অকটেন-ফার্নেস নিয়ে দেশে দুই জাহাজ, স্বস্তির আশা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা অকটেনবাহী জাহাজ এমটি সেন্ট্রাল স্টার। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অকটেন ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে জাহাজ দুটি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম জানান, ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে বুধবার রাতে বন্দরে আসে। বর্তমানে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি ভিতল এই চালান সরবরাহ করেছে।

অন্যদিকে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজ ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে একই রাতে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। এটি বর্তমানে চার্লি অ্যাংকরেজে নোঙর করা আছে।

জাহাজ থেকে অকটেন খালাস ও বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানান, দেশে বর্তমানে অকটেনের তীব্র সংকট নেই এবং নতুন এই চালান সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে। আগামী দুদিনের মধ্যে খালাস কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অকটেন মূলত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে ব্যবহৃত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগ্রাসন শুরু করে। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরই জেরে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেনের ঘাটতি দেখা দেয়।

অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাওয়া যায়নি এবং ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙাতে দেখা গেছে। এক মাস পেরোলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নতুন এই জাহাজের আগমনে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন বিপিসির কর্মকর্তারা।

দেশে বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাকি জ্বালানি তেল পরিশোধিত অবস্থায় সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশ থেকে আনা হয়।

বিপিসির তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহের মধ্যে অকটেনের অংশ ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। এ সময়ে দেশে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং বাকিটা আমদানি করা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অকটেনের মজুত ছিল ১০ হাজার ৫২৬ টন। মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২২২ টন অকটেন বিক্রি হলেও সরবরাহ চাপের কারণে এপ্রিলে তা কমে দৈনিক ১ হাজার ১১৪ টনে নেমে আসে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির পর মার্চে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে ১০টি জাহাজ দেশে পৌঁছালেও নির্ধারিত আরও সাতটি জাহাজ আসতে পারেনি। এছাড়া গত মাসে অকটেন আমদানির কোনো নির্ধারিত সূচি ছিল না।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। এ মাসে আরও প্রায় সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পর্কিত