জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

দোহারে জামায়াত আমিরের প্রথম জনসভা, উন্নয়ন বঞ্চনা ঘোঁচানোর দাবি ভোটারদের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

দোহারে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ। স্ট্রিম ছবি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শেষ দিনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী জনসভা যোগ দিতে আসছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী জামায়াতের কোনো আমির এবারই প্রথম দোহারে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন বলে দলটির পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছে তারা।

অপর দিকে রাজধানীর অদূরের উপজেলা হলেও উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হচ্ছে এই দোহার। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে ঢাকা-১ আসন ঘোষণা করার পর থেকে এই বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটারেরা। এবার দলীয় প্রধানের নির্বাচনী জনসভায় সেই বঞ্চনা পোশানোর মতো প্রতিশ্রুতি আশা করছেন তাঁরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে দোহার উপজেলার জয়পাড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত থাকবেন। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট ও জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নজরুল ইসলামের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত কয়েকদিন ধরেই সেখানে দলীয় প্রধানের আগমনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।

উপজেলা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালে প্রথম নির্বাচনের সময় দোহার থানা নিয়ে ঢাকা-২ নির্বাচনী এলাকা গঠিত হয়েছিল। ২০০১ সালের আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে দোহারকে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে ঢাকা-১ আসনে যুক্ত করে নির্বাচন কমিশন। এতে দোহারের একক উন্নয়ন বরাদ্দ কমে গেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও দলের সর্বকনিষ্ঠ স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন দোহারের রাজনীতিক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তথ্য মন্ত্রী ও ২০০১ সালে যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মূলত এই সময়েই দোহারে অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়। যাকে এই অঞ্চলের উন্নয়নের ‘স্বর্ণ যুগ’ মনে করে ভোটারেরা। ২০০৮ সালে ঢাকা-১ আসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে মনে করেন তাঁরা।

২০০১ সালের আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে দোহারকে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে ঢাকা-১ আসনে যুক্ত করে নির্বাচন কমিশন। এতে দোহারের একক উন্নয়ন বরাদ্দ কমে গেছে।

ভোটারেরা বলছেন, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা রাজধানীর খুব কাছে হলেও দীর্ঘদিন তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার আমলে উপজেলায় রাস্তাঘাট ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণ হলেও অন্যান্য অবকাঠোমোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন চোখে পড়েনি।

এ ছাড়া প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের মারাত্মক বিস্তারকে স্থানীয় বড় সমস্যা মনে করছেন ভোটারেরা। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে হাজারো পরিবার। সেই সঙ্গে উড়তি যুবকের মধ্যে নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি মনে করছেন তাঁরা।

দোহারের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক ফিরোজ ভূঁইয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে ভোটের আগের প্রার্থীরা এলাকায় গ্যাস লাইন, রেললাইনের আশ্বাস দিলেও এর বাস্তবায়ন হয়নি। যে কারণে জামায়াতের আমিরের কাছে এ অঞ্চলের উন্নয়নে জনগণের প্রত্যাশা অনেক।

চঞ্চল খান নামে এক ভোটার বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জে ভালোমানের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। এর মধ্যেই স্কুল-কলেজে ছাত্রদের মধ্যে ঝড়ে পড়ার সংখ্যার আশঙ্কাজনক বেড়ে গেছে। এই শিক্ষার্থীরা পরিবারে চাপ দিয়ে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল কিনছে। তাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্সও। এতে সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক বেড়েছে। এটা নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক উদ্যোগও জরুরি মনে করেন তিনি।

উপজেলার একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, রাজধানী থেকে দোহার-নবাবগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু ঢাকায় যেতে সময় লেগে যায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। তার ওপর যানজটে আটক পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়। এ থেকে পরিত্রাণ চান তাঁরা।

জামায়াত নেতা মুহম্মদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘ডা. শফিকুর রহমানের কাছে এ আমাদের দুই উপজেলার সমস্যার কথা তুলে ধরব।’

রাজধানী থেকে দোহার-নবাবগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু ঢাকায় যেতে সময় লেগে যায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। তার ওপর যানজটে আটক পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়। এ থেকে পরিত্রাণ চান ভোটারেরা।

ঢাকার খুব কাছে থেকেও যাতায়াত ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি স্বীকার করে জামায়াতের ঢাকা জেলা সহকারী সেক্রেটারি এ বি এম কামাল হোসাইন বলেন, ‘দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীদের কথা চিন্তা করে এবারের নির্বাচনে আমাদের ইশতেহারে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কেরানীগঞ্জ থেকে মেট্রোরেলের লাইন এক্সটেনশন করে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার পর্যন্ত আনা হবে। এতে দুই উপজেলার হাজার হাজার চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী এখান থেকে গিয়েই ঢাকা কাজ করতে পারবেন।’

কামাল হোসাইন আরও বলেন, ‘দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাঁতিরা শ্রমে-ঘামে এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ এর সুবিধা গ্রহণ করেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। তাঁত শিল্পকে আগের মতো চাঙ্গা করতে আমরা প্রকৃত তাঁতিদের কাজে লাগিয়ে আধুনিকায়ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে জামায়াতের আমিরের আগমনে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সমাবেশ স্থলে সকাল থেকে নিয়মিত টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ।

দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিক জানান, আমিরে জামায়াতের দোহারে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সমাবেশ স্থলে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র‌্যাব সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত