সুমন সুবহান

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির মুখ দেখেছিল। পরবর্তীতে এপ্রিলের শেষভাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্ধিত করার ঘোষণা দিলেও, মাঠপর্যায়ের বর্তমান বাস্তবতা এক ভিন্ন ও আশঙ্কাজনক বার্তা দিচ্ছে।
গত বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোর পর্যন্ত পারস্য উপসাগর এবং কুয়েতের আকাশে যে নতুন করে বারুদের গন্ধ ছড়িয়েছে, তা তিন মাস বয়সী এই যুদ্ধকে পুনরায় সর্বাত্মক রূপে ফিরিয়ে আনার হুমকি তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ট্যাংকারে ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ এবং এর জবাবে বন্দর আব্বাসে পেন্টাগনের ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে সরাসরি বিমান হামলা পরিস্থিতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেয়। এর পরপরই কুয়েতের মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি করেছে।
কুয়েতজুড়ে বেজে ওঠা যুদ্ধকালীন সাইরেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্রিয় অবস্থান প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক শান্তি কতটা ভঙ্গুর। এমতাবস্থায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে—পর্দার আড়ালের নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা ও শান্তি আলোচনা ছাপিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কি তবে আসলেই ভেস্তে যেতে বসেছে?
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালির ভূকৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে ইরানের কড়া সামরিক পাহারা এবং আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয় অবস্থান এই সংকটের মূল চালিকাশক্তি।
সম্প্রতি প্রণালিতে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধের ঘটনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বিতর্কিত টোল আরোপের অভিযোগ—উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে একবারে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
ইরানের দাবি: এআইএস বিতর্ক ও সার্বভৌমত্বের পাহারা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌশাখার মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের ফলেই এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। তেহরানের সামরিক কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন যে, একটি বিশাল মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির স্পর্শকাতর জলসীমায় প্রবেশ করার প্রাক্কালে তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বা রাডার ট্র্যাকিং সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ রুটে কোনো বড় জাহাজের রাডার বন্ধ রাখা কেবল নৌ-নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি ইরানের জলসীমায় গুপ্তচরবৃত্তি বা বেআইনি অনুপ্রবেশের একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
এই সন্দেহজনক আচরণের প্রেক্ষিতে ইরানি নৌবাহিনী তাদের নিয়মমাফিক প্রোটোকল অনুযায়ী জাহাজটিকে থামার সংকেত দেয়, কিন্তু মার্কিন ট্যাংকারটি তা উপেক্ষা করে অগ্রসর হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে আইআরজিসি নেভি ওই ট্যাংকারটিকে লক্ষ্য করে চূড়ান্ত সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করতে বাধ্য হয়। তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনীর এই অনমনীয় ও দ্রুত পদক্ষেপের মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সুরক্ষায় থাকা ওই তেলবাহী ট্যাংকারটি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে এবং হরমুজ প্রণালির মূল রুট থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযোগ: অবৈধ টোল ও নৌ-অবরোধের রাজনীতি
ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জলদস্যুতা এবং মুক্ত বাণিজ্য রুটকে জিম্মি করার একটি আগ্রাসী প্রয়াস হিসেবে দেখছে। হোয়াইট হাউজ এবং সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল অভিযোগ হলো, ইরান আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পারস্য উপসাগরে সম্প্রতি ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি নতুন কৃত্রিম সংস্থা গঠন করেছে, যার মূল উদ্দেশ্যই হলো এই কৌশলগত রুট দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজকে নিয়মতান্ত্রিক ব্ল্যাকমেইল করা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই নতুন ট্রাইব্যুনালের আড়ালে ইরান প্রতিটি সাধারণ কার্গো ও জ্বালানি পরিবাহী জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অবৈধ ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি কোনো একক দেশের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা টোল গেট নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত জলপথ। এই মাশুল আদায়ের জোরপূর্বক প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্যের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করে মার্কিন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইরানি কর্তৃপক্ষের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এই রুট রক্ষায় সামরিক পাহারার ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার মধ্যরাতের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও সামরিক সমীকরণ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এক চরম ও সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের এক বিশেষ যুদ্ধকালীন জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করে যে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় মোতায়েনকৃত মার্কিন নৌবহর এবং সেই সাথে ওই রুটে চলাচলকারী সাধারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সার্বিক সুরক্ষার জন্য তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের অফিশিয়াল মিলিটারি ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় সরাসরি মারাত্মক হুমকি তৈরি করে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা মোট ৫টি ওয়ান-ওয়ে আত্মঘাতী অ্যাটাক ড্রোনকে মার্কিন অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মাঝআকাশেই চিহ্নিত এবং সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার পরপরই পেন্টাগন এবং মার্কিন বিমানবাহিনী কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে একযোগে এক সুনির্দিষ্ট ও বিধ্বংসী কাউন্টার-অফেনসিভ বা পাল্টা বিমান হামলা পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
মার্কিন গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের নিখুঁত নজরদারি ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরান যেন ষষ্ঠ ড্রোনটি কোনোভাবেই উৎক্ষেপণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ছিল এই আকস্মিক মার্কিন অভিযানের মূল সামরিক লক্ষ্য। মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইরানের অন্যতম কৌশলগত বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন ড্রোন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত নিখুঁত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি অনুসারে, এই নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি থেকেই মূলত হরমুজ প্রণালির দিকে আত্মঘাতী ড্রোনগুলো পরিচালনা করা হচ্ছিল এবং এই নিখুঁত ও আকস্মিক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতাকে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ওয়াশিংটন এই আকস্মিক ও সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে চালানো হামলাকে সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নিজেদের জানমালের সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ‘প্রতিরক্ষামূলক প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম আঘাত হিসেবে বিশ্ব দরবারে জোরালোভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে বিন্দুমাত্র পিছু না হটে অত্যন্ত অনমনীয় ও কঠোর রণকৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। ইরানের আধা-সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির মূল সামরিক কমান্ডের এক জরুরি যুদ্ধকালীন বিবৃতি অনুসারে, এই মার্কিন বিমান হামলার তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত প্রতিশোধ হিসেবে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ঠিক ৪টা ৫০ মিনিটে একযোগে বিশাল পাল্টা আঘাত হানা হয়। আইআরজিসির রকেট ও মিসাইল উইং কুয়েতের ভূখণ্ডে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটিকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন নিক্ষেপ করে।
কুয়েতের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, এই আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলার পরপরই কুয়েত সিটিসহ সমগ্র দেশজুড়ে উচ্চ শব্দে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েতের জাতীয় প্রতিরক্ষাবাহিনী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সাথে যৌথ সমন্বয় করে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মাঝআকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করে।
এই চরম উত্তেজনার মাঝে আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব এক টেলিভিশন ভাষণে স্পষ্টভাবে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব এভাবেই সরাসরি দেওয়া হবে এবং এরপর যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কোনো প্রকার সামরিক পদক্ষেপ বা হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে তার পরবর্তী সামরিক পরিণতি হবে আরও বহুগুণ কঠোর ও ভয়াবহ।
বন্দর আব্বাস ও কুয়েতের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের পরও আন্তর্জাতিক কূটনীতির জানালা কিন্তু পুরোপুরি থমকে যায়নি। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিচার্স ইনস্টিটিউট এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক থিঙ্কট্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক কৌশলগত বিশ্লেষণ ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আসলে চলমান যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার কোনো চূড়ান্ত প্রয়াস নয়, বরং এটি আসন্ন শান্তি আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান জাঁদরেলভাবে তুলে ধরার এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার একটি অত্যন্ত হিসেবি ‘কৌশলগত চাপ’ বা বারগেইনিং চিপস হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই মূলত এই সীমিত মাত্রার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিজেদের রেডলাইন বা চূড়ান্ত সীমানা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা, সমস্ত সামুদ্রিক মাইন অপসারণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা; আর এই লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও সামরিক শক্তিতে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের প্রধান শর্ত হলো মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারস্য উপসাগরে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আদায় করা। ইরান মূলত এই ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে আগ্রাসনের মুখে পিছু না হটার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, যাতে আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমমর্যাদা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
কুয়েতে চালানো এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মাথায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এক নাটকীয় ও আশাব্যঞ্জক মোড় লক্ষ্য করা গেছে। ওমান ও কাতারের ব্যাক-চ্যানেল বা পর্দার আড়ালের মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক তৈরি হয়েছে। এই নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রাথমিক শর্তানুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং পারস্য উপসাগরের নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা শুরু করা।
এই খসড়া সমঝোতার আওতায় তেহরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েনকৃত তাদের সমস্ত সামুদ্রিক মাইন সম্পূর্ণ অপসারণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, যার বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে ইরানের ওপর আরোপিত তাদের কঠোর নৌ-অবরোধ ধীরে ধীরে শিথিল ও প্রত্যাহার করে নেবে বলে পেন্টাগন সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে এই আপাত স্বস্তিদায়ক খসড়া সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের পথে এখনও এক বিশাল রাজনৈতিক ও কৌশলগত অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, কারণ এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষর ও অনুমোদন এখনও বাকি।
হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারকদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, ওমান সাগর এবং লেবানন সীমান্তকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি যেভাবে বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বর্তমান বাস্তবতায় বন্দর আব্বাস কিংবা কুয়েতের সামরিক ঘাঁটির মতো আরেকটি ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বা মাঠপর্যায়ের আকস্মিক কোনো সামরিক সংঘর্ষ এই ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা সমীকরণটি আসলে এখন এক অতি সূক্ষ্ম সুতোর ওপর ঝুলছে, যেখানে একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক শান্তির সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সর্বাত্মক ও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের পথও সমানভাবে খোলা রয়েছে।
পারস্য উপসাগরের উত্তপ্ত জলসীমা থেকে শুরু করে কুয়েতের মার্কিন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত বিস্তৃত এই অভূতপূর্ব পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে ওমান ও কাতারের ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির মাধ্যমে ৬০ দিনের বর্ধিত যুদ্ধবিরতি এবং খসড়া সমঝোতা স্মারকের একটি ক্ষীণ আশার আলো দেখা গেলেও, মাঠপর্যায়ের সমীকরণ এখনও অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক।
হরমুজ প্রণালির ‘টোল গেট’ বিতর্ক, রাডার ট্র্যাকিং বন্ধের সংঘাত এবং দুই দেশের অনমনীয় ভূকৌশলগত অবস্থান প্রমাণ করে যে কোনো পক্ষই সহজে নিজেদের আধিপত্য ছেড়ে দেবে না। ওয়াশিংটন যেখানে নৌ-নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বদ্ধপরিকর, তেহরান সেখানে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সার্বভৌমত্বের পূর্ণ স্বীকৃতি আদায়ে মরিয়া। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াটি যেকোনো মুহূর্তে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে।
এই ভঙ্গুর পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কৌশলবিদরা মূলত দুটি ভিন্ন সমীকরণ দেখছেন। প্রথমত, যদি খসড়া চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন এবং ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণ সম্পন্ন করে, তবে অঞ্চলটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক শান্তির পথে হাঁটবে যা বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্থিতিশীল রাখবে।
বিপরীতপক্ষে, ওমান সাগর বা লেবানন সীমান্তের মতো উত্তপ্ত উপজাতীয় অঞ্চলগুলোতে যদি পুনরায় বন্দর আব্বাস কিংবা কুয়েতের মতো কোনো সামরিক ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে এই আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্রুত সর্বাত্মক রূপ নিতে পারে।
এমন নেতিবাচক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর আইআরজিসির বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তার জবাবে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের ব্যাপক বিমান হামলা সমগ্র অঞ্চলটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির মুখ দেখেছিল। পরবর্তীতে এপ্রিলের শেষভাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্ধিত করার ঘোষণা দিলেও, মাঠপর্যায়ের বর্তমান বাস্তবতা এক ভিন্ন ও আশঙ্কাজনক বার্তা দিচ্ছে।
গত বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোর পর্যন্ত পারস্য উপসাগর এবং কুয়েতের আকাশে যে নতুন করে বারুদের গন্ধ ছড়িয়েছে, তা তিন মাস বয়সী এই যুদ্ধকে পুনরায় সর্বাত্মক রূপে ফিরিয়ে আনার হুমকি তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ট্যাংকারে ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ এবং এর জবাবে বন্দর আব্বাসে পেন্টাগনের ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে সরাসরি বিমান হামলা পরিস্থিতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেয়। এর পরপরই কুয়েতের মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি করেছে।
কুয়েতজুড়ে বেজে ওঠা যুদ্ধকালীন সাইরেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্রিয় অবস্থান প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক শান্তি কতটা ভঙ্গুর। এমতাবস্থায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে—পর্দার আড়ালের নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা ও শান্তি আলোচনা ছাপিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কি তবে আসলেই ভেস্তে যেতে বসেছে?
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালির ভূকৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে ইরানের কড়া সামরিক পাহারা এবং আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয় অবস্থান এই সংকটের মূল চালিকাশক্তি।
সম্প্রতি প্রণালিতে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধের ঘটনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বিতর্কিত টোল আরোপের অভিযোগ—উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে একবারে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
ইরানের দাবি: এআইএস বিতর্ক ও সার্বভৌমত্বের পাহারা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌশাখার মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের ফলেই এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। তেহরানের সামরিক কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন যে, একটি বিশাল মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির স্পর্শকাতর জলসীমায় প্রবেশ করার প্রাক্কালে তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বা রাডার ট্র্যাকিং সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ রুটে কোনো বড় জাহাজের রাডার বন্ধ রাখা কেবল নৌ-নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি ইরানের জলসীমায় গুপ্তচরবৃত্তি বা বেআইনি অনুপ্রবেশের একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
এই সন্দেহজনক আচরণের প্রেক্ষিতে ইরানি নৌবাহিনী তাদের নিয়মমাফিক প্রোটোকল অনুযায়ী জাহাজটিকে থামার সংকেত দেয়, কিন্তু মার্কিন ট্যাংকারটি তা উপেক্ষা করে অগ্রসর হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে আইআরজিসি নেভি ওই ট্যাংকারটিকে লক্ষ্য করে চূড়ান্ত সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করতে বাধ্য হয়। তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনীর এই অনমনীয় ও দ্রুত পদক্ষেপের মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সুরক্ষায় থাকা ওই তেলবাহী ট্যাংকারটি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে এবং হরমুজ প্রণালির মূল রুট থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযোগ: অবৈধ টোল ও নৌ-অবরোধের রাজনীতি
ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জলদস্যুতা এবং মুক্ত বাণিজ্য রুটকে জিম্মি করার একটি আগ্রাসী প্রয়াস হিসেবে দেখছে। হোয়াইট হাউজ এবং সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল অভিযোগ হলো, ইরান আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পারস্য উপসাগরে সম্প্রতি ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি নতুন কৃত্রিম সংস্থা গঠন করেছে, যার মূল উদ্দেশ্যই হলো এই কৌশলগত রুট দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজকে নিয়মতান্ত্রিক ব্ল্যাকমেইল করা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই নতুন ট্রাইব্যুনালের আড়ালে ইরান প্রতিটি সাধারণ কার্গো ও জ্বালানি পরিবাহী জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অবৈধ ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি কোনো একক দেশের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা টোল গেট নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত জলপথ। এই মাশুল আদায়ের জোরপূর্বক প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্যের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করে মার্কিন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইরানি কর্তৃপক্ষের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এই রুট রক্ষায় সামরিক পাহারার ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার মধ্যরাতের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও সামরিক সমীকরণ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এক চরম ও সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের এক বিশেষ যুদ্ধকালীন জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করে যে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় মোতায়েনকৃত মার্কিন নৌবহর এবং সেই সাথে ওই রুটে চলাচলকারী সাধারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সার্বিক সুরক্ষার জন্য তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের অফিশিয়াল মিলিটারি ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় সরাসরি মারাত্মক হুমকি তৈরি করে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা মোট ৫টি ওয়ান-ওয়ে আত্মঘাতী অ্যাটাক ড্রোনকে মার্কিন অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মাঝআকাশেই চিহ্নিত এবং সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার পরপরই পেন্টাগন এবং মার্কিন বিমানবাহিনী কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে একযোগে এক সুনির্দিষ্ট ও বিধ্বংসী কাউন্টার-অফেনসিভ বা পাল্টা বিমান হামলা পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
মার্কিন গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের নিখুঁত নজরদারি ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরান যেন ষষ্ঠ ড্রোনটি কোনোভাবেই উৎক্ষেপণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ছিল এই আকস্মিক মার্কিন অভিযানের মূল সামরিক লক্ষ্য। মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইরানের অন্যতম কৌশলগত বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন ড্রোন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত নিখুঁত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি অনুসারে, এই নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি থেকেই মূলত হরমুজ প্রণালির দিকে আত্মঘাতী ড্রোনগুলো পরিচালনা করা হচ্ছিল এবং এই নিখুঁত ও আকস্মিক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতাকে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ওয়াশিংটন এই আকস্মিক ও সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে চালানো হামলাকে সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নিজেদের জানমালের সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ‘প্রতিরক্ষামূলক প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম আঘাত হিসেবে বিশ্ব দরবারে জোরালোভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে বিন্দুমাত্র পিছু না হটে অত্যন্ত অনমনীয় ও কঠোর রণকৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। ইরানের আধা-সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির মূল সামরিক কমান্ডের এক জরুরি যুদ্ধকালীন বিবৃতি অনুসারে, এই মার্কিন বিমান হামলার তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত প্রতিশোধ হিসেবে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ঠিক ৪টা ৫০ মিনিটে একযোগে বিশাল পাল্টা আঘাত হানা হয়। আইআরজিসির রকেট ও মিসাইল উইং কুয়েতের ভূখণ্ডে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটিকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন নিক্ষেপ করে।
কুয়েতের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, এই আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলার পরপরই কুয়েত সিটিসহ সমগ্র দেশজুড়ে উচ্চ শব্দে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েতের জাতীয় প্রতিরক্ষাবাহিনী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সাথে যৌথ সমন্বয় করে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মাঝআকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করে।
এই চরম উত্তেজনার মাঝে আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব এক টেলিভিশন ভাষণে স্পষ্টভাবে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব এভাবেই সরাসরি দেওয়া হবে এবং এরপর যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কোনো প্রকার সামরিক পদক্ষেপ বা হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে তার পরবর্তী সামরিক পরিণতি হবে আরও বহুগুণ কঠোর ও ভয়াবহ।
বন্দর আব্বাস ও কুয়েতের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের পরও আন্তর্জাতিক কূটনীতির জানালা কিন্তু পুরোপুরি থমকে যায়নি। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিচার্স ইনস্টিটিউট এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক থিঙ্কট্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক কৌশলগত বিশ্লেষণ ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আসলে চলমান যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার কোনো চূড়ান্ত প্রয়াস নয়, বরং এটি আসন্ন শান্তি আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান জাঁদরেলভাবে তুলে ধরার এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার একটি অত্যন্ত হিসেবি ‘কৌশলগত চাপ’ বা বারগেইনিং চিপস হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই মূলত এই সীমিত মাত্রার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিজেদের রেডলাইন বা চূড়ান্ত সীমানা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা, সমস্ত সামুদ্রিক মাইন অপসারণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা; আর এই লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও সামরিক শক্তিতে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের প্রধান শর্ত হলো মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারস্য উপসাগরে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আদায় করা। ইরান মূলত এই ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে আগ্রাসনের মুখে পিছু না হটার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, যাতে আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমমর্যাদা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
কুয়েতে চালানো এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মাথায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এক নাটকীয় ও আশাব্যঞ্জক মোড় লক্ষ্য করা গেছে। ওমান ও কাতারের ব্যাক-চ্যানেল বা পর্দার আড়ালের মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক তৈরি হয়েছে। এই নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রাথমিক শর্তানুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং পারস্য উপসাগরের নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা শুরু করা।
এই খসড়া সমঝোতার আওতায় তেহরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েনকৃত তাদের সমস্ত সামুদ্রিক মাইন সম্পূর্ণ অপসারণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, যার বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে ইরানের ওপর আরোপিত তাদের কঠোর নৌ-অবরোধ ধীরে ধীরে শিথিল ও প্রত্যাহার করে নেবে বলে পেন্টাগন সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে এই আপাত স্বস্তিদায়ক খসড়া সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের পথে এখনও এক বিশাল রাজনৈতিক ও কৌশলগত অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, কারণ এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষর ও অনুমোদন এখনও বাকি।
হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারকদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, ওমান সাগর এবং লেবানন সীমান্তকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি যেভাবে বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বর্তমান বাস্তবতায় বন্দর আব্বাস কিংবা কুয়েতের সামরিক ঘাঁটির মতো আরেকটি ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বা মাঠপর্যায়ের আকস্মিক কোনো সামরিক সংঘর্ষ এই ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা সমীকরণটি আসলে এখন এক অতি সূক্ষ্ম সুতোর ওপর ঝুলছে, যেখানে একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক শান্তির সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সর্বাত্মক ও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের পথও সমানভাবে খোলা রয়েছে।
পারস্য উপসাগরের উত্তপ্ত জলসীমা থেকে শুরু করে কুয়েতের মার্কিন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত বিস্তৃত এই অভূতপূর্ব পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে ওমান ও কাতারের ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির মাধ্যমে ৬০ দিনের বর্ধিত যুদ্ধবিরতি এবং খসড়া সমঝোতা স্মারকের একটি ক্ষীণ আশার আলো দেখা গেলেও, মাঠপর্যায়ের সমীকরণ এখনও অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক।
হরমুজ প্রণালির ‘টোল গেট’ বিতর্ক, রাডার ট্র্যাকিং বন্ধের সংঘাত এবং দুই দেশের অনমনীয় ভূকৌশলগত অবস্থান প্রমাণ করে যে কোনো পক্ষই সহজে নিজেদের আধিপত্য ছেড়ে দেবে না। ওয়াশিংটন যেখানে নৌ-নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বদ্ধপরিকর, তেহরান সেখানে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সার্বভৌমত্বের পূর্ণ স্বীকৃতি আদায়ে মরিয়া। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াটি যেকোনো মুহূর্তে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে।
এই ভঙ্গুর পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কৌশলবিদরা মূলত দুটি ভিন্ন সমীকরণ দেখছেন। প্রথমত, যদি খসড়া চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন এবং ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণ সম্পন্ন করে, তবে অঞ্চলটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক শান্তির পথে হাঁটবে যা বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্থিতিশীল রাখবে।
বিপরীতপক্ষে, ওমান সাগর বা লেবানন সীমান্তের মতো উত্তপ্ত উপজাতীয় অঞ্চলগুলোতে যদি পুনরায় বন্দর আব্বাস কিংবা কুয়েতের মতো কোনো সামরিক ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে এই আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্রুত সর্বাত্মক রূপ নিতে পারে।
এমন নেতিবাচক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর আইআরজিসির বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তার জবাবে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের ব্যাপক বিমান হামলা সমগ্র অঞ্চলটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

সমকালীন ভারতীয় রাজনীতিতে আদর্শিক অবস্থানের সাথে বাস্তবতার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে, তার ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে ধরা যায়।
৮ ঘণ্টা আগে
ড. জাইদি সাত্তার, বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বিশেষজ্ঞ। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, আগামী জাতীয় বাজেট, রাজস্ব সংস্কারসহ নানা বিষয় নিয়ে স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
১২ ঘণ্টা আগে
বৈশ্বিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জ্বালানি প্রবাহের এক সম্মিলন বিন্দুতে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান। এই জলরাশি কেবল বাংলাদেশের নয়; বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানির সিংহভাগই এই উপসাগর নির্ভর, যা একইসঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক সহজ ও বিকল্প মাধ্যম।
১ দিন আগে
দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি সরকারের তিন মাস পেরিয়েছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায় নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনকে সাধারণত ‘মধুচন্দ্রিমা সময়’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়—যে সময়ে জনগণ নতুন নেতৃত্বকে বাড়তি আস্থা, রাজনৈতিক সুযোগ এবং প্রত্যাশার সুবিধা দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতির এক অস্থির সন্ধিক্ষণে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচ
২ দিন আগে