জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সিগারেটে রাজস্ব ফাঁকি ৫১৮২ কোটি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

'তামাক কোম্পানির মূল্য কারসাজি ও কর ফাঁকি রোধে করণীয়' শিরোনামে আলোচনা সভা। সংগৃহীত ছবি

সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্যে কোম্পানিগুলো বিক্রেতাদের কাছে সিগারেট বিক্রি করছে, আর বিক্রেতারা তার চেয়ে বেশি মুল্যে ক্রেতাদের নিকট সিগারেট বিক্রি করছে। এতে করে ক্রেতাদের প্যাকেটে উল্লিখিত সর্বোচ্চ দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিগারেট কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া বেশি দামের ওপর কর ফাঁকি দিচ্ছে সিগারেট কোম্পানিগুলো।

বিক্রয় মূল্যের ওপর কর আদায় সম্ভব হলে চলতি অর্থবছরেই ৫১৮২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতো। ‘সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোম্পানির কৌশল ও রাজস্ব আদায়ে এর প্রভাব: একটি সমীক্ষা” শীর্ষক একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সোয়া ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘তামাক কোম্পানির মূল্য কারসাজি ও কর ফাঁকি রোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপির গবেষণা সহকারী ইশরাত জাহান ঐশী। তিনি বলেন, মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, অতিউচ্চ স্তরে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে ৫১০ দশমিক ৩১ কোটি টাকা। একইভাবে উচ্চ স্তরে ১২৪ দশমিক ৪০ কোটি, মধ্যম স্তরে ১৯২৫ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা এবং নিম্ন স্তরে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে ২৬২১ দশমিক ২৪ টাকা।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, এমআরপির চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করে যে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে তা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৫টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সমান। রাজস্ব ফাঁকির এ টাকা দিয়ে সারা দেশে হৃদরোগের চিকিংসা ফ্রি করে দেয়া সম্ভব।

তারা আরও বলেন, ‘এমআরপির চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রির মাধ্যমে কেবল রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে না। তরুণদেরও এর মাধ্যমে ধূমপানের প্রতি আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। কারণ এর মূলেই রয়েছে খুচরা শলাকা বিক্রি। আমরা খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেও সরকার সেটা আমলে নেয়নি। অথচ খুচরা শলাকা বিক্রির জন্যই রাজস্ব ফাঁকি বাড়ার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে ধূমপানের হার বাড়ছে। একইসঙ্গে খুচরা শলাকা বিক্রির কারণে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেখে সচেতন হতে পারছে না ধূমপায়ীরা।’

গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে সিগারেট বিক্রি নিশ্চিত করা এবং নিয়ম অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি পূর্ববর্তী অবৈধ ব্যবসার জন্য শাস্তির আওতায় আনা; কর আদায় ও বাজার মনিটরিংয়ে গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা; সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ করা; সিগারেটের বহু স্তর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে একটি স্তরে নিয়ে আসা; সিগারেটে অ্যাডভেলরেম কর পদ্ধতির পরিবর্তে রাজস্ব বৃদ্ধি ও তামাকের ব্যবহার কমাতে সুর্নিদিষ্ট করারোপ পদ্ধতি প্রচলন করা; এবং তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের অংশীদারিত্ব প্রত্যাহার করা এবং বিকল্প রাজস্ব উৎসের সন্ধান করা।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপির কনভেনর অধ্যাপক ড. রুমানা হক, তামাকমুক্ত রেলওয়ে প্রকল্পের কন্সালটেন্ট ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার এবং জনস্বাস্থ্য ও নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ড. সৈয়দ মাহফুজুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনটিটিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম।

বিষয়:

রাজস্ব

সম্পর্কিত