ‘একপাক্ষিক’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দেখা করে বিষয়টি জানাবে দলটি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয় পুনর্বিবেচনা করছি।

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, আপিল শুনানির রায় ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করে। রায় দেওয়ার আগে বিচারক অপরাধীর পক্ষের লোকদের সঙ্গে বসে রায় দেন, তা নিরপেক্ষ হতে পারে না। আমরা দেখলাম, ১৫ মিনিটের কথা বলে তারা দেড় ঘণ্টা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করলেন। এরপর এসে রায় দিলেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত।

শুনানি প্রক্রিয়াকে হলিউড সিনেমা ‘টুয়েলভ অ্যাংরি মেন’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, শুনানিতে আইনের চেয়ে ইমোশনাল পয়েন্ট ও ড্রামা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বাইরে ছাত্রদলের দুই-তিন হাজার নেতাকর্মী ‘মব’ তৈরি করে চাপ সৃষ্টি করেছে। আর ভেতরে ইসি আপস করে রায় দিচ্ছে।

সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) লঙ্ঘন করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বৈধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আসলাম চৌধুরী, যিনি ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার খেলাপি, তাঁকেও বৈধ প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের একই গ্রাউন্ডে আগে বাতিল করা হলেও, বিএনপির প্রার্থীদের বাঁচাতে সেই স্বাক্ষরিত রায় আইনবহির্ভূতভাবে রিকল করা হয়েছে।

বর্তমান কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়েছে এনসিপি। আজকের এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইসি সুষ্ঠু নির্বাচন করার কনফিডেন্স হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কিনা, তা পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, আমরা দলীয় ফোরাম এবং ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ইসির বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এনসিপি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল মূসা বলেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো কমিশনের সুযোগ বা কোনো দলের চাপে পড়ে বিদেশি নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। আমরা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আমাদের আইনি লড়াই অব্যাহত রাখব।

রোববার নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে আসিফ মাহমুদসহ এনসিপির বেশ কয়েক নেতা উপস্থিত হন। শুনানি শেষে দলীয় কার্যালয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সম্পাদক মনিরা শারমিনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত