বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং তিস্তা ও পদ্মাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের অঙ্গীকার ভারতকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে একে কূটনৈতিক চাপের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিএনপির অবস্থান আগামী দিনে দিল্লির সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে এ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
স্ট্রিম ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও সফট পাওয়ারের সঙ্গে সমন্বিত রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে স্থান পেয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঘোষিত এই ইশতেহার নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই ইশতেহারকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তারা মনে করছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিএনপির এই অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিএনপির ইশতেহারে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের অঙ্গীকার ভারতের দিকেই ইঙ্গিত করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিএনপির ইশতেহারে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, তারা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে না। তারা সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে। এই বিষয়কে সংবাদমাধ্যমগুলো ‘কঠোর অবস্থান’ বা ‘কড়া বার্তা’ হিসেবে দেখছে।
সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন প্রসঙ্গ বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো প্রকার হত্যাকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ ঠেকানোর কথাও রয়েছে দলটির ইশতেহারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি আরও তীব্র হবে। এতদিন সীমান্ত হত্যা নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে যে নমনীয়তা দেখানো হতো সেই সুযোগ আর থাকবে না।

বিএনপির ইশতেহারে আন্তর্জাতিক নদী আইনের আলোকে তিস্তা ও পদ্মাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের অঙ্গীকার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি পানি ইস্যুতে ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। ইশতেহারে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পরিকল্পনা করেছে দলটি। এ ছাড়াও গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। টাইমস নাউ আরও বলছে, বিএনপি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে তাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। একে তারা কেবল কূটনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছে না। তারা একে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এর আলোকে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। প্রতিরক্ষা খাতে বহুমুখী উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর ইঙ্গিতও এতে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ভারতে উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র সবার। তিনি বলেছেন যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। ইশতেহারে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা সেল গঠন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে যে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপির শাসনামলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত হবে তা দেখার বিষয়। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যের বিষয়টিও ভারতীয় বিশ্লেষকদের মাথায় রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামী ভারত বিরোধী বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনডিটিভি আরও বলছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিএনপি নতুন কৌশলের কথা বলেছে। তারা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে। ভারতের বর্তমান সরকার সার্কের চেয়ে বিমসটেক বা বিবিআইএন-এর মতো জোটগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ সার্কে পাকিস্তানের উপস্থিতি রয়েছে। বিএনপি যদি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে চায় তবে তা ভারতের আঞ্চলিক কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এছাড়া বিএনপি আসিয়ান জোটের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর কথাও বলেছে। একে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। ইশতেহারে ‘লুক ইস্ট’ বা পূর্বমুখী নীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।
বিএনপির ইশতেহারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়েও ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেশ কিছু চুক্তি হয়েছিল। বিএনপি বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সকল ‘কালো আইন’ বাতিল করবে। তারা এই খাতের অস্বচ্ছ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি এই ধরনের চুক্তিগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করতে পারে। এই বিষয়টি ভারতের ব্যবসায়িক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিএনপির এই ইশতেহারকে তাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত ভোটারদের মন জয় করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। বিএনপি বোঝাতে চাইছে, তারা ভারতের বিরোধী নয়। তবে তারা ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে না। তারা সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়। একে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ফ্রেন্ড ইয়েস, মাস্টার নো’ বা ‘বন্ধু হ্যাঁ, প্রভু নয়’ নীতি হিসেবে অভিহিত করছে। এই নীতির আলোকে আগামী দিনে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কোন দিকে যাবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যেও এই মনোভাব ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ হস্তক্ষেপ করবে না। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। বিএনপি চাইছে দরকষাকষির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ আদায় করে নিতে। ভারতের নীতিনির্ধারকরা এখন বিএনপির এই নতুন অবস্থানকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন সেটাই দেখার বিষয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও সফট পাওয়ারের সঙ্গে সমন্বিত রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে স্থান পেয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঘোষিত এই ইশতেহার নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই ইশতেহারকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তারা মনে করছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিএনপির এই অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিএনপির ইশতেহারে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের অঙ্গীকার ভারতের দিকেই ইঙ্গিত করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিএনপির ইশতেহারে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, তারা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে না। তারা সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে। এই বিষয়কে সংবাদমাধ্যমগুলো ‘কঠোর অবস্থান’ বা ‘কড়া বার্তা’ হিসেবে দেখছে।
সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন প্রসঙ্গ বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো প্রকার হত্যাকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ ঠেকানোর কথাও রয়েছে দলটির ইশতেহারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি আরও তীব্র হবে। এতদিন সীমান্ত হত্যা নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে যে নমনীয়তা দেখানো হতো সেই সুযোগ আর থাকবে না।

বিএনপির ইশতেহারে আন্তর্জাতিক নদী আইনের আলোকে তিস্তা ও পদ্মাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের অঙ্গীকার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি পানি ইস্যুতে ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। ইশতেহারে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পরিকল্পনা করেছে দলটি। এ ছাড়াও গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। টাইমস নাউ আরও বলছে, বিএনপি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে তাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। একে তারা কেবল কূটনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছে না। তারা একে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এর আলোকে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। প্রতিরক্ষা খাতে বহুমুখী উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর ইঙ্গিতও এতে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ভারতে উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র সবার। তিনি বলেছেন যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। ইশতেহারে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা সেল গঠন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে যে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপির শাসনামলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত হবে তা দেখার বিষয়। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যের বিষয়টিও ভারতীয় বিশ্লেষকদের মাথায় রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামী ভারত বিরোধী বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনডিটিভি আরও বলছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিএনপি নতুন কৌশলের কথা বলেছে। তারা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে। ভারতের বর্তমান সরকার সার্কের চেয়ে বিমসটেক বা বিবিআইএন-এর মতো জোটগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ সার্কে পাকিস্তানের উপস্থিতি রয়েছে। বিএনপি যদি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে চায় তবে তা ভারতের আঞ্চলিক কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এছাড়া বিএনপি আসিয়ান জোটের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর কথাও বলেছে। একে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। ইশতেহারে ‘লুক ইস্ট’ বা পূর্বমুখী নীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।
বিএনপির ইশতেহারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়েও ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেশ কিছু চুক্তি হয়েছিল। বিএনপি বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সকল ‘কালো আইন’ বাতিল করবে। তারা এই খাতের অস্বচ্ছ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি এই ধরনের চুক্তিগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করতে পারে। এই বিষয়টি ভারতের ব্যবসায়িক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিএনপির এই ইশতেহারকে তাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত ভোটারদের মন জয় করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। বিএনপি বোঝাতে চাইছে, তারা ভারতের বিরোধী নয়। তবে তারা ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে না। তারা সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়। একে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ফ্রেন্ড ইয়েস, মাস্টার নো’ বা ‘বন্ধু হ্যাঁ, প্রভু নয়’ নীতি হিসেবে অভিহিত করছে। এই নীতির আলোকে আগামী দিনে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কোন দিকে যাবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যেও এই মনোভাব ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ হস্তক্ষেপ করবে না। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। বিএনপি চাইছে দরকষাকষির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ আদায় করে নিতে। ভারতের নীতিনির্ধারকরা এখন বিএনপির এই নতুন অবস্থানকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন সেটাই দেখার বিষয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত- ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য বাস্তবতায় নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। একদিকে এটি ভারতকে ইউরোপের বিশাল বাজারে আরও শক্ত অবস্থান করে দিবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশের জন্য বাড়াবে অনিশ্চয়তা।
৭ ঘণ্টা আগে
ত্রিপোলি সরকার ও খলিফা হাফতারের চিরচেনা সংঘাতের বাইরে সাইফ গাদ্দাফি ছিলেন লিবিয়ার রাজনীতির এক বিকল্প কণ্ঠ। সম্প্রতি তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সেই তৃতীয় পক্ষের সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল।
১ দিন আগে
রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) বাসা থেকে নির্যাতনের শিকার ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
৩ দিন আগে
আসন্ন নির্বাচনকে ভারত, চীন ও পাকিস্তান ঠিক কীভাবে দেখছে? ভোটের ফলাফল কি সত্যিই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমরা কিছু বিষয় খতিয়ে দেখব।
৪ দিন আগে