তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১৯: ২৭
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) ব্যাংক খাতে ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে এই সময়ে খেলাপি বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, পুরোনো ঋণগুলো খেলাপি হয়ে পড়েছে। এছাড়া যেসব ঋণ নবায়ন করা হয়েছিল, তাও খেলাপি হয়ে পড়ছে। সবমিলিয়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা গত মার্চ শেষে বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমলেও, পরের প্রান্তিকে তা বেড়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বের ঋণ ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, গড়ে ১০ শতাংশ ঋণের সুদ বাড়লেও, বছরে ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা সুদ বাড়ার কথা। সে হিসাবে তিন মাসে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ বাড়ার কথা। তবে বেড়েছে মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা। এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, ব্যাংকগুলো ঋণ আদায় করছে, পরে তা বিতরণ করছে না। ফলে প্রকৃত ঋণ কমে আসছে।

জানা যায়, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে এসব ব্যাংকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমেছে। সবমিলিয়ে ওই সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের মেয়াদে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র দেখানো শুরু হয়। আবার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক গ্রাহককে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ফলে খেলাপি ঋণ হুঁ হুঁ করে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়। তাতে খেলাপি ঋণ কমে আসে।

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রার প্রভাবেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত