জানুয়ারিতে অর্থনীতি সম্প্রসারণের গতি কমেছে, পিএমআই সূচকে মিশ্র ইঙ্গিত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৩৯
দেশের অর্থনীতি ধীর গতিতে সম্প্রসারিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)। স্ট্রিম গ্রাফিক

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে সম্প্রসারিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সর্বশেষ বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে পিএমআই সূচক আগের মাসের তুলনায় ০ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫৩ দশমিক ৯–এ দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বর মাসে এই সূচক ছিল ৫৪ দশমিক ২।

২০২৫ সালের জুনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি সবচেয়ে ধীর পর্যায়ে নেমে এসেছে। ওই বছরের জুন মাসে পিএমআই ছিল ৫৩ দশমিক ১।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূচকটি এখনো ৫০-এর ওপরে থাকায় অর্থনীতি সম্প্রসারণ পর্যায়েই রয়েছে। তবে বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকা, উৎপাদন খাতে রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমি প্রভাবের কারণে সামগ্রিক গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে।

খাত ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি, উৎপাদন ও সেবা—এই তিন খাতেই সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও গতি ছিল অসম। কৃষি খাত টানা পঞ্চম মাসের মতো সম্প্রসারণে থাকলেও প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। নতুন ব্যবসা ও সামগ্রিক কার্যক্রম বাড়লেও কর্মসংস্থান ও উপকরণ ব্যয় সংকোচনের মধ্যে ছিল। অর্ডার ব্যাকলগও সংকুচিত, যা দুর্বল চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। আমন ধান কাটার মৌসুম শেষ হওয়ার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

উৎপাদন খাত টানা ১৭তম মাসের মতো সম্প্রসারণে থাকলেও ডিসেম্বরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে। নতুন অর্ডার, কারখানার উৎপাদন, আমদানি, কাঁচামালের দাম এবং সরবরাহকারীদের ডেলিভারিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে নতুন রপ্তানি আদেশ, কাঁচামাল ক্রয়, সমাপ্ত পণ্যের মজুত এবং কর্মসংস্থান কমেছে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বল পুনরুদ্ধার এবং উদ্যোক্তাদের সতর্ক অর্ডার দেওয়ার প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে। জানুয়ারিতে অর্ডার ব্যাকলগ আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘সর্বশেষ পিএমআই তথ্য বলছে, অর্থনীতিতে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও এর গতি ধীর হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বল পুনরুদ্ধার এবং সতর্কভাবে অর্ডার দেওয়ার প্রবণতা উৎপাদন খাতের রপ্তানির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, আমন ধান কাটার পর কৃষি খাতেও ধীরগতির লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে।

ডিসেম্বরে সংকোচনের মধ্যে থাকা নির্মাণ খাত জানুয়ারিতে আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম ও উপকরণ ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও কর্মসংস্থান ও অর্ডার ব্যাকলগ এখনো সংকোচনের মধ্যেই রয়েছে। তারল্যসংকট থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণে কিছুটা গতি ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে।

অন্যদিকে, সেবা খাত টানা ১৬তম মাসের মতো সম্প্রসারণে রয়েছে এবং জানুয়ারিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হয়েছে। নতুন ব্যবসা, কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, ব্যয় এবং অর্ডার ব্যাকলগ—সব সূচকই সম্প্রসারণ অঞ্চলে অবস্থান করছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে আশাবাদী ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভবিষ্যৎ ব্যবসা কার্যক্রম সূচক অনুযায়ী, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—সব খাতেই আগামী মাসগুলোতে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করছেন উদ্যোক্তারা। ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বিভিন্ন খাতে ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা থাকায় সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ বজায় রয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের উদ্যোগ ও সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি সহযোগিতায় এমসিসিআই ও পিইবি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে পিএমআই প্রকাশ শুরু করে। কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের ৫০০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ করে এই সূচক তৈরি করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত