leadT1ad

একটি দল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে: মাহদী আমিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ২৭
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘লক্ষ্মীপুরে দলটির নেতাদের ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই প্রমাণ। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহারের পাশাপাশি জাল ভোট দিতে বিপুলসংখ্যক বোরখা ও নিকাব তৈরি করা হয়েছে।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, লক্ষ্মীপুরে অবৈধ সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছাপাখানার মালিক আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার নির্দেশেই সিলগুলো তৈরি করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া কার্যাদেশের (অর্ডার) তথ্য, জব্দ করা আলামত ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে এসেছে। এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার কারণে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও পাওয়া গেছে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং বিধিমালা মেনে মুখমণ্ডলে আবরণ খুলে কার্যকরভাবে ভোটার শনাক্ত করার দাবিও জানান তিনি।

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে একই দলের এক নেতার বাড়ি থেকে ক্রিকেটের ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাহলে কি তারা নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতার প্রস্তুতি নিচ্ছে? এমনই যদি হয়, তবে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি’।

পর্যবেক্ষক নিয়োগে অসংগতির ঘটনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে সর্বাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। ৫৫ হাজার ৪৫৪ দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে ‘পাশা’রই রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষে এই সংস্থার তথাকথিত কার্যালয় এবং এর লোকবল বলতে মাত্র একজন, যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে আগেই জানিয়েছি, পর্যবেক্ষকের নামে নিবন্ধিত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক নিয়োগ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বড় অন্তরায়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত