leadT1ad

সবচেয়ে কম আয় তারেক রহমানের, বেশি মির্জা আব্বাস-সালাহউদ্দিনের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৪৬
স্ট্রিম গ্রাফিক

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ৯ সদস্য আসন্ন সংসদ নির্বাচনে একটি করে আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান নির্বাচন করছেন দুটি আসনে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে পেশায় ব্যবসায়ী মির্জা আব্বাস ও সালাহউদ্দিন আহমেদ সবচেয়ে বেশি আয় করেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম আয় করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সবচাইতে কম আয় করেন দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করতে যাওয়া বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একমাত্র পেশা হিসেবে রাজনীতিকে উল্লেখ করেছেন। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে তাঁর বছরে আয় ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা জানিয়েছেন।

পুঁজিবাজারে তাঁর বিভিন্ন কোম্পানির ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে; ব্যাংক আমানত এক লাখ ২০ হাজার ও এফডিআর ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা; স্বর্ণালংকার (অর্জনকালীন) দুই হাজার ৯৫০ টাকা; আসবাব এক লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং হাতে নগদ ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৮ টাকা আছে বলে জানিয়েছেন। আর স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি দুই স্থানে ৩ একর ৫ শতাংশ, যার অর্জনকালীন মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমি এবং যৌথ মালিকানায় ৮০০ বর্গফুটের একটি দোতলা ভবন। আয়কর রিটার্নে তাঁর দেখানো সম্পদমূল্য এক কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা।

সবচেয়ে বেশী আয় করা প্রার্থী হলেন ঢাকার মির্জা আব্বাস। ব্যবসা পেশা দেখানো আব্বাসের বাড়ি ভাড়া, ব্যাংক আমানত ও এফডিআরের লাভ থেকে বছরে আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩২ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদের মূল্য ৭৪ কোটি ১১ লাখ ২ হাজার ১২ টাকা। তাঁর হাতে নগদ অর্থ আছে দুই কোটি ৫১ লাখ এবং বিদেশি মুদ্রা ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫ ডলার। ব্যাংকে আছে ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৯ টাকা।

এর পরেই রয়েছেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। নিজেকে আইনজীবী ও ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ছয় কোটি ২১ লাখ টাকা। তাঁর নামে সম্পদ আছে ১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার; স্ত্রীর নামে ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

সালাহউদ্দিন আহমেদের একটি কার ও দুইটি জিপ এবং স্ত্রীর নামে ১টি কার ও একটি জিপ রয়েছে। পেকুয়ায় তিনতলা বাসভবন ও ঢাকার গুলশানে চার হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসা, পরামর্শক, কৃষি আয়, ব্যাংক মুনাফা ও সম্মানী ভাতা দেখিয়েছেন। এসব খাতে তাঁর বছরে আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ছয় লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকা। হাতে নগদ আছে এক কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা ৭৭ পয়সা। ব্যাংকে জমা আছে তিন কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ২৯৬ টাকা।

কুমিল্লা-১ আসনের ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে আয়করের নথিতে বাৎসরিক আয় ৮৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। তার আয়ের উৎস দেখিয়েছেন কৃষি খাত থেকে এক লাখ ৮৮ হাজার ২১০ টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে ৭২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩৪ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তাঁর নামে ১৪৩ শতক কৃষিজমি এবং ২৩ শতক অকৃষিজমি রয়েছে। ঢাকার গুলশানে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছয়তলা বাড়ি। সব মিলিয়ে বর্তমান স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১০ কোটি ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৫১০ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদমূল্য দেখিয়েছেন প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচন করবেন চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে। আয়কর নথি অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ২২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং সম্পদ রয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার।

হলফনামা বলছে, খসরুর হাতে নগদ ১ কোটি ৮৭ লাখ ও ব্যাংকে আছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়াও তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামে ২টি জিপ গাড়ি এবং নিজের ২টি বাড়ি রয়েছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নির্বাচন করবেন ঢাকা-৩ আসন থেকে। পেশা দেখিয়েছেন কৃষি। আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ৭ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৮৬০ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদ আছে ৬১ কোটি ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকার। তাঁর নগদ আছে ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং ব্যাংকে আছে ৭৬ হাজার ৯৮৫ টাকা।

নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খান পেশায় গবেষক। এ প্রার্থীর নগদ টাকা দেখানো হয়নি। তবে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ৪৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ নির্বাচন করবেন সিরাজগঞ্জ- ২ আসন থেকে। পেশায় পরামর্শক এই নেতা কৃষিখাত থেকে আয় করেন বছরে ৩ লাখ টাকা এবং শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হাসান দিনাজপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। আয়কর রিটার্নে তিনি দেখিয়েছেন, বছরে আয় ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। সম্পদ দেখিয়েছেন ৬ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার টাকার। এছাড়াও কোটি টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে এই চিকিৎসকের।

ভোলা-৩ আসন থেকে নির্বাচন করবেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার আয় বছরে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার।

Ad 300x250

সম্পর্কিত