স্ট্রিম ডেস্ক

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারেরও বন্ধন। কিন্তু সব সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না। মতের অমিল, সহিংসতা, বিশ্বাসভঙ্গ কিংবা অন্য নানা কারণে অনেক দম্পতিই শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন। তবে বিচ্ছেদ চাইলেই যে পৃথিবীর সব দেশে একইভাবে তা সম্ভব, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। কোথাও পারস্পরিক সম্মতিতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিভোর্স সম্পন্ন হয়ে যায়, আবার কোথাও বছরের পর বছর আলাদা থেকেও আইনি বিচ্ছেদ পাওয়া যায় না। বিশ্বে এমনও দেশ আছে যেখানে ডিভোর্সের কোনো আইনই নেই।
ডিভোর্স আইন নিয়ে এই বৈচিত্র্যের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক মূল্যবোধ, আইনি কাঠামো এবং রাষ্ট্রের পারিবারিক নীতি। ফলে ‘সবচেয়ে সহজ’ কিংবা ‘সবচেয়ে কঠিন’ ডিভোর্সের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক সূচক না থাকলেও বিভিন্ন দেশের আইন তুলনা করলে একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে আসে।
সহজ ডিভোর্স বলতে কী বোঝায়
ডিভোর্স সহজ কি না, তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যদি স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণ করতে না হয়, পারস্পরিক সম্মতিতেই আবেদন করা যায়, আদালতের দীর্ঘ শুনানি না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে শেষ হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থাকে তুলনামূলকভাবে সহজ ধরা হয়।
বর্তমানে ইউরোপের নর্ডিক দেশগুলো এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্কে ‘নো-ফল্ট ডিভোর্স’ বা দোষ প্রমাণ ছাড়াই বিচ্ছেদের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সম্পর্ক ভেঙে গেছে—এটুকুই যথেষ্ট। কোনো নির্দিষ্ট কারণ আদালতে প্রমাণ করতে হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন অনলাইনে করা যায় এবং সম্পত্তি বা সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ না থাকলে পুরো প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবেই শেষ হয়।
একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও কানাডাতেও। কানাডায় সাধারণত স্বামী-স্ত্রী এক বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্সের আবেদন করতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিবর্তে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
যুক্তরাষ্ট্র: এক দেশে বহু নিয়ম
অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিভোর্স পাওয়া খুব সহজ। বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ সেখানে ফেডারেল নয়, প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব আইন কার্যকর।
নেভাডা বহু বছর ধরেই দ্রুত ডিভোর্সের জন্য পরিচিত। নেভাডা বহু বছর ধরেই ‘ডিভোর্স ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডোসহ অনেক রাজ্যে ‘নো-ফল্ট ডিভোর্স’ চালু থাকায় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণ আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয় না।
তবে সব রাজ্যে নিয়ম এক নয়। কিছু রাজ্যে অপেক্ষার সময় তুলনামূলক বেশি, কোথাও আবার আলাদা থাকার নির্দিষ্ট সময় পূরণ করতে হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি ‘সহজ ডিভোর্সের দেশ’ বলা যায় না।
যেখানে বিচ্ছেদ আজও সবচেয়ে কঠিন
ডিভোর্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত দেশের নাম ফিলিপাইন। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কোনো না কোনোভাবে আইনি বিচ্ছেদের সুযোগ থাকলেও, ফিলিপাইন এখনো সাধারণ নাগরিকের জন্য ডিভোর্স বৈধ করেনি। দেশটির অধিকাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব পারিবারিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এর পরিবর্তে সেখানে রয়েছে এনালমেন্ট বা বিবাহ বাতিলের ব্যবস্থা। তবে এটি ডিভোর্সের মতো নয়। আদালতে প্রমাণ করতে হয়, শুরু থেকেই বিয়েটি আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ, জটিল এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যায়। ফলে বহু দম্পতি আলাদা থাকলেও আইনি দৃষ্টিতে তারা এখনো স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই থেকে যান।
২০২৪ সালে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে ডিভোর্স বৈধ করার একটি বিল পাস হয়। তবে সেটি এখনো সিনেটে অনুমোদন পায়নি। ফলে আইন কার্যকর না হওয়ায় দেশটিতে ডিভোর্স এখনো নিষিদ্ধই রয়ে গেছে।
ভ্যাটিকান: যেখানে বিবাহ মৃত্যুতেই শেষ
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট রাষ্ট্র ভ্যাটিকানেও কোনো সিভিল ডিভোর্স ব্যবস্থা নেই। এর মূল কারণ ক্যাথলিক ধর্মতত্ত্ব। ক্যাথলিক মতবাদ অনুযায়ী বৈধ বিবাহ আজীবনের বন্ধন, যা কেবল মৃত্যুর মাধ্যমেই শেষ হয়। যদিও ভ্যাটিকানের অধিকাংশ বাসিন্দাই ধর্মযাজক বা সন্ন্যাসী এবং সাধারণ পারিবারিক জীবন সেখানে খুব সীমিত, তবুও আইনগতভাবে দেশটিতে ডিভোর্সের কোনো ব্যবস্থা নেই।
মাল্টা: নিষেধাজ্ঞা থেকে পরিবর্তনের পথে
দ্যা গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে মাত্র দেড় দশক আগে পর্যন্ত ইউরোপের একমাত্র দেশ ছিল মাল্টা, যেখানে ডিভোর্স বৈধ ছিল না। ২০১১ সালে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ডিভোর্সের পক্ষে মত দিলে পার্লামেন্ট আইন পাস করে। সেই সিদ্ধান্তকে সে সময় ইউরোপের অন্যতম বড় সামাজিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়েছিল।
ধর্ম, সংস্কৃতি ও আইনের প্রভাব
ডিভোর্স আইন নিয়ে বিশ্বের পার্থক্যের পেছনে ধর্মীয় প্রভাব একটি বড় কারণ। ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ঐতিহাসিকভাবে বিয়েকে আজীবনের ধর্মীয় অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, লিঙ্গসমতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পর্কের ইতি টানতে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একক কোনো চিত্র নেই। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, মরক্কো কিংবা ইন্দোনেশিয়ার আইন এক নয়। কোথাও শরিয়াভিত্তিক পারিবারিক আদালত রয়েছে, কোথাও আবার আধুনিক দেওয়ানি আইনও যুক্ত হয়েছে। ফলে শুধু ধর্ম দিয়ে কোনো দেশের ডিভোর্স ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়াও সামাজিক মর্যাদা ও মূল্যবোধ এসব দেশে বিবাহ বিচ্ছেদে অনেক ভূমিকা রাখে।
সহজ আইন মানেই কি বেশি ডিভোর্স
অনেকের ধারণা, যেখানে ডিভোর্স সহজ, সেখানে বিচ্ছেদের হারও বেশি। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, বিষয়টি এত সরল নয়। ডিভোর্সের হার নির্ভর করে অর্থনৈতিক অবস্থা, নারীর কর্মসংস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, বিয়ের বয়স, শিক্ষা এবং পারিবারিক সংস্কৃতিসহ বহু বিষয়ের ওপর। কোনো দেশে আইন সহজ হলেও মানুষ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতেই পারেন। আবার কঠোর আইন থাকলেও দাম্পত্য জীবনের সংকট কমে যায়—এমন নিশ্চয়তাও নেই।
ফিলিপাইনের ডিভোর্স বিতর্কেও এই যুক্তি সামনে এসেছে। সমর্থকদের দাবি, ডিভোর্স বৈধ করা হলে নির্যাতনের শিকার নারী বা ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের মানুষ নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, এতে পরিবার প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়বে। এই দ্বন্দ্বই দেশটির আইন সংস্কারকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছে।

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারেরও বন্ধন। কিন্তু সব সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না। মতের অমিল, সহিংসতা, বিশ্বাসভঙ্গ কিংবা অন্য নানা কারণে অনেক দম্পতিই শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন। তবে বিচ্ছেদ চাইলেই যে পৃথিবীর সব দেশে একইভাবে তা সম্ভব, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। কোথাও পারস্পরিক সম্মতিতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিভোর্স সম্পন্ন হয়ে যায়, আবার কোথাও বছরের পর বছর আলাদা থেকেও আইনি বিচ্ছেদ পাওয়া যায় না। বিশ্বে এমনও দেশ আছে যেখানে ডিভোর্সের কোনো আইনই নেই।
ডিভোর্স আইন নিয়ে এই বৈচিত্র্যের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক মূল্যবোধ, আইনি কাঠামো এবং রাষ্ট্রের পারিবারিক নীতি। ফলে ‘সবচেয়ে সহজ’ কিংবা ‘সবচেয়ে কঠিন’ ডিভোর্সের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক সূচক না থাকলেও বিভিন্ন দেশের আইন তুলনা করলে একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে আসে।
সহজ ডিভোর্স বলতে কী বোঝায়
ডিভোর্স সহজ কি না, তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যদি স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণ করতে না হয়, পারস্পরিক সম্মতিতেই আবেদন করা যায়, আদালতের দীর্ঘ শুনানি না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে শেষ হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থাকে তুলনামূলকভাবে সহজ ধরা হয়।
বর্তমানে ইউরোপের নর্ডিক দেশগুলো এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্কে ‘নো-ফল্ট ডিভোর্স’ বা দোষ প্রমাণ ছাড়াই বিচ্ছেদের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সম্পর্ক ভেঙে গেছে—এটুকুই যথেষ্ট। কোনো নির্দিষ্ট কারণ আদালতে প্রমাণ করতে হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন অনলাইনে করা যায় এবং সম্পত্তি বা সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ না থাকলে পুরো প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবেই শেষ হয়।
একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও কানাডাতেও। কানাডায় সাধারণত স্বামী-স্ত্রী এক বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্সের আবেদন করতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিবর্তে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
যুক্তরাষ্ট্র: এক দেশে বহু নিয়ম
অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিভোর্স পাওয়া খুব সহজ। বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ সেখানে ফেডারেল নয়, প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব আইন কার্যকর।
নেভাডা বহু বছর ধরেই দ্রুত ডিভোর্সের জন্য পরিচিত। নেভাডা বহু বছর ধরেই ‘ডিভোর্স ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডোসহ অনেক রাজ্যে ‘নো-ফল্ট ডিভোর্স’ চালু থাকায় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণ আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয় না।
তবে সব রাজ্যে নিয়ম এক নয়। কিছু রাজ্যে অপেক্ষার সময় তুলনামূলক বেশি, কোথাও আবার আলাদা থাকার নির্দিষ্ট সময় পূরণ করতে হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি ‘সহজ ডিভোর্সের দেশ’ বলা যায় না।
যেখানে বিচ্ছেদ আজও সবচেয়ে কঠিন
ডিভোর্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত দেশের নাম ফিলিপাইন। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কোনো না কোনোভাবে আইনি বিচ্ছেদের সুযোগ থাকলেও, ফিলিপাইন এখনো সাধারণ নাগরিকের জন্য ডিভোর্স বৈধ করেনি। দেশটির অধিকাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব পারিবারিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এর পরিবর্তে সেখানে রয়েছে এনালমেন্ট বা বিবাহ বাতিলের ব্যবস্থা। তবে এটি ডিভোর্সের মতো নয়। আদালতে প্রমাণ করতে হয়, শুরু থেকেই বিয়েটি আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ, জটিল এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যায়। ফলে বহু দম্পতি আলাদা থাকলেও আইনি দৃষ্টিতে তারা এখনো স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই থেকে যান।
২০২৪ সালে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে ডিভোর্স বৈধ করার একটি বিল পাস হয়। তবে সেটি এখনো সিনেটে অনুমোদন পায়নি। ফলে আইন কার্যকর না হওয়ায় দেশটিতে ডিভোর্স এখনো নিষিদ্ধই রয়ে গেছে।
ভ্যাটিকান: যেখানে বিবাহ মৃত্যুতেই শেষ
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট রাষ্ট্র ভ্যাটিকানেও কোনো সিভিল ডিভোর্স ব্যবস্থা নেই। এর মূল কারণ ক্যাথলিক ধর্মতত্ত্ব। ক্যাথলিক মতবাদ অনুযায়ী বৈধ বিবাহ আজীবনের বন্ধন, যা কেবল মৃত্যুর মাধ্যমেই শেষ হয়। যদিও ভ্যাটিকানের অধিকাংশ বাসিন্দাই ধর্মযাজক বা সন্ন্যাসী এবং সাধারণ পারিবারিক জীবন সেখানে খুব সীমিত, তবুও আইনগতভাবে দেশটিতে ডিভোর্সের কোনো ব্যবস্থা নেই।
মাল্টা: নিষেধাজ্ঞা থেকে পরিবর্তনের পথে
দ্যা গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে মাত্র দেড় দশক আগে পর্যন্ত ইউরোপের একমাত্র দেশ ছিল মাল্টা, যেখানে ডিভোর্স বৈধ ছিল না। ২০১১ সালে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ডিভোর্সের পক্ষে মত দিলে পার্লামেন্ট আইন পাস করে। সেই সিদ্ধান্তকে সে সময় ইউরোপের অন্যতম বড় সামাজিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়েছিল।
ধর্ম, সংস্কৃতি ও আইনের প্রভাব
ডিভোর্স আইন নিয়ে বিশ্বের পার্থক্যের পেছনে ধর্মীয় প্রভাব একটি বড় কারণ। ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ঐতিহাসিকভাবে বিয়েকে আজীবনের ধর্মীয় অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, লিঙ্গসমতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পর্কের ইতি টানতে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একক কোনো চিত্র নেই। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, মরক্কো কিংবা ইন্দোনেশিয়ার আইন এক নয়। কোথাও শরিয়াভিত্তিক পারিবারিক আদালত রয়েছে, কোথাও আবার আধুনিক দেওয়ানি আইনও যুক্ত হয়েছে। ফলে শুধু ধর্ম দিয়ে কোনো দেশের ডিভোর্স ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়াও সামাজিক মর্যাদা ও মূল্যবোধ এসব দেশে বিবাহ বিচ্ছেদে অনেক ভূমিকা রাখে।
সহজ আইন মানেই কি বেশি ডিভোর্স
অনেকের ধারণা, যেখানে ডিভোর্স সহজ, সেখানে বিচ্ছেদের হারও বেশি। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, বিষয়টি এত সরল নয়। ডিভোর্সের হার নির্ভর করে অর্থনৈতিক অবস্থা, নারীর কর্মসংস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, বিয়ের বয়স, শিক্ষা এবং পারিবারিক সংস্কৃতিসহ বহু বিষয়ের ওপর। কোনো দেশে আইন সহজ হলেও মানুষ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতেই পারেন। আবার কঠোর আইন থাকলেও দাম্পত্য জীবনের সংকট কমে যায়—এমন নিশ্চয়তাও নেই।
ফিলিপাইনের ডিভোর্স বিতর্কেও এই যুক্তি সামনে এসেছে। সমর্থকদের দাবি, ডিভোর্স বৈধ করা হলে নির্যাতনের শিকার নারী বা ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের মানুষ নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, এতে পরিবার প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়বে। এই দ্বন্দ্বই দেশটির আইন সংস্কারকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছে।
.png)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশলের বিবাহবিচ্ছেদ। দাম্পত্য, সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁদের জনপ্রিয় ভিডিও সিরিজ ‘কাপলস কর্নার’ একসময় অসংখ্য মানুষের কাছে সুখী সংসার গড়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই ভিডিওগুলোতে ত
৩৬ মিনিট আগে
দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ পণ্য সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয়। তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে শুরু করে কয়লা, ক্লিংকার, স্ক্র্যাপ লোহা, জ্বালানি, সার কিংবা খাদ্যশস্য—সবকিছুর বড় অংশই আসে কিংবা যায় সমুদ্রপথে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরশীল।
১ ঘণ্টা আগে
আবারও আলোচিত ‘পাগলা মসজিদের’ দানবাক্স থেকে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। মসজিদটি কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর এই মসজিদের দানবক্সগুলো থেকে টাকা বের করা হয়। এবার গত শনিবার (২৭ জুন) ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়েছে এবং সেখান থেকে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩৬টি বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে—অর্থাৎ প্রতি ৪০ মিনিটে একটি দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে। একসময়ের ‘অমর সঙ্গী’ টার্মটি এখন মরে যেতে বসেছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তবে চিত্রটি একমাত্রিক নয়। বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাটি স্পষ্ট—বিচ্ছেদ বাড়ছে।
৭ ঘণ্টা আগে