আড়াই মাস পর উৎপাদনে ফিরল ইস্টার্ন রিফাইনারি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ১৮: ১৭
ফের উৎপাদনে ইস্টার্ন রিফাইনারি। ছবি: সংগৃহীত

আড়াই মাস পরে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) উৎপাদন শুরু হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েলের চালান হাতে পেয়ে শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৮টার দিকে বিভিন্ন ইউনিটে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত জানান, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের (ছোট জাহাজে করে স্থানান্তর) মাধ্যমে ক্রুড অয়েল রিফাইনারিতে যুক্ত হওয়ার পরপরই শুক্রবার সকালে উৎপাদন শুরু হয়।

তিনি বলেন, শুরুতে উৎপাদন পূর্ণমাত্রায় হবে না। পর্যায়ক্রমে বাড়বে। আশা করছি, দ্রুত আমরা পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারব। উৎপাদন প্রক্রিয়া চালুর পাশাপাশি জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল খালাস কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্র জানায়, গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। গত বুধবার দুপুরে জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়। এরপর খালাস করে তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হয়।

ক্রুড অয়েল শোধন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ন্যাপথা, বিটুমিন, এলপিজিসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করে। এর মধ্যে ডিজেলের উৎপাদনই সর্বোচ্চ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সর্বশেষ ক্রুড অয়েলের চালান এসেছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি।

নতুন চালান না আসায় মজুত ফুরিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা অবশিষ্টাংশ (ডেডস্টক) দিয়ে সীমিত আকারে শোধনাগারটি চালু রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে গত ১৪ এপ্রিল থেকে ইআরএলের পাঁচটি ইউনিটের দুটি বন্ধ হয়ে যায় এবং উৎপাদন প্রায় বন্ধের পর্যায়ে পৌঁছে।

জ্বালানি বিভাগ সে সময় জানিয়েছিল, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এবং নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকায় এই সংকটের প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়েনি।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল শোধন ক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই শোধনাগার থেকে মেটানো হয়। এখানে মূলত সৌদি আরবের ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মারবান ক্রুড’ পরিশোধন করা হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইআরএলের বার্ষিক উৎপাদন ছিল ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৪০ টন। এর মধ্যে কেবল ডিজেলই উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১২ টন। দেশে বছরে গড়ে ৪০ থেকে ৪২ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা, যার বাকি অংশ পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। উপজাত হিসেবে পাওয়া ন্যাপথা দেশের কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারিও কিনে ব্যবহার করে।

সম্পর্কিত