leadT1ad

ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে কতটা বিপদে পড়বে বাংলাদেশ

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত- ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য বাস্তবতায় নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। একদিকে এটি ভারতকে ইউরোপের বিশাল বাজারে আরও শক্ত অবস্থান করে দিবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশের জন্য বাড়াবে অনিশ্চয়তা। এলডিসি উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের দিক থেকে এই চুক্তি শুধু একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য উদ্যোগ নয়, বরং ভবিষ্যৎ রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সামনে আসছে।

স্ট্রিম গ্রাফিক

২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে (এফটিএ) বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন একে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বা ‘সব চুক্তির জননী’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির ফলে ধাপে ধাপে ভারতের ৯৯ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। এতে ভারত ইইউ বাজারে প্রায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিশেষ করে বস্ত্র, তৈরি পোশাক, চামড়া ও জুতার মতো খাতে বড় সুবিধা পাবে।

তবে বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সামনের সময়টি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হবে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়। এই সুবিধা ‘এভরিথিং বাট আর্মস’(ইবিএ) কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হয়। কিন্তু এলডিসি তালিকা থেকে বের হলে এই সুবিধা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তখন বিকল্প হিসেবে জিএসপি প্লাস সুবিধা না পেলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে নিয়মিত শুল্ক আরোপ হতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের জ্যেষ্ঠ ভিজিটিং ফেলো এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাথুরিয়া এক বিশ্লেষণে বলেন, এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর বাংলাদেশ ইইউর মতো বড় বাজারে বিশেষ সুবিধা হারাবে। ভারত–ইইউ এফটিএ হলে এই চাপ আরও দ্রুত বাড়বে। এতে যেসব খাতে বাংলাদেশ আগে এগিয়ে ছিল, সেখানে ভারত সমান বা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

যদিও কিছু সময়ের জন্য রূপান্তরকালীন সুবিধা থাকবে, তবুও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকির কথা বলছেন। এতে রপ্তানি কমে যাওয়া, চাকরি হারানো এবং অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বাইরে আরও কিছু পরোক্ষ প্রভাব থাকতে পারে। যেমন বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া বা সরবরাহ শৃঙ্খল ভারতে সরে যাওয়া। এগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

রপ্তানি আয়ে বড় ক্ষতির আশঙ্কা: তৈরি পোশাক বস্ত্র খাত সবচেয়ে ঝুঁকিতে

বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটাই তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। আর ইইউতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। এর বার্ষিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৪৪ থেকে ৬০ শতাংশ যায় ইইউতে। ফলে এটি দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক পণ্যে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারে। অন্যদিকে, ভারত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এতে প্রতিযোগিতায় বড় ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। আংশিক সমতা (পার্শিয়াল ইকুইলিব্রিয়াম) মডেলের হিসাবে দেখা গেছে, বর্তমান এলডিসি সুবিধা থাকলেও এফটিএর কারণে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৯০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। ভবিষ্যতে এই সুবিধা কমে গেলে এবং ভারতের সুবিধা বাড়লে বছরে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হতে পারে।

জিটিএপি মডেলভিত্তিক সাধারণ সমতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যদি বাংলাদেশকে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) হিসেবে শুল্ক দিতে হয় এবং ভারত ও ভিয়েতনাম শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়, তাহলে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

এফটিএ আলোচনার সময়কার আগের গবেষণায়ও বলা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের অংশীদারত্ব ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক অমিতেন্দু পালিত এক মতামত লেখায় বলেন, এফটিএর আওতায় বস্ত্র খাতে শুল্ক কমলে কম দামের ভারতীয় পণ্য ইইউ বাজারে বাড়বে। এতে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ চাপের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। না হলে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফরেন ট্রেডের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশিস চক্রবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই চুক্তিতে এমন কিছু ‘রুলস অব অরিজিন’ থাকবে, যা ভারতের সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাড়তি সুবিধা দেবে। এতে চুক্তির প্রথম কয়েক বছরে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এক বিশ্লেষণে বলেন, এই চুক্তির ফলে বিশেষ বাজার সুবিধা দ্রুত কমে আসবে। সময়ের আগেই চাপ তৈরি হবে। তিনি সতর্ক করেন, বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে এবং বছরে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইইউ বাজারে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারে। অন্যদিকে, এফটিএর মাধ্যমে ভারত শূন্য বা কম শুল্ক সুবিধা পেতে পারে। এতে বাংলাদেশের বাজার অংশীদারত্ব ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শিল্প উদ্যোক্তা ফারুক হাসান বলেন, এই চুক্তির প্রভাব বাংলাদেশের জন্য গুরুতর হতে পারে। ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে। তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মাঝারি মেয়াদে বড় চাপ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকনও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে। ভারতের নিজস্ব সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশকে কাঁচামালের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। এদের বেশিরভাগই নারী। এই খাতের সঙ্গে আরও অনেক সহায়ক শিল্প জড়িত। রপ্তানি কমে গেলে ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হবে। এতে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইইউ বাজারে অংশীদারত্ব ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গেলে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত মানুষের চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে এলডিসি-পরবর্তী সময়ের নাজুক অর্থনীতিতে বেকারত্ব আরও বাড়তে পারে।

প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি ভূরাজনৈতিক চাপ

ভারত এই চুক্তির মাধ্যমে বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বস্ত্র খাতে ভারতের অতিরিক্ত রপ্তানি ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

ইউরোপের ২৬৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বাজারে ভারত এখন আরও শক্ত অবস্থানে যাবে। আগে বাংলাদেশ বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার কারণে এগিয়ে ছিল। কিন্তু এখন টেকসই উৎপাদনসংক্রান্ত নতুন নিয়ম, যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম, বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বলেন, এই চুক্তির তাৎক্ষণিক প্রভাব হয়তো খুব বেশি দেখা যাবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যদি ঢাকা নিজস্ব কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে না পারে।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ইইউতে ভারতের শুল্কমুক্ত সুবিধা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর বড় চাপ তৈরি করবে। আর এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর গড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক বাড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করবে।

তৈরি পোশাকশিল্পমালিকদের আরেক সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশ ২০২৯ সালের পর জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলে ইইউতে রপ্তানি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, ভারতের তুলনায় শুল্ক ব্যবধান বেড়ে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি বড় ধাক্কা খাবে।

ঝুঁকি কমাতে করণীয়: সীমিত সময়ের সুযোগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকি কমাতে হলে বাংলাদেশকে দ্রুত ইইউর সঙ্গে নিজস্ব এফটিএ আলোচনায় যেতে হবে। তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে মানবাধিকার ও শ্রমমান সংক্রান্ত সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি মূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদনে জোর দিতে হবে।

সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বাংলাদেশ–ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে বিশ্ববাজারে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রপ্তানি ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এক বিশ্লেষণে বলেন, ভারত-ইইউ এফটিএর কারণে বাণিজ্য অন্যদিকে সরে গেলে বাংলাদেশ বছরে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি হারাতে পারে। দ্রুত নিজেদের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু না করলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও সম্প্রতি ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করেছেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস চান।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ইউরোচেম বাংলাদেশ চেয়ারম্যান নুরিয়া লোপেজ এবং ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা শেষ হওয়ার আগেই ইইউর সঙ্গে এফটিএ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ার পর এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। একই ধরনের একটি চুক্তি ইইউর সঙ্গে হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে।

একই সময়ে ড. ইউনূস ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (ইএইউ) থেকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আশ্বাস বা কথার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন ইইউ বাজারে বাংলাদেশের একক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে।

সামগ্রিকভাবে ভারত–ইইউ এফটিএ বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, বছরে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে লাখো মানুষের চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ২০২৯ সালের পর ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বড় ধরনের সংকট এড়াতে এখনই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত