ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৩: ৪৯
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনছে সরকার বাণিজ্যমন্ত্রী। সংগৃহীত ছবি

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যবসা শুরু করতে যেখানে লম্বা সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ শীর্ষক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সেশনের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, ‘একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস, আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা দূর এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এ রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।‘

তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো কেবল অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সেলটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

তিনি জানান, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোথায় সময় কমানো সম্ভব এবং কোন কোন ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জনঘোষণা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষি-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত