মশক কাঁধে ভিস্তিওয়ালা, ঘুঙুর পায়ে বাইজি
ফাবিহা বিনতে হক

অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য অনেক। একসময় সকাল শুরু হতো ফেরিওয়ালাদের চেনা হাঁকে। ‘লেইস ফিতা’ বলে চুড়ি-কসমেটিকস বিক্রেতাদের ডাক কিংবা ‘শিল-পাটা ধার করাইবেন’ এই পরিচিত আওয়াজে ভাঙত অনেকের ঘুম। সময়ের ঘষা লেগে অনেক কিছু বদলে যায়। পরিচিত পথ যেমন একসময় অপরিচিত হয়ে ওঠে, তেমনি সময়ের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের পেশাও। এখন আর এসব ডাক সচরাচর শোনা যায় না।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এই পেশাজীবীদের দেখা মিলবে শুধু ইতিহাসের পাতায় আর আমাদের অতীতের কল্পনায়।
‘ভিস্তি’ শব্দটি এসেছে পার্সি ‘ভেস্ত’ বা ‘বেহেস্ত’ থেকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কারবালার প্রান্তরে যুদ্ধের সময় পানি বহন করতে গিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শহীদ হয়ে বেহেশত লাভ করেন। সেই স্মৃতি থেকেই পানিবাহকদের ‘ভিস্তিওয়ালা’ বা ‘সুক্কা’ বলা হতো।
একসময় ঢাকার রাস্তায় প্রায়ই দেখা যেত কাঁধে ছাগলের চামড়ার তৈরি বড় মশক বা ভিস্তি নিয়ে পানি বহন করছেন ভিস্তিওয়ালারা। কলকাতা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটসহ উত্তর ভারতের অনেক শহরেই এদের দেখা মিলত। তাঁরা পৌরসভার হয়ে বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহ করতেন। আবার বাড়ি বাড়িও পানি পৌঁছে দিতেন। দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে সমাজে তাঁদের যথেষ্ট সম্মান ছিল।
১৮৭৮ সালে ঢাকা শহরে আধুনিক সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। ধীরে ধীরে ট্যাপের পানি, টাইম কল বা টিউবওয়েল এবং পরে বোতলজাত পানির প্রচলন হওয়ায় ভিস্তিওয়ালাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। অনেকেই অন্য পেশায় চলে যান। ভিস্তিওয়ালা বা সুক্কারা পুরান ঢাকার যে এলাকায় বাস করতেন সেটি একসময় ‘সিক্কাটুলি’ নামে পরিচিত হয়।
উনিশ শতকের শেষ দিকে সন্ধ্যা নামলেই ঢাকা শহর ডুবে যেত ঘন অন্ধকারে। ১৮৭০ সালে নবাব আবদুল গণি ঢাকায় একটি গ্যাস লাইট ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। সিদ্ধান্ত হয়, ওয়াইজঘাটের তৎকালীন মিউনিসিপ্যালিটি অফিস থেকে চকবাজার পর্যন্ত কেরোসিনের সড়কবাতি বসানো হবে। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৬০টি কেরোসিন ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়। এসব বাতি প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বালানো এবং ভোরে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য সৃষ্টি হয় নতুন পেশা—বাতিওয়ালা। সন্ধ্যা হলেই বড় বড় মই কাঁধে নিয়ে তাঁরা এক ল্যাম্পপোস্ট থেকে আরেকটিতে ঘুরে বাতি জ্বালাতেন।
একসময় ঢাকায় বিদ্যুৎ এলেও কেরোসিনের বাতির ব্যবহার অনেক বছর ধরে চলেছিল। ষাটের দশকেও ঢাকার কিছু গলিতে কেরোসিনের বাতি দেখা যেত। ১৯৩৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় ৮৬৯টি কেরোসিন সড়কবাতি এবং ১ হাজার ৬৬টি বৈদ্যুতিক সড়কবাতি ছিল। সেই সময় ধনীদের বাড়িতে ঝাড়বাতি থাকলেও সাধারণ মানুষের ভরসা ছিল হারিকেন, কুপিবাতি ও মোমবাতি। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই সড়কবাতি নিভে গিয়ে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যেত।
১৮৮৬ সালে ব্রিটিশ সরকার নবাব আবদুল গণির স্মৃতিকে ধরে রাখতে নবাব আহসানউল্লাহ ঢাকার রাস্তায় গ্যাসবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। তবে নানা কারণে সেই কাজ বিলম্বিত হয়। এদিকে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে গ্যাসবাতির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক সড়কবাতি বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ কাজে বিপুল অর্থও ব্যয় করেন। এভাবে আস্তে আস্তে বাতিওয়ালা পেশাটিও ঢাকার জনজীবন থেকে হারিয়ে যায়।
ঢাকায় বাইজি সংস্কৃতির প্রথম বিকাশ ঘটে মোগল আমলে। ঢাকার সুবাদার ইসলাম খাঁ শহরে দরবারি নৃত্যের ঐতিহ্য চালু করেন। এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় সৈয়দ মুহম্মদ তৈফুরের ঢাকার ইতিহাসভিত্তিক বই ‘গ্লিমপ্সেস অব ঢাকা’ বইয়ে। তিনি লিখেছেন, ইসলাম খাঁর দরবার ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। দরবারের বিনোদনের জন্য ইসলাম খাঁ বিপুলসংখ্যক লুলি, কাঞ্চনি, হরকানি ও ডোমনি—অর্থাৎ নৃত্য ও সংগীতে পারদর্শী নর্তকীদের নিয়োজিত রেখেছিলেন।
ইসলাম খাঁর দরবারি নৃত্য নিয়ে আরও একটি তথ্য পাওয়া যায় অজিত কৃষ্ণ বসুর ‘ঢাকার স্মৃতি’ নিবন্ধে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম খাঁর দরবারে অসংখ্য সুন্দরী ও দক্ষ নর্তকী-গায়িকা থাকলেও তিনি নিজে কখনো তাঁদের নাচ-গানের আসরে উপস্থিত হতেন না।
এ নিয়ে একবার তাঁর বন্ধু বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, নিজে যখন এসব আসর উপভোগই করেন না, তখন এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে এত শিল্পী রাখার প্রয়োজন কী?
জবাবে ইসলাম খাঁ বলেন, শহরের অপরাধপ্রবন লোকেরা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই নাচ-গানের আসরে ব্যস্ত থাকে। ফলে তাঁরা অন্য কোনো অপরাধে জড়ানোর সুযোগ পায় না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এর ফলে শহরে চুরি-ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমে যায়।
১৮৭৫ সাল থেকে শতকের শেষ পর্যন্ত প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে শাহবাগে—যার পরিধিতে বর্তমান শাহবাগ, মধুর ক্যান্টিন, দোয়েল চত্বর ও সড়ক ভবনের অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল—নর্তক-নর্তকী ও গায়ক-গায়িকারা নিয়মিত নাচ-গান পরিবেশন করে দর্শকদের আনন্দ দিতেন। সে সময় ঢাকার বাইজিদের অধিকাংশই নবাব এস্টেটের অধীনে কাজ করতেন এবং সেখান থেকেই নিয়মিত মাসিক বেতন পেতেন।
‘বিদরি’ বলতে বোঝায় এক ধরনের সূক্ষ্ম ধাতব খোদাইয়ের কাজ। কোনো ধাতব বস্তুর ওপর অন্য ধাতুর সাহায্যে নকশা বা অলংকরণ করার এই শিল্পকে বলা হতো বিদরির কাজ। একসময় বিয়ের কলসি, পানদান, হুঁকাদানি, চিলমচি, কড়াই, খাটের পায়া থেকে শুরু করে নানা শৌখিন ধাতব সামগ্রী বিদরির কারুকাজ করা হতো। কোম্পানি আমলে ঢাকায় এই শিল্পের যথেষ্ট কদর ছিল।
জেমস ওয়াইজ তাঁর পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ও পেশার বিবরণ গ্রন্থে বিদরিদের কাজের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, সেসময় ঢাকায় মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটি ছিল বংশপরম্পরায় চলে আসা শিল্প। বিশেষ করে সূক্ষ্ম খোদাইয়ের জন্য ঢাকার বিদরিদের বেশ সুনাম ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ধাতব শৌখিন সামগ্রীর ব্যবহার কমতে শুরু করে। ফলে এই শিল্পের চাহিদাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। একসময় বিদরিদের সেই ব্যস্ত কর্মশালাগুলোও হয়ে গেছে ইতিহাসের অংশ।
বিদ্যুৎচালিত পাখার যুগ আসার আগে গরমের দিনে মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল হাতপাখা। তালের পাতা কেটে তৈরি এসব পাখা ছোট-বড় সবাই ব্যবহার করত। তবে ধনাঢ্য ও বনেদি পরিবারগুলো সাধারণ পাখাকে নানাভাবে সাজিয়ে ব্যবহার করত। এই সাজসজ্জার কাজ যারা করতেন, তাঁদের বলা হতো চনরিওয়ালা।

শুধু হাতপাখাই নয়, তাঁরা চামরও তৈরি করতেন। সে সময় ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা ছিল অনেক। মহররমের তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে শোভা পেত নান্দনিকভাবে সাজানো পাখা ও চামর। আবার হিন্দু ধর্মীয় আচারেও প্রতিমার সামনে বাতাস করা কিংবা মাছি-মশা তাড়ানোর জন্য চামর ব্যবহার করা হতো।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব ও বৈঠকি গানের আসর—সব জায়গাতেই চামর ও অলংকৃত পাখার ব্যবহার ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চনরিওয়ালাদের প্রয়োজনও কমতে শুরু করে। বিশেষ করে বিদ্যুতের প্রসারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে চনরিওয়ালা পেশাও হারিয়ে যায়।
আঠারো শতকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পালকির প্রচলন শুরু হয়। একসময় তা বাঙালি সমাজে অন্যতম প্রধান যানবাহনে রূপ নেয়। পালকি বহনকারীদের ‘কাহার’ বা ‘বেহারা’ ডাকা হতো। কাঁধে পালকি তুলে বিশেষ ছন্দে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা ‘উহুম না, উহুম না’ বলে সুর মিলিয়ে চলতেন। সেই হাঁটার তাল থেকেই ‘কাহারবা’ তালের উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রচলিত আছে। নীহাররঞ্জন রায় প্রণীত ‘বাঙালির ইতিহাস আদিপর্ব’ বইয়ে কাহারদের পালকি বহনের বর্ণনা পাওয়া যায়।
পালকি চলা দেখতে বেশ রোমান্টিক লাগলেও এটি বহন ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজ। সমাজে কাহারদের মর্যাদাও খুব বেশি ছিল না। উনিশ শতক জুড়ে ঢাকায় কাহারদের যথেষ্ট উপস্থিতি ছিল। এমনকি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও পালকির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই পেশায় প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ থাকলেও অনেক মুসলিম কাহারও ছিলেন।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘চরশ মেশা চণ্ডুর নেশা মুণ্ডু ঝিমঝিম’ গানে বলেছিলেন, ‘মদের নেশা, গাঁজার নেশা এর কাছে একদম পাঁজা’। ১৯৪০ সালে প্রথম রের্কড হয়েছিল গানটি। নজরুলের গান কিংবা পুরোনো দিনের ঢাকাবিষয়ক বিভিন্ন লেখাপত্র বলছে, আমাদের এ অঞ্চলে সে সময় চন্ডুর নেশার প্রভাব ছিল প্রবল।
ঢাকায়, বিশেষ করে পুরান ঢাকায় আফিমের নেশাদ্রব্যের ব্যাপক প্রচলন ছিল। পপি গাছের কাঁচা ফলের রস থেকে তৈরি হওয়া আফিম থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যে নেশাদ্রব্য প্রস্তুত করা হতো তার নাম চন্ডু। সেকালে তাই ঢাকায় আফিম খাওয়াকে বলা হতো ‘চন্ডু সেবন’।
খাঁটি আফিমের গন্ধ খুব তীব্র ও ঝাঁঝালো। তাই সরাসরি খাওয়া যেত না। ফলে একে খাওয়ার উপযোগী করতে অনুসরণ করা হতো এক বিশেষ প্রক্রিয়া। আর এ কাজ করতেন চন্ডুওয়ালারা।
একসময় ধূমপান মানেই ছিল হুঁকো। সাহেবরা পাইপ ব্যবহার করলেও সাধারণ মানুষের কাছে হুঁকোই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। তবে হুঁকো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ছিল সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজন। গৃহস্থের হুঁকো, কামলার হুঁকো, উচ্চবর্ণের হুঁকো—সবই ছিল আলাদা। হুঁকোর নিচের পিতলের অংশ, নলসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করতেন একদল দক্ষ কারিগর। তাঁরা পরিচিত ছিলেন নৈচাবন্দ নামে। তাঁদের হাতের তৈরি হুঁকো তখন বনেদি পরিবার ও জমিদারদের কাছে বেশ সমাদৃত ছিল।
জেমস ওয়াইজের সময় পূর্ববঙ্গে হুঁকোর নল তৈরির প্রধান কেন্দ্র ছিল সিলেট। তবে ঢাকাতেও প্রায় এক শ পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল। এটি তখন সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত হতো। হেকীম হাবীবুর রাহমান তাঁর ‘ঢাকা পঞ্চাশ বছর আগে’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, নৈচাবন্দদের একাংশ শহরের ভেতরে এবং বাকিরা নদীতীরবর্তী নৈচাবন্দটোলায় বাস করতেন।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে হুঁকোর ব্যবহার কমে সিগারেট, বিড়ি এবং পরে আধুনিক ধূমপানের নানা উপকরণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে নৈচাবন্দদের দক্ষ হাতের তৈরি হুঁকোর চাহিদাও কমতে থাকে। ধীরে ধীরে এই পেশাও হারিয়ে যায় ইতিহাসের পাতায়।
তথ্যসূত্র:
ঢাকা পঞ্চাশ বছর আগে, হেকীম হাবীবুর রাহমান
ঢাকা পুরাণ, মীজানুর রহমান
কিংবদন্তির ঢাকা, নাজির হোসেন
পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ও পেশার বিবরণ, জেমস ওয়াইজ

অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য অনেক। একসময় সকাল শুরু হতো ফেরিওয়ালাদের চেনা হাঁকে। ‘লেইস ফিতা’ বলে চুড়ি-কসমেটিকস বিক্রেতাদের ডাক কিংবা ‘শিল-পাটা ধার করাইবেন’ এই পরিচিত আওয়াজে ভাঙত অনেকের ঘুম। সময়ের ঘষা লেগে অনেক কিছু বদলে যায়। পরিচিত পথ যেমন একসময় অপরিচিত হয়ে ওঠে, তেমনি সময়ের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের পেশাও। এখন আর এসব ডাক সচরাচর শোনা যায় না।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এই পেশাজীবীদের দেখা মিলবে শুধু ইতিহাসের পাতায় আর আমাদের অতীতের কল্পনায়।
‘ভিস্তি’ শব্দটি এসেছে পার্সি ‘ভেস্ত’ বা ‘বেহেস্ত’ থেকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কারবালার প্রান্তরে যুদ্ধের সময় পানি বহন করতে গিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শহীদ হয়ে বেহেশত লাভ করেন। সেই স্মৃতি থেকেই পানিবাহকদের ‘ভিস্তিওয়ালা’ বা ‘সুক্কা’ বলা হতো।
একসময় ঢাকার রাস্তায় প্রায়ই দেখা যেত কাঁধে ছাগলের চামড়ার তৈরি বড় মশক বা ভিস্তি নিয়ে পানি বহন করছেন ভিস্তিওয়ালারা। কলকাতা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটসহ উত্তর ভারতের অনেক শহরেই এদের দেখা মিলত। তাঁরা পৌরসভার হয়ে বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহ করতেন। আবার বাড়ি বাড়িও পানি পৌঁছে দিতেন। দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে সমাজে তাঁদের যথেষ্ট সম্মান ছিল।
১৮৭৮ সালে ঢাকা শহরে আধুনিক সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। ধীরে ধীরে ট্যাপের পানি, টাইম কল বা টিউবওয়েল এবং পরে বোতলজাত পানির প্রচলন হওয়ায় ভিস্তিওয়ালাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। অনেকেই অন্য পেশায় চলে যান। ভিস্তিওয়ালা বা সুক্কারা পুরান ঢাকার যে এলাকায় বাস করতেন সেটি একসময় ‘সিক্কাটুলি’ নামে পরিচিত হয়।
উনিশ শতকের শেষ দিকে সন্ধ্যা নামলেই ঢাকা শহর ডুবে যেত ঘন অন্ধকারে। ১৮৭০ সালে নবাব আবদুল গণি ঢাকায় একটি গ্যাস লাইট ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। সিদ্ধান্ত হয়, ওয়াইজঘাটের তৎকালীন মিউনিসিপ্যালিটি অফিস থেকে চকবাজার পর্যন্ত কেরোসিনের সড়কবাতি বসানো হবে। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৬০টি কেরোসিন ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়। এসব বাতি প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বালানো এবং ভোরে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য সৃষ্টি হয় নতুন পেশা—বাতিওয়ালা। সন্ধ্যা হলেই বড় বড় মই কাঁধে নিয়ে তাঁরা এক ল্যাম্পপোস্ট থেকে আরেকটিতে ঘুরে বাতি জ্বালাতেন।
একসময় ঢাকায় বিদ্যুৎ এলেও কেরোসিনের বাতির ব্যবহার অনেক বছর ধরে চলেছিল। ষাটের দশকেও ঢাকার কিছু গলিতে কেরোসিনের বাতি দেখা যেত। ১৯৩৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় ৮৬৯টি কেরোসিন সড়কবাতি এবং ১ হাজার ৬৬টি বৈদ্যুতিক সড়কবাতি ছিল। সেই সময় ধনীদের বাড়িতে ঝাড়বাতি থাকলেও সাধারণ মানুষের ভরসা ছিল হারিকেন, কুপিবাতি ও মোমবাতি। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই সড়কবাতি নিভে গিয়ে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যেত।
১৮৮৬ সালে ব্রিটিশ সরকার নবাব আবদুল গণির স্মৃতিকে ধরে রাখতে নবাব আহসানউল্লাহ ঢাকার রাস্তায় গ্যাসবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। তবে নানা কারণে সেই কাজ বিলম্বিত হয়। এদিকে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে গ্যাসবাতির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক সড়কবাতি বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ কাজে বিপুল অর্থও ব্যয় করেন। এভাবে আস্তে আস্তে বাতিওয়ালা পেশাটিও ঢাকার জনজীবন থেকে হারিয়ে যায়।
ঢাকায় বাইজি সংস্কৃতির প্রথম বিকাশ ঘটে মোগল আমলে। ঢাকার সুবাদার ইসলাম খাঁ শহরে দরবারি নৃত্যের ঐতিহ্য চালু করেন। এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় সৈয়দ মুহম্মদ তৈফুরের ঢাকার ইতিহাসভিত্তিক বই ‘গ্লিমপ্সেস অব ঢাকা’ বইয়ে। তিনি লিখেছেন, ইসলাম খাঁর দরবার ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। দরবারের বিনোদনের জন্য ইসলাম খাঁ বিপুলসংখ্যক লুলি, কাঞ্চনি, হরকানি ও ডোমনি—অর্থাৎ নৃত্য ও সংগীতে পারদর্শী নর্তকীদের নিয়োজিত রেখেছিলেন।
ইসলাম খাঁর দরবারি নৃত্য নিয়ে আরও একটি তথ্য পাওয়া যায় অজিত কৃষ্ণ বসুর ‘ঢাকার স্মৃতি’ নিবন্ধে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম খাঁর দরবারে অসংখ্য সুন্দরী ও দক্ষ নর্তকী-গায়িকা থাকলেও তিনি নিজে কখনো তাঁদের নাচ-গানের আসরে উপস্থিত হতেন না।
এ নিয়ে একবার তাঁর বন্ধু বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, নিজে যখন এসব আসর উপভোগই করেন না, তখন এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে এত শিল্পী রাখার প্রয়োজন কী?
জবাবে ইসলাম খাঁ বলেন, শহরের অপরাধপ্রবন লোকেরা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই নাচ-গানের আসরে ব্যস্ত থাকে। ফলে তাঁরা অন্য কোনো অপরাধে জড়ানোর সুযোগ পায় না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এর ফলে শহরে চুরি-ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমে যায়।
১৮৭৫ সাল থেকে শতকের শেষ পর্যন্ত প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে শাহবাগে—যার পরিধিতে বর্তমান শাহবাগ, মধুর ক্যান্টিন, দোয়েল চত্বর ও সড়ক ভবনের অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল—নর্তক-নর্তকী ও গায়ক-গায়িকারা নিয়মিত নাচ-গান পরিবেশন করে দর্শকদের আনন্দ দিতেন। সে সময় ঢাকার বাইজিদের অধিকাংশই নবাব এস্টেটের অধীনে কাজ করতেন এবং সেখান থেকেই নিয়মিত মাসিক বেতন পেতেন।
‘বিদরি’ বলতে বোঝায় এক ধরনের সূক্ষ্ম ধাতব খোদাইয়ের কাজ। কোনো ধাতব বস্তুর ওপর অন্য ধাতুর সাহায্যে নকশা বা অলংকরণ করার এই শিল্পকে বলা হতো বিদরির কাজ। একসময় বিয়ের কলসি, পানদান, হুঁকাদানি, চিলমচি, কড়াই, খাটের পায়া থেকে শুরু করে নানা শৌখিন ধাতব সামগ্রী বিদরির কারুকাজ করা হতো। কোম্পানি আমলে ঢাকায় এই শিল্পের যথেষ্ট কদর ছিল।
জেমস ওয়াইজ তাঁর পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ও পেশার বিবরণ গ্রন্থে বিদরিদের কাজের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, সেসময় ঢাকায় মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটি ছিল বংশপরম্পরায় চলে আসা শিল্প। বিশেষ করে সূক্ষ্ম খোদাইয়ের জন্য ঢাকার বিদরিদের বেশ সুনাম ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ধাতব শৌখিন সামগ্রীর ব্যবহার কমতে শুরু করে। ফলে এই শিল্পের চাহিদাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। একসময় বিদরিদের সেই ব্যস্ত কর্মশালাগুলোও হয়ে গেছে ইতিহাসের অংশ।
বিদ্যুৎচালিত পাখার যুগ আসার আগে গরমের দিনে মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল হাতপাখা। তালের পাতা কেটে তৈরি এসব পাখা ছোট-বড় সবাই ব্যবহার করত। তবে ধনাঢ্য ও বনেদি পরিবারগুলো সাধারণ পাখাকে নানাভাবে সাজিয়ে ব্যবহার করত। এই সাজসজ্জার কাজ যারা করতেন, তাঁদের বলা হতো চনরিওয়ালা।

শুধু হাতপাখাই নয়, তাঁরা চামরও তৈরি করতেন। সে সময় ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা ছিল অনেক। মহররমের তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে শোভা পেত নান্দনিকভাবে সাজানো পাখা ও চামর। আবার হিন্দু ধর্মীয় আচারেও প্রতিমার সামনে বাতাস করা কিংবা মাছি-মশা তাড়ানোর জন্য চামর ব্যবহার করা হতো।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব ও বৈঠকি গানের আসর—সব জায়গাতেই চামর ও অলংকৃত পাখার ব্যবহার ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চনরিওয়ালাদের প্রয়োজনও কমতে শুরু করে। বিশেষ করে বিদ্যুতের প্রসারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে চনরিওয়ালা পেশাও হারিয়ে যায়।
আঠারো শতকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পালকির প্রচলন শুরু হয়। একসময় তা বাঙালি সমাজে অন্যতম প্রধান যানবাহনে রূপ নেয়। পালকি বহনকারীদের ‘কাহার’ বা ‘বেহারা’ ডাকা হতো। কাঁধে পালকি তুলে বিশেষ ছন্দে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা ‘উহুম না, উহুম না’ বলে সুর মিলিয়ে চলতেন। সেই হাঁটার তাল থেকেই ‘কাহারবা’ তালের উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রচলিত আছে। নীহাররঞ্জন রায় প্রণীত ‘বাঙালির ইতিহাস আদিপর্ব’ বইয়ে কাহারদের পালকি বহনের বর্ণনা পাওয়া যায়।
পালকি চলা দেখতে বেশ রোমান্টিক লাগলেও এটি বহন ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজ। সমাজে কাহারদের মর্যাদাও খুব বেশি ছিল না। উনিশ শতক জুড়ে ঢাকায় কাহারদের যথেষ্ট উপস্থিতি ছিল। এমনকি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও পালকির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই পেশায় প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ থাকলেও অনেক মুসলিম কাহারও ছিলেন।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘চরশ মেশা চণ্ডুর নেশা মুণ্ডু ঝিমঝিম’ গানে বলেছিলেন, ‘মদের নেশা, গাঁজার নেশা এর কাছে একদম পাঁজা’। ১৯৪০ সালে প্রথম রের্কড হয়েছিল গানটি। নজরুলের গান কিংবা পুরোনো দিনের ঢাকাবিষয়ক বিভিন্ন লেখাপত্র বলছে, আমাদের এ অঞ্চলে সে সময় চন্ডুর নেশার প্রভাব ছিল প্রবল।
ঢাকায়, বিশেষ করে পুরান ঢাকায় আফিমের নেশাদ্রব্যের ব্যাপক প্রচলন ছিল। পপি গাছের কাঁচা ফলের রস থেকে তৈরি হওয়া আফিম থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যে নেশাদ্রব্য প্রস্তুত করা হতো তার নাম চন্ডু। সেকালে তাই ঢাকায় আফিম খাওয়াকে বলা হতো ‘চন্ডু সেবন’।
খাঁটি আফিমের গন্ধ খুব তীব্র ও ঝাঁঝালো। তাই সরাসরি খাওয়া যেত না। ফলে একে খাওয়ার উপযোগী করতে অনুসরণ করা হতো এক বিশেষ প্রক্রিয়া। আর এ কাজ করতেন চন্ডুওয়ালারা।
একসময় ধূমপান মানেই ছিল হুঁকো। সাহেবরা পাইপ ব্যবহার করলেও সাধারণ মানুষের কাছে হুঁকোই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। তবে হুঁকো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ছিল সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজন। গৃহস্থের হুঁকো, কামলার হুঁকো, উচ্চবর্ণের হুঁকো—সবই ছিল আলাদা। হুঁকোর নিচের পিতলের অংশ, নলসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করতেন একদল দক্ষ কারিগর। তাঁরা পরিচিত ছিলেন নৈচাবন্দ নামে। তাঁদের হাতের তৈরি হুঁকো তখন বনেদি পরিবার ও জমিদারদের কাছে বেশ সমাদৃত ছিল।
জেমস ওয়াইজের সময় পূর্ববঙ্গে হুঁকোর নল তৈরির প্রধান কেন্দ্র ছিল সিলেট। তবে ঢাকাতেও প্রায় এক শ পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল। এটি তখন সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত হতো। হেকীম হাবীবুর রাহমান তাঁর ‘ঢাকা পঞ্চাশ বছর আগে’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, নৈচাবন্দদের একাংশ শহরের ভেতরে এবং বাকিরা নদীতীরবর্তী নৈচাবন্দটোলায় বাস করতেন।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে হুঁকোর ব্যবহার কমে সিগারেট, বিড়ি এবং পরে আধুনিক ধূমপানের নানা উপকরণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে নৈচাবন্দদের দক্ষ হাতের তৈরি হুঁকোর চাহিদাও কমতে থাকে। ধীরে ধীরে এই পেশাও হারিয়ে যায় ইতিহাসের পাতায়।
তথ্যসূত্র:
ঢাকা পঞ্চাশ বছর আগে, হেকীম হাবীবুর রাহমান
ঢাকা পুরাণ, মীজানুর রহমান
কিংবদন্তির ঢাকা, নাজির হোসেন
পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ও পেশার বিবরণ, জেমস ওয়াইজ
.png)

আজ রোববার (৯ আগস্ট) ফরহাদ মজহারের ৮০তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালে নোয়াখালীতে তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকা ও নিউইয়র্কে ওষুধশাস্ত্র (ফার্মাসি) ও অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। জন্মদিনকে সামনে রেখে ফরহাদ মজহারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি ও বিবিধ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ইকতিজা আহসান।
৮ ঘণ্টা আগে
ফরহাদ মজহার কবি, দার্শনিক, রাজনীতি বিশ্লেষকসহ বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত। যাপন থেকে শুরু করে চিন্তা ও তৎপরতায় রাজনীতি, সাহিত্য, দর্শন, কাব্য ও কৃষির উদ্যোগে প্রতিনিয়ত নিজেকেই নিজে অতিক্রম করছেন তিনি। ‘আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ বিপ্লবের সামনে’, ‘অকস্মাৎ রপ্তানিমুখী নারীমেশিন’, ‘এবাদতনামা’ প্রভৃতি তাঁর উল
০৮ আগস্ট ২০২৬
১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি। জিব্রাল্টার প্রণালির পাশ ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা। এরই পাদদেশের শহর গ্রানাডার আকাশেই অস্ত যায় মুসলিম আন্দালুসের আট শতকের গৌরবময় ইতিহাসের শেষ সূর্য।
০৭ আগস্ট ২০২৬
স্ট্রিম: ‘চিহ্ন’ পত্রিকার ২৫ বছরের যাত্রায় ফিরে তাকালে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে হয়? শহীদ ইকবাল: অর্জন তো কোট-আনকোট (‘’)। আমরা কাজের নেশা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের জার্নিটা একটা প্রভাবশালী শক্তি। সামগ্রিক অবদান তো সেভাবে দেখা যাবে না। তবে বড় অর্জনের
০৭ আগস্ট ২০২৬