ফেনীর সোনাগাজীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ও বগাদানা ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনী-৩ আসনের পাইকপাড়া ভোটকেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থীর চেয়ে মাত্র ২৫ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। এরপরই এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী বগাদানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি জাবেদ অভিযোগ করেন, ‘মাত্র ২৫ ভোটে জয়ী হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির লোকজন আমার বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়েছে এবং আমার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।’
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, হামলার শিকার হয়েছেন বগাদানা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবদুল হাই। তাঁর বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া একই কেন্দ্রের জামায়াতের এজেন্ট আতা উল্লাহর বাবার দোকান, জামায়াত কর্মী নূরে এলাহীর দোকান এবং অপর এজেন্ট মাসুমের দোকানে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় অভিযুক্তরা।
এদিকে, মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় জামায়াতকর্মী সন্দেহে আব্দুল নামে এক শিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, পুরো এলাকায় হাতবোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং যেখানেই জামায়াত নেতাকর্মীদের পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই মারধর করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ইউসুফ, তুষার, জাবেদ স্বপন ও রুবেল নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা তুষার। তিনি মুঠোফোনে জানান, ‘ঘটনায় আমি জড়িত নই। বহিরাগত কারা এসে এই হামলা করেছে তা আমার জানা নেই।’
অপর অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউসুফও দাবি করেন, ‘ফলাফল ঘোষণার সময় থেকেই আমি নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছি। হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’