স্ট্রিম প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত ও সমন্বিত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘রিভাইভিং প্রাইভেট সেক্টর-লেড ইকোনমিক গ্রোথ: ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ ফেসিং দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি নীতিপ্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কঠোর ঋণ পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক খাতে চাপের কারণে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন নীতিনির্ধারকদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য শক্তিশালী করা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ থাকলেও ২০২২ সালের পর থেকে বৈশ্বিক ধাক্কা, নীতিগত দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের কারণে অর্থনীতির গতি কমে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ হ্রাস এবং ঋণ সংকোচন ব্যবসায়িক আস্থাকে প্রভাবিত করছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাত, রপ্তানি প্রতিযোগিতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দেশের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত সংস্কার না হলে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবনে প্রতিবেদনে সাতটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো— সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ঋণ টেকসইতা, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন।
বক্তারা বলেন, নিম্ন রাজস্ব আহরণ এবং বৈদেশিক ঋণের ক্রমবর্ধমান পরিশোধের চাপ সরকারের আর্থিক নীতির পরিসর সংকুচিত করেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও সুশাসনের দুর্বলতার কারণে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে, যা ঋণপ্রবাহ ব্যাহত করে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।
তারা আরও বলেন, দেশের রপ্তানি আয় মূলত তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অর্থনীতি কাঠামোগত ঝুঁকিতে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনাময় খাত গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি।
এ ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ সংকট ও উচ্চ ব্যয় শিল্প উৎপাদনশীলতা এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি দক্ষতার ঘাটতির কারণে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া উচিৎ।
এমসিসিআই নেতারা বলেন, অর্থনীতিতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশকে আরও স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সমন্বিত সংস্কার রোডম্যাপ তুলে ধরাই এই প্রতিবেদনের লক্ষ্য।
এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত ও সমন্বিত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘রিভাইভিং প্রাইভেট সেক্টর-লেড ইকোনমিক গ্রোথ: ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ ফেসিং দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি নীতিপ্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কঠোর ঋণ পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক খাতে চাপের কারণে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন নীতিনির্ধারকদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য শক্তিশালী করা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ থাকলেও ২০২২ সালের পর থেকে বৈশ্বিক ধাক্কা, নীতিগত দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের কারণে অর্থনীতির গতি কমে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ হ্রাস এবং ঋণ সংকোচন ব্যবসায়িক আস্থাকে প্রভাবিত করছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাত, রপ্তানি প্রতিযোগিতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দেশের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত সংস্কার না হলে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবনে প্রতিবেদনে সাতটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো— সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ঋণ টেকসইতা, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন।
বক্তারা বলেন, নিম্ন রাজস্ব আহরণ এবং বৈদেশিক ঋণের ক্রমবর্ধমান পরিশোধের চাপ সরকারের আর্থিক নীতির পরিসর সংকুচিত করেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও সুশাসনের দুর্বলতার কারণে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে, যা ঋণপ্রবাহ ব্যাহত করে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।
তারা আরও বলেন, দেশের রপ্তানি আয় মূলত তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অর্থনীতি কাঠামোগত ঝুঁকিতে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনাময় খাত গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি।
এ ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ সংকট ও উচ্চ ব্যয় শিল্প উৎপাদনশীলতা এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি দক্ষতার ঘাটতির কারণে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া উচিৎ।
এমসিসিআই নেতারা বলেন, অর্থনীতিতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশকে আরও স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সমন্বিত সংস্কার রোডম্যাপ তুলে ধরাই এই প্রতিবেদনের লক্ষ্য।
এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

জ্বালানি তেল সরবরাহে বাংলাদেশকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত ও চীন। দেশ দুটির রাষ্ট্রদূতরা অর্থ এবং জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠকের পর এই আগ্রহ প্রকাশ করে।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীতে নিজেদের প্রধান কার্যালয়ে নতুন একটি এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার চালু করেছে বাংলালিংক। সোমবার (৯ মার্চ) ফোরথট পিআর ও এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী মোহতারিমা রহমানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের যথাযথ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় এবং আঞ্চলিক ‘মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল’ গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
৪ ঘণ্টা আগে
বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার (রিপ্যাট্রিয়েশন) প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
৬ ঘণ্টা আগে