প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের কাজ দেখতে চাইবে মানুষ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৫৬
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে চট্টগ্রামে রাখা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সবার মনোযোগ আকর্ষণ করবে। দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে জরুরি পূর্বশর্ত, সেটা জোর দিয়ে বলার কারণ রয়েছে। খোদ চট্টগ্রাম নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নেতিবাচক খবর অনেক বেশি। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখন পরিস্থিতির উন্নয়নে আরও তৎপর হতে হবে। জ্বালানি পরিস্থিতিও যে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরকার কাজ করছে, সেটাও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করে জোর দিয়েছেন এ বিষয়ে অপপ্রচার না করার ওপর। বিকল্প পরামর্শ বিবেচনা করা হবে বলে তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের দিন একটি বড় জাতীয় দৈনিকে প্রধান প্রতিবেদন হয়েছে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তী শাসনামলে সেখানে খুন-খারাবি বেড়েছিল। এর নেপথ্যে রয়েছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা। আরও গভীরে আছে চাঁদাবাজি। ব্যবসায়ীদের ওপরই চাঁদার চাপ বেশি। বর্তমান শাসনামলেও এ ক্ষেত্রে উন্নতির লক্ষণ নেই। সরকার পরিবর্তনের পর ভোল পাল্টেও অনেকে সন্ত্রাসের রাজত্ব বহাল রাখতে চাইতে পারে। রাজধানীসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যান্য কেন্দ্রেও এদের তৎপরতা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবহিত নিশ্চয়। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি বসে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন। বিনিয়োগে গতি আসছে না, এটা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর জন্য উদ্বেগের বিষয় বৈকি।

সুদের হার বেঁধে রাখা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিনিয়োগ প্রত্যাশামাফিক বাড়েনি, এটাও সত্য। বিদেশি বিনিয়োগেও আসেনি গতি। অন্তর্বর্তী শাসনামলে চলতে থাকা অরাজকতায় বিনিয়োগ বাড়বে না, এটা অবশ্য ধরেই নেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছিলেন নির্বাচিত সরকারের জন্য। তাদের তো দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নির্দেশনাও প্রয়োজন। অতঃপর নির্বাচিত সরকারের ছয় মাস হতে চলল; কিন্তু বিনিয়োগে গতি নেই। আইনশৃঙ্খলায় উন্নতি না হওয়ার পাশাপাশি অস্থিতিশীল জ্বালানি পরিস্থিতিও এজন্য দায়ী, সেটা সবাই বলছেন। চট্টগ্রামে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীও এ দুই প্রতিবন্ধকতার কথা জোর দিয়ে বললেন। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হলে শিক্ষা খাতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা যাবে না বলে তাঁর মন্তব্যে বোঝা যায়, এ খাতে কতটা জোর দিচ্ছে সরকার। তাদের দেওয়া প্রথম বাজেটেও শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতেও সরকারের সবিশেষ আগ্রহ স্পষ্ট। মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত এ দুই খাতে দুর্নীতির ব্যাপকতাও কম বড় সমস্যা নয়। তবে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে জ্বালানির ঘাটতি প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। সেটা অতিক্রমের উপায়ও জানা নেই। হালে গ্যাস সংকটে শিল্পসহ গোটা অর্থনীতিই চাপে পড়েছে। আর জনমনে উৎকণ্ঠা।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বোঝা যায়, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও তাঁর সরকারের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। তবে দেশি বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশিরা সহজে আকৃষ্ট হবেন না। বিনিয়োগ প্রস্তাব এলেও দেখা যাবে, সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। প্রথম বিদেশ সফরে গিয়ে মালয়েশিয়া ও চীন থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণে কম সচেষ্ট হননি প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানে চালু হতে যাওয়া গভীর সমুদ্রবন্দরসহ অবকাঠামোর লাভজনক ব্যবহারের ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এ সমস্ত কিছুরই পূর্বশর্ত আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ। এ ক্ষেত্রে সরকার ১০ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সেটি চূড়ান্ত করা হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। জ্বালানি খাতে বড় ধরনের উন্নতি নিশ্চিত করতে সময় লাগলেও আইনশৃঙ্খলায় দ্রুত উন্নতি আনা কিন্তু সম্ভব। এতে সরকার বিশেষভাবে মনোযোগী হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের কাজটিও সহজতর হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত