জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রদবদল ও বিতর্কের মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে নতুন সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৯: ০৮
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক পদে ব্যাপক রদবদল হচ্ছে। যারমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর, মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশপ্রধানের মতো পদ রয়েছে। রদবদল হয়েছে সেনাবাহিনীতেও।

নির্বাচনের আগে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচি শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা নিয়োগ ও দপ্তর বণ্টন করা হয়। শুরুতে সরকারের মন্ত্রীদের কয়েকটি বক্তব্যে বিতর্কও সৃষ্টি হয়।

নতুন সরকার দায়িত্বে আসার পর কাজের সুবিধার্থে প্রশাসনিক রদবদল করবে, এটিই স্বাভাবিক বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম। সামনের দিনে বিভিন্ন জায়গায় আরও রদবদল দেখতে পাওয়াটাও অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি এ-ও বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের যে বক্তব্যগুলো নিয়ে সমালোচনা এসেছে, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সংসদ ভবনে প্রথমে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। তবে বিএনপি ও তার মিত্র দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় আলোচনা তৈরি হয়। ওই দিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁদের দায়িত্বও বণ্টন করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রথমবারের মতো কোন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়ায় শুরু হয় বিতর্ক।

নতুন সরকার গঠনের আগেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে পরিবর্তন আসে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে আরও রদবদল শুরু হয়। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সচিব পরিবর্তন এবং কিছু সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই দিন পৃথক তিনটি আদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় সরকার।

তবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। নতুন গভর্নর হিসেবে ওইদিনই মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মোস্তাকুর রহমান ব্যয় ব্যবস্থাপনা বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এফসিএমএ ডিগ্রিধারী। তিনি একজন ব্যবসায়ী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রথমবারের মতো কোন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়ায় শুরু হয় বিতর্ক।

১৭ ফেব্রুয়ারি ৫ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়। নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেয় সরকার।

নতুন সরকার দায়িত্বে আসার পর কাজের সুবিধার্থে প্রশাসনিক রদবদল করবে, এটিই স্বাভাবিক বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম।

এছাড়া ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আব্দুস সালাম ও উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার নিয়োগ পান। তাঁদের সবাই বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত।

সেনাবাহিনীতে রদবদল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে নতুন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল করা হয়।

একই সঙ্গে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেলের দায়িত্ব থেকে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়। এমআইএসটির বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লগ এরিয়ার জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউসুর রহমান খান স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাচ্ছেন।

এর আগে, ২২ ফেব্রুয়ারি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে সদর দপ্তরের চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) করা হয়। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি) থেকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এছাড়া প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পান মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী।

১৯ ফেব্রুয়ারি নিজ দপ্তরে দেওয়া সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের একটি বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

নতুন পুলিশপ্রধান

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে আলী হোসেন ফকিরকে নিয়োগ দেয় সরকার। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদ থেকে পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে আইজিপি করা হয়।

এর আগে, ২০২৪ সালে ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য আইজিপি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন বাহারুল আলম। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদের প্রায় ৯ মাস বাকি থাকতে বাহারুল আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সরকার।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের রদবদলের মধ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব থেকে সরে যান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠান। এরপর অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ারকে ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্ত্রীদের বক্তব্যে বিতর্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি নিজ দপ্তরে দেওয়া সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের একটি বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো।’

তিনি বলেন, ‘চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয়, সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’

তার এই বক্তব্যের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও প্রতিক্রিয়া জানায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা।

এছাড়া রাতে ঘোরাফেরা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের কচুয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাতে কিশোরদের রাস্তায় অযাচিত ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। এখন রাতে রাস্তায় ঘুরলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে যে কেন ঘুরতেছে, কোথায় গিয়েছিল, কেন গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এতে যদি কন্সটিটিউশনাল ভায়োলেশন (সংবিধান লঙ্ঘন) হয়, তাহলে সেটি আমরা পরে দেখব। এটি হতেই হবে। এর কোন বিকল্প নাই।’

নির্বাচনের ইশতেহার ও দলের ৩১ দফায় উল্লিখিত প্রতিশ্রুতির বেশ কয়েকটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে আলোচনায় ‘জুলাই’

নির্বাচনের পর নতুন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আলোচনায় আসছে। সংস্কার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হওয়া নানা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা জানাচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৫ আগস্টের পর দায়ের করা মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুর ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুলিশ হত্যার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন সেটিই কার্যকর হবে। যেহেতু তদন্ত হয়েছে, যদি প্রয়োজন হয় তখন আরও তদন্ত হবে। এখন তো মূলত আদালতে আছে।

এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পুলিশ হত্যার বিচারের আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন উদ্যোগ

নির্বাচনের ইশতেহার ও দলের ৩১ দফায় উল্লিখিত প্রতিশ্রুতির বেশ কয়েকটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষায় আনতে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন করছে সরকার। প্রথমে ১৪টি উপজেলায় এ কার্ড বিতরণ করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে নিজ জেলা বগুড়ায় হবে তাঁর প্রথম সরকারি সফর। ওই দিন সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।

কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা দিতে কৃষক কার্ডের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য সভাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, কৃষক কার্ড বিতরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকার যত দ্রুত সম্ভব কৃষক কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে আসার পেছনে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশিরের।

এছাড়া ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের মতো কর্মসূচি শুরুর ব্যাপারেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে— ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় প্রাথমিকভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দিতে কাজ শুরু করবে বলেও জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বেশ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা ও কার্যক্রম চোখে পড়েছে। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এ দলটির এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদিও বলেছেন, ‘এটি আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই সব জায়গায় সেভাবেই তাদের দেখা হবে।’

তবে আওয়ামী লীগের এভাবে প্রকাশ্যে আসার পেছনে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশিরের। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আপস করে আওয়ামী লীগ কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু আমাদের অবস্থান সব সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত