ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফ (বামে) এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। কোলাজ

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে প্রসিকিউশন কার্যালয়ের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি বিমান বাহিনীর নিজস্ব বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে নিজ বাসা থেকে আটক করে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে তাঁকে আটক করা হয়।

উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ইলিয়াস আলীকে গুমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে আবেদন করা হয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী এবং তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এর আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে আর্মার্ড কোরে যোগদান করেন। পরে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেষণে র‍্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। সে সময় র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জিয়াউল আহসানের ‘রানার’ হিসেবে তিনি দায়িত্বরত ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গেই থাকতেন।

ইমরুল কায়েস জানান, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ ও তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ মাইক্রোবাসে করে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান টার্গেটকে পিক করার জন্য, কিন্তু সেদিন টার্গেট না আসায় তারা ফিরে যান। পরে ছুটিতে থাকাকালীন ১৭ এপ্রিল তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীর গুমের খবর জানতে পারেন। ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে ফিরে তিনি র‍্যাব কার্যালয়ে থমথমে পরিবেশ দেখতে পান। অন্য সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে জিয়াউল আহসান অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে ফেলেছেন।

ইমরুল কায়েস তাঁর জবানবন্দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের ফোনালাপের কথা তুলে ধরেন। তিনি শোনেন জিয়াউল আহসান ফোনে বলছেন— ‘আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এ রকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন। এটাই আমার ভালো।’

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, গুমের প্রমাণ মুছে ফেলতেই জিয়াউল আহসান র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য রেকর্ড ধ্বংস করেছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত