leadT1ad

সরকার ও সেনাবাহিনী একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে: তাহের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ১৯
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। ছবি: সংগৃহীত

সরকার ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং প্রশাসন একটি দলের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন তাহের। বৈঠকটি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রতিনিধি দলের কাছে জামায়াত তাদের শঙ্কার কথা জানিয়েছে উল্লেখ করে তাহের বলেন, ‘আমরা তাদেরকে আমাদের আশঙ্কার কথাও বলেছি, গত এক দুই সপ্তাহ ধরে সরকার ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে একটি বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং প্রশাসন যেভাবে একটা দলের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আগামী নির্বাচন অতীতের পাতানো নির্বাচনগুলোর মতো হবে কিনা? আমরা মনে করি, এ ধরনের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করি, তারা যেন এখনই এ ব্যাপারে সতর্ক হয়ে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেন।’

বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানাতে গিয়ে তাহের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, বাংলাদেশে একটা স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা উত্তোরণের জন্য প্রয়োজন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যদি আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে ক্রাইসিস শেষ হবে না বরং ক্রাইসিস আবার নতুন করে তৈরি হবে। সংকট আরও গভীরতর হবে, এ আশঙ্কার কথা আমরা তাদেরকে স্পষ্টভাবে বলেছি।’

তাহের বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদেরকে বলেছে, আগামী নির্বাচনে তারা সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবেন এবং এ ব্যাপারে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা তাদেরকে বলেছি, আমরা যদি ক্ষমতায় যাই তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা করব ও দেশি-বিদেশি সকল স্টেক হোল্ডারকে নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা পালন করব ইনশাআল্লাহ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদেরকে বলেছেন, তারা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। তারা আশা করছেন বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরাও তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হওয়ার জন্যে যা কিছু করা প্রয়োজন জামায়াতে ইসলামী সেটা করবে এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে।’

বৈঠকে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন—ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপপ্রধান মনিকা বাইলাইতে। আর জামায়াতের পক্ষে দলটির আমির ও নায়েবে আমির ছাড়াও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত