৩০ উপজেলায় টিকাদান কাল, যারা পাবে হামের টিকা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০০
পাঁচ বছরের কম বয়সী সবাই টিকা পাবে। জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে পরে নিতে হবে। স্ট্রিম গ্রাফিক

হাম মোকাবিলায় আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে ১৮টি জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলা ও পৌরসভায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, ন্যাশনাল ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (নাইট্যাগ) সুপারিশে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু আগে টিকা পেয়ে থাকুক বা না থাকুক, পাঁচ বছরের কম বয়সী সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

প্রথম পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি হটস্পটে কার্যক্রম শুরু হলেও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২১ মে’র মধ্যে সারা দেশে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

সমন্বিত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোববার একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকার নবাবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্যসচিব গাজীপুরে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

যেসব এলাকায় চলবে টিকাদান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী যে ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলা ও পৌরসভায় এই টিকাদান চলবে, সেগুলো হলো– রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাটোর সদর ও যশোর সদর।

সংবাদ সম্মেলনে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: বাসস
সংবাদ সম্মেলনে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: বাসস

এসব এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে এখন টিকা দেওয়া হবে না। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাদের টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রোগের জটিলতা কমাতে হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সব রোগীকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকা সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থেকে এই কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।’

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে টিকাদান

টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত বা জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।

২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতের বিষয় নিয়ে তদন্তে সময় নষ্ট না করে বর্তমানে শিশুদের সুরক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে, দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ও রোগটির লক্ষণ নিয়ে আরও ছয়জন মারা গেছে। এদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে দুজন ও উপসর্গ নিয়ে বাকিদের মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে দুজন এবং জেলাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলে সর্বোচ্চ দুজন মারা গেছেন। তবে তাদের বয়স বলা হয়নি। এ নিয়ে দেশে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। আর হামের লক্ষণ নিয়ে ৯৮ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সম্পর্কিত