স্ট্রিম প্রতিবেদক

১৮ মাসের মেয়াদে অন্তর্বর্তী সরকার সম্ভাব্য একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে এবং অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হলেও বাস্তব অর্থনীতির, বিশেষ করে শিল্প খাতের স্থবিরতা দূর করতে পারেনি। এ ছাড়া কাঠামোগত সংস্কারের অভাব, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সামাজিক আস্থার সংকট—সব মিলিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নীতিবিশ্লেষকরা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ইন্টেরিম ব্যালান্স-শিট’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল নীতিসংলাপ এবং গোলটেবিল আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। এসময় তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
তারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া প্রশাসন এমন এক সময়ে ক্ষমতায় আসে, যখন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থা তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তা কাটলেও এখনো সবকিছু স্থবির হয়ে আছে। তাদের মতে, সরকার অর্থনীতির জাহাজ স্থিতিশীল করেছে, কিন্তু পরিবর্তনের হাল ধরতে পারেনি।
ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সাবেক ব্যাংকার মামুন রশীদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কার্যত ‘মুক্তপতনের’ মধ্যে ছিল এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক চাপে ছিল। তাঁর মতে, সরকারের সবচেয়ে দৃশ্যমান সাফল্য ছিল অর্থনীতির আরও অবনতি ঠেকানো।
তিনি বলেন, ‘পতনটা থামানো গেলেও, ঘুরে দাঁড়ানো যায়নি।’
শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা বাস্তব অর্থনীতির দুর্বলতার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, গত দেড় বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি জানান, উচ্চ হারে শুল্ক পরিশোধ করেও শিল্প কারখানাগুলো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছে না। ফলে অনেক কারখানা মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং শিল্প খাতের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ৬ মাসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশে, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধীরগতিরই প্রতিফলন।
আলোচনায় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, উপদেষ্টারা অতিরিক্তভাবে আমলাদের ওপর নির্ভর করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী মহলের যোগাযোগ সীমিত ছিল এবং কার্যকর সংলাপের অভাব তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন মনোভাব ছিল যেন তারা সবকিছুই জানেন, ফলে বাস্তব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রওনক জাহান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর জনমনে প্রত্যাশা ছিল সামাজিক মেরুকরণ কমবে এবং উন্মুক্ত বিতর্কের সংস্কৃতি তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি খোলামেলা কথা বললেও তাদের অনেক সময় চিহ্নিত করা বা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার প্রবণতা বেড়েছে, যা একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।
তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী ও ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনাকে নাগরিক নিরাপত্তা সংকুচিত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পর্যাপ্ত ঐকমত্য তৈরি না করেই একসঙ্গে অনেক উচ্চাভিলাষী সংস্কার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে সাংবিধানিক পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে। অথচ নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের ইতিহাস বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি এম হুমায়ুন কবির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতার সঙ্গে মিলে যায়। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বাণিজ্যিক অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে ভূরাজনীতির বিষয়টি উল্লেখ করলেও বাস্তবসম্মত ও সুসংগঠিত কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে তিনি একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় গড়ে তুলতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পেরেছে—সামষ্টিক অর্থনীতির অবনতি ঠেকানো এবং একটি সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। এর ফলে অর্থনীতি নিম্নমুখী ধারা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বচ্ছতা ও সামাজিক জবাবদিহি ছাড়া কেবল স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে না। তাঁর মতে, বাস্তব অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে গেছে এবং নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার কারণে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমলাতন্ত্র সমাজের ওপর আরও শক্তভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, যা ঔপনিবেশিক মানসিকতার ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। শুধু নির্বাচন আয়োজনই কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করবে না, তবে এটি রাজনৈতিক সংলাপ পুনর্গঠন এবং দল ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে বক্তারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে এবং অস্থির পরিস্থিতিতে ন্যূনতম স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হলেও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন এবং বাস্তব অর্থনীতিকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে একটি জটিল অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে এবং আস্থা পুনর্গঠন, নীতিগত সমন্বয় ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমেই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

১৮ মাসের মেয়াদে অন্তর্বর্তী সরকার সম্ভাব্য একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে এবং অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হলেও বাস্তব অর্থনীতির, বিশেষ করে শিল্প খাতের স্থবিরতা দূর করতে পারেনি। এ ছাড়া কাঠামোগত সংস্কারের অভাব, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সামাজিক আস্থার সংকট—সব মিলিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নীতিবিশ্লেষকরা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ইন্টেরিম ব্যালান্স-শিট’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল নীতিসংলাপ এবং গোলটেবিল আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। এসময় তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
তারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া প্রশাসন এমন এক সময়ে ক্ষমতায় আসে, যখন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থা তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তা কাটলেও এখনো সবকিছু স্থবির হয়ে আছে। তাদের মতে, সরকার অর্থনীতির জাহাজ স্থিতিশীল করেছে, কিন্তু পরিবর্তনের হাল ধরতে পারেনি।
ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সাবেক ব্যাংকার মামুন রশীদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কার্যত ‘মুক্তপতনের’ মধ্যে ছিল এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক চাপে ছিল। তাঁর মতে, সরকারের সবচেয়ে দৃশ্যমান সাফল্য ছিল অর্থনীতির আরও অবনতি ঠেকানো।
তিনি বলেন, ‘পতনটা থামানো গেলেও, ঘুরে দাঁড়ানো যায়নি।’
শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা বাস্তব অর্থনীতির দুর্বলতার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, গত দেড় বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি জানান, উচ্চ হারে শুল্ক পরিশোধ করেও শিল্প কারখানাগুলো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছে না। ফলে অনেক কারখানা মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং শিল্প খাতের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ৬ মাসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশে, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধীরগতিরই প্রতিফলন।
আলোচনায় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, উপদেষ্টারা অতিরিক্তভাবে আমলাদের ওপর নির্ভর করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী মহলের যোগাযোগ সীমিত ছিল এবং কার্যকর সংলাপের অভাব তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন মনোভাব ছিল যেন তারা সবকিছুই জানেন, ফলে বাস্তব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রওনক জাহান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর জনমনে প্রত্যাশা ছিল সামাজিক মেরুকরণ কমবে এবং উন্মুক্ত বিতর্কের সংস্কৃতি তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি খোলামেলা কথা বললেও তাদের অনেক সময় চিহ্নিত করা বা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার প্রবণতা বেড়েছে, যা একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।
তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী ও ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনাকে নাগরিক নিরাপত্তা সংকুচিত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পর্যাপ্ত ঐকমত্য তৈরি না করেই একসঙ্গে অনেক উচ্চাভিলাষী সংস্কার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে সাংবিধানিক পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে। অথচ নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের ইতিহাস বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি এম হুমায়ুন কবির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতার সঙ্গে মিলে যায়। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বাণিজ্যিক অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে ভূরাজনীতির বিষয়টি উল্লেখ করলেও বাস্তবসম্মত ও সুসংগঠিত কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে তিনি একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় গড়ে তুলতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পেরেছে—সামষ্টিক অর্থনীতির অবনতি ঠেকানো এবং একটি সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। এর ফলে অর্থনীতি নিম্নমুখী ধারা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বচ্ছতা ও সামাজিক জবাবদিহি ছাড়া কেবল স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে না। তাঁর মতে, বাস্তব অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে গেছে এবং নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার কারণে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমলাতন্ত্র সমাজের ওপর আরও শক্তভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, যা ঔপনিবেশিক মানসিকতার ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। শুধু নির্বাচন আয়োজনই কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করবে না, তবে এটি রাজনৈতিক সংলাপ পুনর্গঠন এবং দল ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে বক্তারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে এবং অস্থির পরিস্থিতিতে ন্যূনতম স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হলেও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন এবং বাস্তব অর্থনীতিকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে একটি জটিল অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে এবং আস্থা পুনর্গঠন, নীতিগত সমন্বয় ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমেই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত জানুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে। গত ডিসেম্বর এবং নভেম্বরেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য ৪টি জাহাজ কিনতে চীনের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।
৭ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে সম্প্রসারিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সর্বশেষ বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)।
৭ ঘণ্টা আগে