leadT1ad

বাজেটে কর্মসংস্থানের বৃহৎ পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে শঙ্কা

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ২১: ৪৫
বিপুল কর্মসংস্থান আদৌ সম্ভব কিনা, তা সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রযুক্তিখাতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন এবং ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভ খাতে ৮ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও শিল্পায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৃহৎ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিনিয়োগ ও সুশাসন। কিন্তু বাজেটে এই বিষয়ে সরকারের কনক্রিট কোনো ঘোষণা নেই। ফলে বিপুল কর্মসংস্থান আদৌ সম্ভব কিনা, তা সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের প্রস্তাব নতুন কিছু না। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে আগেই এসেছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্বে থাকা অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর স্ট্রিমকে বলেন, কর্মসংস্থান নির্ভর করে বিনিয়োগের ওপর। কিন্তু বিনিয়োগের জন্য সরকার বাজেটে কনক্রিট কোনো ঘোষণা দেয়নি। আবার বিনিয়োগের জন্য সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ দরকার। এটি এখন খুবই সংকটাপন্ন। ফলে বৃহৎ এই কর্মসংস্থান পরিকল্পনা সরকার কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা শঙ্কার কথা জানালেও উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে সুশাসনের ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের কাঠামোগত ভারসাম্য আনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গত ১১ জুন বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কৌশলে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদামাফিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।

প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে বিশেষ ছাড়

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কনটেন্ট তৈরি উৎসাহিত করতে খাতটি থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ কর এবং ভ্যাটমুক্ত করার প্রস্তাব বাজেটে রাখা হয়েছে। এছাড়া আইটি খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ তহবিল এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে কর্মসংস্থান

বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) বিকাশে বিশেষায়িত জোন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর্ট, সংগীত, থিয়েটার ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে বিশেষায়িত জোন গড়ে তুলে এ খাতের শিল্পী-কলাকুশলীদের জীবনমান উন্নয়ন ও জনসাধারণের চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার, যার মধ্য দিয়ে সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

জেলা-উপজেলায় কর্মসংস্থান কেন্দ্র

সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা-উপজেলা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ বা কর্মসংস্থান কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ বাজেটে রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে উপযুক্ত চাকরিদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি চাকরিপ্রার্থীর যেসব দক্ষতার ঘাটতি থাকবে, সরকারি খরচে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নিশ্চয়তা দিতে ব্যক্তি শ্রেণিতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট আয়কর কাঠামো এবং করপোরেট কর হার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, নীতির এই ধারাবাহিকতা ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাবে এবং বন্দর ও টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামো খাতে আন্তর্জাতিক মানের গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। বাজেট বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে শিল্পায়নে প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহ ও কর্মসংস্থান বাড়াবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত