ফারুক হোসাইন

দেশীয় উৎসের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত দ্রুত ফুরাচ্ছে। বিপরীতে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান নেই। সরবরাহ সচল রাখতে সরকার রেকর্ড পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে। এরপরও সংকট কাটছে না। গ্যাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানা, সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন।
জ্বালানিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের উদাসীনতা এবং খনিগুলোর মজুত ফুরিয়ে আসাই সংকটের মূল কারণ। সংকট নিরসনে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে।
লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়নের (আইজিইউ) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩২ শতাংশ এলএনজি আমদানি করেছে। ২০২৪ সালে ৫ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ। আর গত বছর বিশ্বের ১২টি দেশ থেকে রেকর্ড ৭ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আনা হয়।
পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেও একই চিত্র দেখা যায়। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ছিল এলএনজি। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে দৈনিক এলএনজি সরবরাহ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে ঠেকেছে।
জ্বালানি বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট উত্তোলনযোগ্য ২৯ দশমিক ৯৩ টিসিএফ গ্যাসের ২২ দশমিক ১৪ টিসিএফ (৭৪ শতাংশ) ব্যবহার হয়ে গেছে। বাকি ৭ দশমিক ৭৮ টিসিএফ গ্যাসে বর্তমান ব্যবহারের হারে বড়জোর ৮ বছর চলবে।
দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক (৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ) আসে মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে, যার মজুত এখন শেষের দিকে। গত ৯ বছরে দেশীয় উৎপাদন দৈনিক ২৭০ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ১৬৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমদানির পরিমাণের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক বোঝাও বাড়ছে। স্থানীয় গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) থেকে প্রতিনিয়ত কার্গো কেনা হচ্ছে। গত অর্থবছরে এই খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ থাকলেও, স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি কেনার কারণে শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ১১৫ কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আমদানি ব্যয় আরও বাড়াবে।
আমদানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা নতুন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরেও আগামী ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কার্গো সরবরাহ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর আভাস পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান স্ট্রিমকে বলেন, ‘দেশের জ্বালানির মজুত কমে আসায় এলএনজির আমদানি বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে।’
এদিকে, গ্যাস সংকটে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। অনেক কারখানার উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সমুদ্রসীমা জয়ের পরও এক যুগ সেখানে কোনো জোরালো অনুসন্ধান চালানো হয়নি। দেশীয় উৎস শক্তিশালী না করে শুধু উচ্চমূল্যের আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। মিয়ানমার ও ভারত তাদের সমুদ্রসীমায় বিশাল মজুত আবিষ্কার করে যেখানে গ্যাস তুলছে, বাংলাদেশ সেখানে কিছুই করতে পারেনি।
সংকট সমাধানে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় স্থলভাগে ১৫০টি নতুন কূপ খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধানে গতি আনতে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ চালু করা হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাসহ নানা আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর টার্মিনাল দুটির দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ১০০ কোটি ঘনফুট। তবে চাহিদার চাপে টার্মিনালগুলো প্রায়ই সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা ব্যবহার করছে। ২০২৯ সালের মধ্যে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসাতে চায় সরকার।
দেশের জ্বালানির মজুত কমে আসায় এলএনজির আমদানি বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। আব্দুল মান্নান, চেয়ারম্যান, পেট্রোবাংলা
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৯ সালে ভোলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে দৈনিক ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি শক্তিশালী ড্রিলিং রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র শনাক্তে ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক জরিপ শেষ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আটটি কূপে কাজ চলছে এবং বাকিগুলোর জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান। বিশেষ করে ভোলার চরফ্যাশন, জামালপুর, তিতাস ও বাখরাবাদ সংলগ্ন এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধানে গতি আনতে সরকার গত ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ আহ্বান করেছে। পেট্রোবাংলা বিশ্বের নামিদামি ৫৫টি কোম্পানিকে সরাসরি ই-মেইল করে দরপত্রে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

দেশীয় উৎসের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত দ্রুত ফুরাচ্ছে। বিপরীতে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান নেই। সরবরাহ সচল রাখতে সরকার রেকর্ড পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে। এরপরও সংকট কাটছে না। গ্যাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানা, সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন।
জ্বালানিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের উদাসীনতা এবং খনিগুলোর মজুত ফুরিয়ে আসাই সংকটের মূল কারণ। সংকট নিরসনে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে।
লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়নের (আইজিইউ) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩২ শতাংশ এলএনজি আমদানি করেছে। ২০২৪ সালে ৫ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ। আর গত বছর বিশ্বের ১২টি দেশ থেকে রেকর্ড ৭ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আনা হয়।
পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেও একই চিত্র দেখা যায়। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ছিল এলএনজি। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে দৈনিক এলএনজি সরবরাহ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে ঠেকেছে।
জ্বালানি বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট উত্তোলনযোগ্য ২৯ দশমিক ৯৩ টিসিএফ গ্যাসের ২২ দশমিক ১৪ টিসিএফ (৭৪ শতাংশ) ব্যবহার হয়ে গেছে। বাকি ৭ দশমিক ৭৮ টিসিএফ গ্যাসে বর্তমান ব্যবহারের হারে বড়জোর ৮ বছর চলবে।
দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক (৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ) আসে মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে, যার মজুত এখন শেষের দিকে। গত ৯ বছরে দেশীয় উৎপাদন দৈনিক ২৭০ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ১৬৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমদানির পরিমাণের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক বোঝাও বাড়ছে। স্থানীয় গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) থেকে প্রতিনিয়ত কার্গো কেনা হচ্ছে। গত অর্থবছরে এই খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ থাকলেও, স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি কেনার কারণে শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ১১৫ কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আমদানি ব্যয় আরও বাড়াবে।
আমদানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা নতুন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরেও আগামী ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কার্গো সরবরাহ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর আভাস পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান স্ট্রিমকে বলেন, ‘দেশের জ্বালানির মজুত কমে আসায় এলএনজির আমদানি বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে।’
এদিকে, গ্যাস সংকটে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। অনেক কারখানার উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সমুদ্রসীমা জয়ের পরও এক যুগ সেখানে কোনো জোরালো অনুসন্ধান চালানো হয়নি। দেশীয় উৎস শক্তিশালী না করে শুধু উচ্চমূল্যের আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। মিয়ানমার ও ভারত তাদের সমুদ্রসীমায় বিশাল মজুত আবিষ্কার করে যেখানে গ্যাস তুলছে, বাংলাদেশ সেখানে কিছুই করতে পারেনি।
সংকট সমাধানে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় স্থলভাগে ১৫০টি নতুন কূপ খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধানে গতি আনতে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ চালু করা হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাসহ নানা আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর টার্মিনাল দুটির দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ১০০ কোটি ঘনফুট। তবে চাহিদার চাপে টার্মিনালগুলো প্রায়ই সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা ব্যবহার করছে। ২০২৯ সালের মধ্যে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসাতে চায় সরকার।
দেশের জ্বালানির মজুত কমে আসায় এলএনজির আমদানি বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। আব্দুল মান্নান, চেয়ারম্যান, পেট্রোবাংলা
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৯ সালে ভোলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে দৈনিক ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি শক্তিশালী ড্রিলিং রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র শনাক্তে ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক জরিপ শেষ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আটটি কূপে কাজ চলছে এবং বাকিগুলোর জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান। বিশেষ করে ভোলার চরফ্যাশন, জামালপুর, তিতাস ও বাখরাবাদ সংলগ্ন এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধানে গতি আনতে সরকার গত ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ আহ্বান করেছে। পেট্রোবাংলা বিশ্বের নামিদামি ৫৫টি কোম্পানিকে সরাসরি ই-মেইল করে দরপত্রে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
.png)

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে চলতি ও এসটিডি হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়াসহ সাতটি সেবায় বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
৮ ঘণ্টা আগে
বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে সরকার। এর অর্থ, যেসব তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করবেন, তারাই বাড়তি এই নগদ সহায়তা পাবেন।
১২ জুলাই ২০২৬
দামের লাগাম টানতে ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করেছে সরকার। কিন্তু বাজারে ধান, চাল, ডাল, তেল-চিনি, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ এসব পণ্যের দামে হেরফের হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে।
১২ জুলাই ২০২৬
দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে বাজেটে ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নীতিমালার মৌলিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
১২ জুলাই ২০২৬