সংস্কার ছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশের নিচে নামতে পারে: আইএমএফ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

আইএমএফের লোগো। সংগৃহীত ছবি

প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। গত ১২ জুলাই আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসে।

আজ সফরের শেষ দিনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। এর আগে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল।

আইএমএফ জানিয়েছে, সরকারের অনুরোধে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নই এই সফরের উদ্দেশ্য।

প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজস্ব ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর হতে পারে। সংস্থাটির মতে, চলমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে, যা বাজেটের ৬.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। আর প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম আরও বিলম্বিত হলে মধ্যমেয়াদে তা ৩ শতাংশেরও নিচে নামার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

রাজস্ব ব্যাংক খাতের সংস্কারের তাগিদ

আইএমএফের বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে দুর্বল রাজস্ব আহরণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে পণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ বিঘ্নিত থাকায় সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বেড়েছে, যা সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

সংস্থাটির মতে, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার করতে ও উন্নয়ন ব্যয় টেকসই রাখতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এছাড়া ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটাতে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে তারা।

কঠোর মুদ্রানীতি ক্রলিং পেগ ব্যবস্থা

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছে আইএমএফ। একইসঙ্গে সরকারের রাজস্বনীতিতেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ ভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে ও নমনীয়ভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব।

পরবর্তী পদক্ষেপ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, অগ্রাধিকার বিবেচনায় ধীরে ধীরে সংস্কার হবে। আগে যেসব নীতিগত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেই ভিত্তিতেই নতুন কর্মসূচি এগোবে।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই সফরের পর আইএমএফের সঙ্গে কয়েক দফা ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হবে। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত