জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরানে ট্রাম্পের হামলা বড় ধরনের বৈশ্বিক ঝুঁকি তৈরি করেছে: রয়টার্সের বিশ্লেষণ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ৪৮
ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহের হুমকি ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার ভোরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলার অনুমোদন দেন।

উপসাগরীয় অঞ্চল ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এই হামলা এবং তেহরানের প্রতিক্রিয়া একটি উদ্বেগজনক, অনিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

ট্রাম্প জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান এবং তাঁদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোই এই হামলার উদ্দেশ্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের জনগণকে ক্ষমতা নিজের হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মার্কিন বোমা হামলার পর পথ পরিষ্কার হলে তাঁরা যেন সরকার নিজেদের হাতে নেয়। তিনি ঘোষণা করেন, ‘তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।’

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির কারণে ইরানের সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী দুর্বল হয়েছে। গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় তেহরান নিজ দেশের হাজারো নাগরিককেও হত্যা করেছে। যদি সাম্প্রতিক হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং অন্য জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা ক্ষমতা হারান, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো দীর্ঘ যুদ্ধে জড়ানো ছাড়াই ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে পারে।

তবে ইতিহাসে বিদেশি শক্তির বিমান হামলায় গণঅভ্যুত্থান ঘটার নজির খুব কম। এছাড়া শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নতুন কোনো নেতাকে মেনে নেবে কি না, অথবা নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কম শত্রুভাবাপন্ন হবে কি না সেটিও পরিষ্কার নয়। আরও একটি বিষয় হলো, ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি। তিনি ও নেতানিয়াহু গত জুনে দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছে কিন্তু একই হুমকির কথা বলে আবার হামলা চালানো হয়েছে।

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

দুই পক্ষই আগের মতো দীর্ঘ সংঘাত থেকে সরে আসতে পারে। তবে কখন, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

ইরান এরই মধ্যে হামলার জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ—বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে আবুধাবি ও দুবাইয়ের মতো আর্থিক কেন্দ্রগুলো আকাশপথ বন্ধ করতে বাধ্য হলে সেই পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খাবে।

সংঘাত যদি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে অর্থনৈতিক ধাক্কা আরও বাড়তে পারে। মরগ্যান স্ট্যানলির হিসাবে, বড় আকারের মার্কিন হামলার পর ইরানের উল্লেখযোগ্য পাল্টা আঘাতে আরব উপসাগরে ট্যাঙ্কার চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে কয়েক সপ্তাহের জন্য বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি হতে পারে। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বর্তমান প্রায় ৭২ ডলার থেকে আরও অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে।

এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কতটা বাড়বে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে কতদিন সুদের হার উঁচু রাখতে হবে, তা নির্ভর করবে সৌদি আরব তাদের প্রতিদিনের অতিরিক্ত ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে কি না তার ওপর। পাশাপাশি সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর লোহিত সাগরে নতুন হামলার মতো অন্য বিঘ্নও দেখা দিতে পারে। ফলাফল যাই হোক, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হামলা বড় নতুন বৈশ্বিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

লন্ডনভিত্তিক ব্রেকিংভিউজের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাবিষয়ক সম্পাদক জর্জ হের লেখা। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন আব্দুর রহমান সার্জিল

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত