সরকার পদক্ষেপ নেয়নি, ইসলামী ব্যাংকে আস্থাও ফেরেনি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুর নবী মানিক। ছবি: সংগৃহীত

গ্রাহকদের দাবি আদায়ে পিছু হটার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুর নবী মানিক। তিনি বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে গ্রাহকেরা এখনো ইসলামী ব্যাংককে আস্থায় নিতে পারছেন না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন নুর নবী মানিক। এ সময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের কর্মী, ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক বলেন, ‘আমরা খুবই আশ্চর্য হই, গত দুই মাসে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ গ্রাহকেরা যখন তাদের আমানতের সুরক্ষার জন্য আন্দোলন করেন, তখন তারা রাজনীতি খোঁজার চেষ্টা করেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এতদিনে শুধুমাত্র এস আলমের সহযোগী খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে প্রত্যাহার এবং সংসদে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। সংসদে বিল উত্থাপন হলেও, এখনো তা বাতিল করা হয়নি।’

দাবি আদায়ে আগের ৭ দফা তুলে ধরে মানিক বলেন, ‘ব্যাংকটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালার জন্য ইতোপূর্বে আমরা সাত দফা দাবি দিয়েছি। তা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসেনি। আমরা আবার আমাদের দাবিগুলো পুর্নব্যক্ত করছি। এখান থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিশেষ পরিবারের সম্পদ নয়। এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস, আবেগ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত জাতীয় প্রতিষ্ঠান। আমরা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি– ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য বোর্ড গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিন।

গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলো হলো, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন; ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া মালিকানা প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ফেরত, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও এস আলমসহ সব ব্যাংক লুটেরাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা, লুণ্ঠিত সব অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত