জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ট্রাইব্যুনালে ইকবাল করিম ভূঁইয়া

র‌্যাবকে মানুষ হত্যার বৈধ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ৪৮
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গঠনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, র‍্যাব গঠনের আগে অপারেশন ক্লিন হার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদেই হার্ট অ্যাটাকে ১২ জন মারা গেছেন। পরে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল মূলত লাইসেন্স টু কিল বা মানুষ হত্যার বৈধ লাইসেন্স। দায়মুক্তিই বাহিনীকে আরও বেপরোয়া করে তোলে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচারে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন তিনি।

গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে চলে সাক্ষ্যগ্রহণ।

প্রসিকিউশনের পক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া তাঁর জবানবন্দিতে সেনাবাহিনীতে কীভাবে ডিপ স্টেট তৈরি করা হয়েছিল এবং জিয়াউল আহসানের মতো কর্মকর্তারা কীভাবে কিলিং মেশিনে পরিণত হয়েছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। জবানবন্দি অসমাপ্ত থাকায় ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল সোমবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

ইকবাল করিম বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই দেশের মুখ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিল। সে সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অনেক রাজনীতিবিদকে তুলে নিয়ে আয়নাঘরখ্যাত গোপন বন্দিশালায় অমানবিক নির্যাতন করেছিল।

জবানবন্দিতে তিনি আলোচিত ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। বলেন, ‘ডিজিএফআই অনেক মন্ত্রী ও রাজনীতিককে তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা তারেক রহমানকেও ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন করে। বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে আটকে রাখা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়, এটা তারা ভাবতে শুরু করে।’

পরে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাক্ষী ওপেন কোর্টে বলেছেন– ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে ডিজিএফআই রাজনীতিকদের তুলে নিয়ে নির্যাতন করত। তিনি (ইকবাল করিম ভূঁইয়া) তারেক রহমানের উদাহরণ টেনে দেখিয়েছেন– কীভাবে ডিজিএফআইকে ব্যবহার করে একটি অপরাধের নেক্সাস তৈরি করা হয়েছিল।’

পরে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া জবানবন্দিতে ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সংঘটিত সব অন্যায়ের সঙ্গে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার বার্তা দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর গৌরবময় অধ্যায় রয়েছে। দেশ গঠনে, বিপদে-আপদে বা কোনো সংকটে পড়লে জনগণ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও সেনাপ্রধান জানমালের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললে দেশের মানুষ স্বস্তি পেয়েছিল। অথচ দীর্ঘ ৪০ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করা এবং বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইকবাল করিম ভূঁইয়া বাহিনী সম্পর্কে অনেক গীবত করেছেন। তাঁর কাছ থেকে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য আমি আশা করিনি।

সাবেক সেনাপ্রধানের বক্তব্য সত্য কিনা– সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নাগরিকদের ওপর থাকুক। তবে তাঁর সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা ট্রাইব্যুনালই ভালো বলতে পারবেন। জবানবন্দি এখনো শেষ হয়নি। শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগটি ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের। ওইদিন রাতে গাজীপুরের পুবাইলে তাঁর উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। এ সময় বরগুনার পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার দায় আনা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটিও একই ধরনের, যেখানে আরও ৫০ জনকে হত্যার তথ্য রয়েছে।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত