ইমরান হোসাইন

রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা মো. রুবেল। ঈদের পরপরই হারিয়েছেন এক ছেলেসন্তানকে। চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। সেই শোক কাটতে না কাটতেই তাঁর আরেক সন্তান চিকেন পক্স নিয়ে ভর্তি রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। অসুস্থ সন্তানের পাশে থাকতে থাকতে তাঁর সুস্থ তৃতীয় সন্তানটিও এখন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
রুবেলের ভাষ্য, ‘আগে যেমন আনছি, এখন তার চেয়েও খারাপ অবস্থা। একটা ছেলে হারাইছি, এখন এই দুইটা নিয়া হাসপাতালে। আল্লাহ যেন সবারে সুস্থ রাখে, কেউ যেন এই রোগে আক্রান্ত না হয়।’
রোগ নিরাময়ের আশায় হাসপাতালে এসে উল্টো নতুন রোগের শিকার হওয়ার এই ভীতিকর পরিস্থিতির নাম চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্রস-ইনফেকশন’।
রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এখন হাম ও চিকেন পক্সের মতো অত্যন্ত ছোঁয়াচে ব্যাধিতে আক্রান্ত অনেক রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ বেডে কেউবা আবার মেঝে বা বারান্দায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপে নিরাময় কেন্দ্রটি নিজেই এখন সংক্রমণের এক নতুন ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্ট ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে স্ট্রিমকে বলেন, ‘চিকেন পক্স, হাম ও মামস—এই রোগগুলো অত্যন্ত সংক্রামক। একটি রোগী অন্য রোগীর কাছাকাছি থাকলেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও রোগীর প্রবল চাপের কারণে তা সবসময় সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি জানান, এক রোগে আক্রান্ত শিশু সুস্থ হওয়ার আগেই অন্য সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসছে। হামের জন্য পুরো হাসপাতালে বরাদ্দ মাত্র ১০টি শয্যা, কিন্তু বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন এর কয়েক গুণ বেশি। শয্যা সংকটের কারণে অন্য সাধারণ ওয়ার্ডে, এমনকি টিটেনাস ওয়ার্ডের একাংশেও হাম রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের শনিবারের (৪ এপ্রিল) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ১৪০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে ৯২ জনই সন্দেহজনক হামের এবং ১৯ জন চিকেন পক্সের। শয্যা সীমিত হওয়ায় অন্তত ৪৯ জন রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মেঝেতে গাদাগাদি করে শুয়ে থাকা এই রোগীদের মাঝেই নিঃশব্দে ছড়াচ্ছে একটি থেকে আরেকটি ভাইরাস।

ক্রস-ইনফেকশনের এই শঙ্কা কেবল মহাখালী হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ নেই। সঠিক রোগ নির্ণয়ের অভাবে কিংবা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে এখানে এসে পৌঁছাচ্ছেন বহু রোগী। পথে পথে অন্য হাসপাতালেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মুক্তা আক্তারের সন্তানের ক্ষেত্রে ক্রস-ইনফেকশনের ভয়াবহ রূপটি দেখা যায়। শিশুটি প্রথমে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া নিয়ে অন্য একটি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডায়রিয়ার উন্নতি হলেও পাশেই থাকা অন্য রোগী থেকে শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে মহাখালীতে স্থানান্তর করা হয়।
মনিপুরীপাড়ার ইয়াসমিন আক্তার জানান, সম্প্রতি টিকা কেন্দ্র থেকে ফেরার পর সন্তান অসুস্থ হলে শিশু হাসপাতালে (বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট) নেন। সেখান থেকে পাঠানো হয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।
অবশ্য এর পেছনে অন্য হাসপাতালগুলোর ‘অনীহাও’ বড় কারণ বলে মনে করেন ডা. সাখাওয়াত। তিনি ডিএনসিসি হাসপাতালের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে লোকবল বেশি থাকলেও দুই বছরের নিচের শিশু নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। কারণ, এসব শিশুর শরীরে আইভি ক্যানুলা করার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতা তাদের নেই। ফলে অন্যান্য হাসপাতাল থেকে ক্রিটিক্যাল অবস্থার রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ওপর চাপ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

হাসপাতালের ভেতরের ক্রস-ইনফেকশনের পাশাপাশি পরিবারের ভেতরেও দ্রুত ছড়াচ্ছে শৃঙ্খল সংক্রমণ বা ‘চেইন ইনফেকশন’। কড়াইল বস্তির বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, শুরুতে তার ছেলের হাম হয়েছিল, পরে মেয়ের হয়, আর এখন তার ২৮ বছর বয়সী স্বামীও আক্রান্ত। অর্থাৎ পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে আইসোলেশনের অভাবে বাকিরাও চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন।
হামে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবক ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আকবর চৌধুরী জানান, হামের শুরুতে ১০৩-১০৪ ডিগ্রি জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং মাড়িতে সাদা দানার মতো দাগ দেখা যায়। এমন লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তিনি সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আইসোলেশনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন।
রোগীদের চাপে যেমন আইসোলেশন অসম্ভব হয়ে উঠেছে, তেমন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যশোর থেকে আসা রোগীর স্বজন হাসান জানান, হাসপাতালে ক্লিনারের অভাবে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিক থাকছে না।
তাঁর কথার মিল পাওয়া গেল হাসপাতালে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেই। অতিরিক্ত রোগীর চাপে স্বাস্থ্যকর্মীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানালেন, সকাল থেকে নাশতা করারও সময় পাননি তিনি।

ডা. সাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর সারা বছরে ভর্তি রোগী ছিলেন মাত্র ৬৯ জন। কিন্তু এবারের মার্চ মাসেই ৬০০-এর বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। অবস্থা মহামারির দিকে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নীতি-নির্ধারকরা দেবেন, তবে বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মনে হচ্ছে এটি মহামারি রূপেই আসছে।’
সরকার আইসিইউ চালু করেছে, চিকিৎসক দিয়েছে, ওষুধও পর্যাপ্ত। কিন্তু রোগীর প্রবল চাপে সব আয়োজনই যেন ম্লান। হাসপাতালে চার-পাঁচজন শিশু বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন থাকলেও আছেন মাত্র একজন।
এদিকে হাসপাতালে রোগীর এই উপচেপড়া ভিড়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে অন্তত ১৫টি শিশু রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তাঁদের দেওয়া তথ্য ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেও মিল পাওয়া যায়। এই ১৫ রোগীর অভিভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬০ শতাংশেরই বয়স এক বছরের নিচে। এই তথ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন ডা. সাখাওয়াতও। তিনি জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রধান অংশই ছয় মাস থেকে দেড় বছরের শিশু।
দায়িত্বরত এই চিকিৎসক জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। মাতৃকালীন অ্যান্টিবডি ৬ মাসেই অকার্যকর হয়ে যায়। প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুরা টিকার সুরক্ষা পাওয়ার আগেই ভাইরাসের শিকার হচ্ছে।
রোগীর অভিভাবকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৫ শিশু রোগীর ৯৩ শতাংশেরই টিকা কার্ড আছে। তবে ৮০ শতাংশই হামের টিকা পায়নি মূলত বয়স ৯ মাস পূর্ণ না হওয়ার কারণেই।
ডা. সাখাওয়াত টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘কারও সংস্পর্শে আসার তিন দিনের মধ্যে টিকা দিলে সংক্রমণ প্রতিরোধে ভালো কাজ করে।’
তবে চিকিৎসকদের মতে, কেবল সচেতনতাই যথেষ্ট নয়। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, চিকিৎসক সংকট আর অন্যান্য হাসপাতালের প্রত্যাখ্যানের কারণে ক্রস-ইনফেকশনের যে ফাঁদ তৈরি হয়েছে, তা থেকে শিশুদের বাঁচাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি।

রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা মো. রুবেল। ঈদের পরপরই হারিয়েছেন এক ছেলেসন্তানকে। চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। সেই শোক কাটতে না কাটতেই তাঁর আরেক সন্তান চিকেন পক্স নিয়ে ভর্তি রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। অসুস্থ সন্তানের পাশে থাকতে থাকতে তাঁর সুস্থ তৃতীয় সন্তানটিও এখন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
রুবেলের ভাষ্য, ‘আগে যেমন আনছি, এখন তার চেয়েও খারাপ অবস্থা। একটা ছেলে হারাইছি, এখন এই দুইটা নিয়া হাসপাতালে। আল্লাহ যেন সবারে সুস্থ রাখে, কেউ যেন এই রোগে আক্রান্ত না হয়।’
রোগ নিরাময়ের আশায় হাসপাতালে এসে উল্টো নতুন রোগের শিকার হওয়ার এই ভীতিকর পরিস্থিতির নাম চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্রস-ইনফেকশন’।
রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এখন হাম ও চিকেন পক্সের মতো অত্যন্ত ছোঁয়াচে ব্যাধিতে আক্রান্ত অনেক রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ বেডে কেউবা আবার মেঝে বা বারান্দায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপে নিরাময় কেন্দ্রটি নিজেই এখন সংক্রমণের এক নতুন ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্ট ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে স্ট্রিমকে বলেন, ‘চিকেন পক্স, হাম ও মামস—এই রোগগুলো অত্যন্ত সংক্রামক। একটি রোগী অন্য রোগীর কাছাকাছি থাকলেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও রোগীর প্রবল চাপের কারণে তা সবসময় সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি জানান, এক রোগে আক্রান্ত শিশু সুস্থ হওয়ার আগেই অন্য সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসছে। হামের জন্য পুরো হাসপাতালে বরাদ্দ মাত্র ১০টি শয্যা, কিন্তু বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন এর কয়েক গুণ বেশি। শয্যা সংকটের কারণে অন্য সাধারণ ওয়ার্ডে, এমনকি টিটেনাস ওয়ার্ডের একাংশেও হাম রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের শনিবারের (৪ এপ্রিল) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ১৪০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে ৯২ জনই সন্দেহজনক হামের এবং ১৯ জন চিকেন পক্সের। শয্যা সীমিত হওয়ায় অন্তত ৪৯ জন রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মেঝেতে গাদাগাদি করে শুয়ে থাকা এই রোগীদের মাঝেই নিঃশব্দে ছড়াচ্ছে একটি থেকে আরেকটি ভাইরাস।

ক্রস-ইনফেকশনের এই শঙ্কা কেবল মহাখালী হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ নেই। সঠিক রোগ নির্ণয়ের অভাবে কিংবা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে এখানে এসে পৌঁছাচ্ছেন বহু রোগী। পথে পথে অন্য হাসপাতালেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মুক্তা আক্তারের সন্তানের ক্ষেত্রে ক্রস-ইনফেকশনের ভয়াবহ রূপটি দেখা যায়। শিশুটি প্রথমে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া নিয়ে অন্য একটি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডায়রিয়ার উন্নতি হলেও পাশেই থাকা অন্য রোগী থেকে শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে মহাখালীতে স্থানান্তর করা হয়।
মনিপুরীপাড়ার ইয়াসমিন আক্তার জানান, সম্প্রতি টিকা কেন্দ্র থেকে ফেরার পর সন্তান অসুস্থ হলে শিশু হাসপাতালে (বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট) নেন। সেখান থেকে পাঠানো হয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।
অবশ্য এর পেছনে অন্য হাসপাতালগুলোর ‘অনীহাও’ বড় কারণ বলে মনে করেন ডা. সাখাওয়াত। তিনি ডিএনসিসি হাসপাতালের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে লোকবল বেশি থাকলেও দুই বছরের নিচের শিশু নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। কারণ, এসব শিশুর শরীরে আইভি ক্যানুলা করার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতা তাদের নেই। ফলে অন্যান্য হাসপাতাল থেকে ক্রিটিক্যাল অবস্থার রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ওপর চাপ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

হাসপাতালের ভেতরের ক্রস-ইনফেকশনের পাশাপাশি পরিবারের ভেতরেও দ্রুত ছড়াচ্ছে শৃঙ্খল সংক্রমণ বা ‘চেইন ইনফেকশন’। কড়াইল বস্তির বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, শুরুতে তার ছেলের হাম হয়েছিল, পরে মেয়ের হয়, আর এখন তার ২৮ বছর বয়সী স্বামীও আক্রান্ত। অর্থাৎ পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে আইসোলেশনের অভাবে বাকিরাও চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন।
হামে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবক ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আকবর চৌধুরী জানান, হামের শুরুতে ১০৩-১০৪ ডিগ্রি জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং মাড়িতে সাদা দানার মতো দাগ দেখা যায়। এমন লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তিনি সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আইসোলেশনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন।
রোগীদের চাপে যেমন আইসোলেশন অসম্ভব হয়ে উঠেছে, তেমন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যশোর থেকে আসা রোগীর স্বজন হাসান জানান, হাসপাতালে ক্লিনারের অভাবে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিক থাকছে না।
তাঁর কথার মিল পাওয়া গেল হাসপাতালে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেই। অতিরিক্ত রোগীর চাপে স্বাস্থ্যকর্মীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানালেন, সকাল থেকে নাশতা করারও সময় পাননি তিনি।

ডা. সাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর সারা বছরে ভর্তি রোগী ছিলেন মাত্র ৬৯ জন। কিন্তু এবারের মার্চ মাসেই ৬০০-এর বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। অবস্থা মহামারির দিকে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নীতি-নির্ধারকরা দেবেন, তবে বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মনে হচ্ছে এটি মহামারি রূপেই আসছে।’
সরকার আইসিইউ চালু করেছে, চিকিৎসক দিয়েছে, ওষুধও পর্যাপ্ত। কিন্তু রোগীর প্রবল চাপে সব আয়োজনই যেন ম্লান। হাসপাতালে চার-পাঁচজন শিশু বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন থাকলেও আছেন মাত্র একজন।
এদিকে হাসপাতালে রোগীর এই উপচেপড়া ভিড়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে অন্তত ১৫টি শিশু রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তাঁদের দেওয়া তথ্য ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেও মিল পাওয়া যায়। এই ১৫ রোগীর অভিভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬০ শতাংশেরই বয়স এক বছরের নিচে। এই তথ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন ডা. সাখাওয়াতও। তিনি জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রধান অংশই ছয় মাস থেকে দেড় বছরের শিশু।
দায়িত্বরত এই চিকিৎসক জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। মাতৃকালীন অ্যান্টিবডি ৬ মাসেই অকার্যকর হয়ে যায়। প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুরা টিকার সুরক্ষা পাওয়ার আগেই ভাইরাসের শিকার হচ্ছে।
রোগীর অভিভাবকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৫ শিশু রোগীর ৯৩ শতাংশেরই টিকা কার্ড আছে। তবে ৮০ শতাংশই হামের টিকা পায়নি মূলত বয়স ৯ মাস পূর্ণ না হওয়ার কারণেই।
ডা. সাখাওয়াত টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘কারও সংস্পর্শে আসার তিন দিনের মধ্যে টিকা দিলে সংক্রমণ প্রতিরোধে ভালো কাজ করে।’
তবে চিকিৎসকদের মতে, কেবল সচেতনতাই যথেষ্ট নয়। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, চিকিৎসক সংকট আর অন্যান্য হাসপাতালের প্রত্যাখ্যানের কারণে ক্রস-ইনফেকশনের যে ফাঁদ তৈরি হয়েছে, তা থেকে শিশুদের বাঁচাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি।

জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিনে দেশে দেড় হাজারের বেশি ভাস্কর্য ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
১১ দিন আগে
ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন বিএনপির হাফ ডজন নেতা। তাদের মধ্যে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মেয়র প্রার্থী, সংসদ সদস্য ছাড়াও একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন।
১৩ দিন আগে
গ্রামের কৃষিকাজ, দিনমজুরি বা ইটভাটার মতো শ্রমসাধ্য পেশা ছেড়ে রাজধানীমুখী হচ্ছেন। ‘কষ্ট কম, আয় বেশি’– এই আশায় সরাসরি মোটরযুক্ত রিকশা বা ইজিবাইকের চালকের আসনে বসছেন।
১৪ দিন আগে
সারা দেশে ৭৫টি কারাগারে বর্তমানে ৭৭ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের জন্য ঈদুল ফিতরের দিন বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
১৬ দিন আগে