রিজার্ভ চুরির চার্জশিটে আতিউরসহ ১০ বাংলাদেশি, সিআইডির ‘না’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আলোচিত রিজার্ভ চুরির সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ড. আতিউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ অভিযুক্ত ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) খসড়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব নাম এসেছে। তবে এই ধরনের তথ্য সরবরাহের কথা অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১৯ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত সংবাদ সিআইডির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনে সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাতে খসড়া চার্জশিট বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা কোনো গণমাধ্যমকে দেননি। উক্ত বক্তব্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

মামলাটি তদন্তাধীন উল্লেখ করে সিআইডি বলেছে, তদন্তের স্বার্থে এই পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর সিআইডি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য জানাবে। সিআইডি পেশাদারিত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তদন্ত অব্যাহত রাখবে।

খসড়া অভিযোগপত্রে কী আছে

ছড়িয়ে পড়া একটি চিঠি ও তালিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। স্ট্রিমও সেই তালিকা পেয়েছে। এতে দেখা গেছে, দীর্ঘ এক দশক তদন্তের পর রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। গত ১ মার্চ এই বিষয়ে আইনি মতামত নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি পর্যালোচনা কমিটির নবম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে খসড়া চার্জশিটটি মতামতের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ৬ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির তত্ত্বাবধানে এই তদন্ত করার কথা বলা হয়েছিল।

তালিকায় অভিযুক্ত ১০ বাংলাদেশি হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা ও মেজবাউল হক, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা, কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, রেজাউল করিম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান। এর মধ্যে আতিউর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পতনের পর থেকে আত্মগোপনে আছেন।

বিদেশি অভিযুক্তদের মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে, যার মধ্যে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি ব্যাংক) ও ফিলরেম সার্ভিসেস অন্যতম। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী ‘লাজারাস গ্রুপ’ (এপিটি ৩৮), চীনের তিন নাগরিক, শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশনসহ কয়েকজন নাগরিক, ভারতের চার নাগরিক এবং জাপানের এক নাগরিকের নাম থাকার কথা বলা হয়। ওই খবরে বলা হয়েছিল, এদের সবার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ে সহায়তা, অর্থ চুরি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যেভাবে ঘটেছিল রিজার্ভ চুরি

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে (ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। হ্যাকাররা প্রথমে ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে প্রবেশ করে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যম ‘সুইফট’ পেমেন্ট ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর তারা ভুয়া বার্তা বা পেমেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে নিউইয়র্ক ফেড থেকে অর্থ ছাড় করিয়ে নেয়।

চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার স্ট্রিট শাখায়। বাকি ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কার একটি ভুয়া এনজিও ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’-এর হিসাবে। তবে প্রাপকের বানানে ‘Foundation’-এর জায়গায় ‘Fandation’ লেখার কারণে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ওই অর্থ আটকে যায়, যা পরে বাংলাদেশ ফেরত পায়।

অন্যদিকে, ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থ দ্রুত ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়, যার মধ্যে পরে মাত্র ১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার ৪০ দিন পর ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করে। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করে আসছে সিআইডি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত