স্ট্রিম প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। পরের অর্থবছরে এটি বেড়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমে আসতে পারে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ২০২৬ সালের সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ বলছে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ কাটিয়ে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি এখনও করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় কম। একই সঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অনেক নিচে রয়েছে।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এই প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়া ও তানজানিয়াও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কঠোর মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির পর এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমেছে। এর ফলে এসব দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে। নীতিগত সমন্বয় জোরদার হওয়া এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার উদ্যোগের ফলে বড় ধরনের মন্দা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
কৃষি খাত অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শক্তিশালী কৃষি উৎপাদনের ফলে দেশীয় চাহিদা ও গ্রামীণ আয় কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প উৎপাদন ও বৈদেশিক বাণিজ্যে যে দুর্বলতা ছিল, তার প্রভাব আংশিক সামাল দেওয়া গেছে।
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে জাতিসংঘের এই পূর্বাভাস এডিবি, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ-এর পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এডিবি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবরের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার কথা উল্লেখ করে। একই সময়ে আইএমএফ ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের জন্য ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা বেশি।
মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতি
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরের অর্থবছরে তা আরও কমে ৬ শতাংশে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত ছয় মাস ধরে তা ৮ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই এখন মুদ্রানীতি শিথিল করছে।
বৈদেশিক খাতের চ্যালেঞ্জ
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও মূলত শ্রমনির্ভর শিল্প খাতে কেন্দ্রীভূত। এতে বৈশ্বিক ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এর ফলে সরকারি বিনিয়োগ ও রাজস্ব ব্যয়ের সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।
ঋণ ও রাজস্ব সীমাবদ্ধতা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে। সেই তুলনায় রাজস্ব আদায়ও তুলনামূলকভাবে কম। এর ফলে সরকার নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে চাপে রয়েছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশই একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছে। উচ্চ সরকারি ঋণের কারণে আর্থিক সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
জলবায়ু ও কাঠামোগত ঝুঁকি
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ঘন ঘন বন্যা ও চরম আবহাওয়া খাদ্য উৎপাদন, অবকাঠামো এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
সব মিলিয়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে স্থিতিশীল হলেও সীমাবদ্ধ বলে বর্ণনা করেছে। সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জলবায়ু ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার না হলে এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে। তবে স্বল্পমেয়াদে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমতে পারে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ছিল আনুমানিক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা নেমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আসতে পারে। ২০২৭ সালে আবার তা বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ সরকারি ঋণকে এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের অর্থনীতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। শক্তিশালী ভোগব্যয় ও সরকারি বিনিয়োগ মার্কিন শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব আংশিক সামাল দেবে। ভুটানের প্রবৃদ্ধি সামনের বছরগুলোতে ৬ শতাংশের বেশি থাকতে পারে। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায় ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কমে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৪ শতাংশে নামতে পারে। পাকিস্তানের অর্থনীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। নেপালের প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে কমে ২ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে। ২০২৭ সালে তা কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে তা এখনও ২০১০ থেকে ২০১৯ সময়ের গড় ৩ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে নতুন করে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বড় ধরনের শুল্কযুদ্ধ না হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা লাগেনি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত টানাপোড়েনে বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র বদলে যাচ্ছে। এতে অনিশ্চয়তা ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখনও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ফলে বিশ্বের বড় অংশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখনও অনেক দূরে।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। পরের অর্থবছরে এটি বেড়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমে আসতে পারে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ২০২৬ সালের সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ বলছে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ কাটিয়ে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি এখনও করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় কম। একই সঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অনেক নিচে রয়েছে।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এই প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়া ও তানজানিয়াও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কঠোর মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির পর এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমেছে। এর ফলে এসব দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে। নীতিগত সমন্বয় জোরদার হওয়া এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার উদ্যোগের ফলে বড় ধরনের মন্দা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
কৃষি খাত অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শক্তিশালী কৃষি উৎপাদনের ফলে দেশীয় চাহিদা ও গ্রামীণ আয় কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প উৎপাদন ও বৈদেশিক বাণিজ্যে যে দুর্বলতা ছিল, তার প্রভাব আংশিক সামাল দেওয়া গেছে।
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে জাতিসংঘের এই পূর্বাভাস এডিবি, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ-এর পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এডিবি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবরের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার কথা উল্লেখ করে। একই সময়ে আইএমএফ ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের জন্য ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা বেশি।
মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতি
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরের অর্থবছরে তা আরও কমে ৬ শতাংশে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত ছয় মাস ধরে তা ৮ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই এখন মুদ্রানীতি শিথিল করছে।
বৈদেশিক খাতের চ্যালেঞ্জ
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও মূলত শ্রমনির্ভর শিল্প খাতে কেন্দ্রীভূত। এতে বৈশ্বিক ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এর ফলে সরকারি বিনিয়োগ ও রাজস্ব ব্যয়ের সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।
ঋণ ও রাজস্ব সীমাবদ্ধতা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে। সেই তুলনায় রাজস্ব আদায়ও তুলনামূলকভাবে কম। এর ফলে সরকার নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে চাপে রয়েছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশই একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছে। উচ্চ সরকারি ঋণের কারণে আর্থিক সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
জলবায়ু ও কাঠামোগত ঝুঁকি
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ঘন ঘন বন্যা ও চরম আবহাওয়া খাদ্য উৎপাদন, অবকাঠামো এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
সব মিলিয়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে স্থিতিশীল হলেও সীমাবদ্ধ বলে বর্ণনা করেছে। সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জলবায়ু ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার না হলে এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে। তবে স্বল্পমেয়াদে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমতে পারে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ছিল আনুমানিক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা নেমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আসতে পারে। ২০২৭ সালে আবার তা বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ সরকারি ঋণকে এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের অর্থনীতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। শক্তিশালী ভোগব্যয় ও সরকারি বিনিয়োগ মার্কিন শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব আংশিক সামাল দেবে। ভুটানের প্রবৃদ্ধি সামনের বছরগুলোতে ৬ শতাংশের বেশি থাকতে পারে। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায় ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কমে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৪ শতাংশে নামতে পারে। পাকিস্তানের অর্থনীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। নেপালের প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে কমে ২ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে। ২০২৭ সালে তা কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে তা এখনও ২০১০ থেকে ২০১৯ সময়ের গড় ৩ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে নতুন করে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বড় ধরনের শুল্কযুদ্ধ না হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা লাগেনি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত টানাপোড়েনে বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র বদলে যাচ্ছে। এতে অনিশ্চয়তা ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখনও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ফলে বিশ্বের বড় অংশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখনও অনেক দূরে।

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে নিট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে প্রায় ২০২ শতাংশ। রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
২ ঘণ্টা আগে
তৈরি পোশাক খাতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করতে বন্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের আধুনিকায়ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জটিল আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ধুঁকছে শঙ্কায়। যুক্তরাষ্ট্র যখন আকস্মিক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিল, তখন বিশ্বনেতাদের ভয়ের কারণ কেবল গণতন্ত্র বা মানবাধিকার ছিল না।
৮ ঘণ্টা আগে
বিগত কয়েক বছরের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে আধিপত্য বজায় রাখতে এক তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
৯ ঘণ্টা আগে