সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন টিকে থাকার পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২০: ০৪
পোশাকখাতকে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বিষয়ে ৬ মে রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। স্ট্রিম ছবি

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর কেবল পরিবেশগত আলোচনার বিষয় নয়; এটি দেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম পূর্বশর্ত।

পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে পোশাকখাতকে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বিষয়ে বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত প্রধান মাইকেল মিলার ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

সার্কুলার অর্থনীতি বা চক্রাকার অর্থনীতি এমন একটি টেকসই উৎপাদন ও ভোগ ব্যবস্থা, যেখানে পণ্য বা উপকরণ ব্যবহার শেষে ফেলে না দিয়ে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘসময় ব্যবহারযোগ্য রাখা হয়। এটি বর্জ্য ও দূষণ কমিয়ে সম্পদ পুনরায় উৎপাদন চক্রে ফিরিয়ে আনে।

বিশ্বব্যাপী এই অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী, যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।’

সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, এর আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়। এটি বাস্তবসম্মত, অর্জনযোগ্য এবং বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে।

এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা এবং ভ্যালু চেইন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সার্কুলার অর্থনীতির সুবিধা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এর মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত, বর্জ্য কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত অত্যন্ত সম্পদনির্ভর হওয়ায় এক্ষেত্রে পুনঃচক্রায়ন ব্যবস্থা পরিবেশগত চাপ কমাতে এবং টেকসই শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে সরকার, শিল্পখাত, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা সমন্বিতভাবে কাজ করলেই সার্কুলার রূপান্তর সফল হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, টেকসই বিনিয়োগকে সহায়তা দেওয়া এবং অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ সময় বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গে এনে মন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা এবং এলডিসিভিত্তিক অনেক বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার হারাবো। তাই এখন থেকেই আমাদের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে হবে।’

এক্ষেত্রে সার্কুলার অর্থনীতি অন্যতম সমাধান হতে পারে বলে জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত