এক্সপ্লেইনার

‘শরণার্থী’ যখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৩৭
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আধুনিক বিশ্বে শরণার্থী সংকট সামলানোর একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলো নিজের দেশে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বদলে অন্য দেশকে অর্থ দিয়ে তাদের সেখানে রাখতে চাইছে। ফলে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্বের বিষয় থাকছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীতি।

পাকিস্তান এই ব্যবস্থার অন্যতম পুরোনো উদাহরণ। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। সেই যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ আফগান মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়।

পাকিস্তানের তখন শরণার্থীদের জন্য কোনো সাংবিধানিক কাঠামো ছিল না। এত বিপুল মানুষকে সামলানোর মতো প্রশাসনিক সক্ষমতাও দেশটির ছিল না। তারপরও পাকিস্তান তাদের আশ্রয় দিয়েছিল।

কিন্তু এই ব্যবস্থায় শুধু শরণার্থীরাই ছিল না। তাদের ঘিরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থও পাকিস্তানে আসতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের স্বার্থ যখন এক জায়গায় মিলল, তখন পাকিস্তান সরকার এবং দেশটিতে দ্রুত বেড়ে ওঠা বেসরকারি সংস্থাগুলোও এই অর্থপ্রবাহ থেকে বড় ধরনের সুবিধা পেতে থাকে।

এভাবেই তৈরি হয় ‘বৈশ্বিক শরণার্থী বাজার’।

সহজ করে বললে, এর অর্থ হলো—ধনী দেশগুলো শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্ব নিজেরা পুরোপুরি না নিয়ে তুলনামূলক দরিদ্র দেশগুলোর ওপর ঠেলে দেয়। বিনিময়ে সেই দেশগুলো পায় বৈদেশিক সহায়তা, বাণিজ্যিক সুবিধা, নিরাপত্তা সহযোগিতা কিংবা কূটনৈতিক সুবিধা।

পাকিস্তান থেকে শুরু করে আজকের রুয়ান্ডা ও তুরস্ক—বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা যাচ্ছে। এমনকি এর মধ্যে বিবেচনা করা যায় বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটও।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট

১৯৭০-৮০-এর দশক থেকে বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিতে শুরু করে। তবে সবচেয়ে বড় ঢল নামে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাচৌকিতে হামলাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু করলে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখে পৌঁছেছে, যার একটি বড় অংশ শিশু ও কিশোর।

এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। ২০১৭ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মোট প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

চলতি বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় (জেআরপি) মোট ৭১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সহায়তায় ১৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

শুরুটা স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে

পাকিস্তানের অর্থনীতি ঐতিহাসিকভাবেই বৈদেশিক সহায়তার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিল। ১৯৮০-এর দশকে দেশটি এত বেশি বিদেশি অর্থ পেতে শুরু করে যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে প্রবেশের মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বর্তমান মূল্যে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। জিয়া সেই অর্থকে ‘সামান্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে পরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পায়। এর মধ্যে ছিল সামরিক সহায়তা এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দেওয়া অর্থ।

এই অর্থ পাকিস্তানের জন্য দুটি বড় সুবিধা তৈরি করেছিল। প্রথমত, বিদেশি অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছিল। দ্বিতীয়ত, এই অর্থপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে পাকিস্তানের সামনে আফগান শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খোলা রাখার একটি বড় কারণ তৈরি হয়েছিল।

১৯৯৯ সালে পাকিস্তানে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সে সময় দেশটিতে প্রায় ১৪ লাখ আফগান ছিল। কিন্তু শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা এই বিপুল অর্থের খুব সামান্যই তাদের কাছে পৌঁছেছিল।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও এর সামাজিক ও জনমিতিক প্রভাব পড়ছিল। কিন্তু সেই পরিবর্তন সামলাতে পাকিস্তান সরকারের কাছে অর্থ ও পরিকল্পনার সহায়তা খুব বেশি ছিল না। ফলে আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অর্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তারা ক্রমেই শরণার্থী আশ্রয় এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তৃতীয় দেশগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছে।

নিজের সীমান্ত থেকে শরণার্থীদের দূরে রাখা

মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার যুদ্ধ এবং অস্থিতিশীল অর্থনীতির কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে। তাদের অনেকেই আশ্রয়ের জন্য এমন দেশগুলোর দিকে যাচ্ছে, যেসব দেশ কোনো না কোনোভাবে তাদের নিজেদের অঞ্চলের যুদ্ধ বা সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু এসব মানুষকে নিজেদের দেশে আশ্রয় দেওয়ার বদলে পশ্চিমা সরকারগুলো ক্রমেই অন্য দেশকে অর্থ দিয়ে তাদের নিজেদের সীমান্ত থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ডিএইচএস এক্সে জানায়, আফ্রিকার দেশ ইসোয়াতিনিতে একটি বিমান পৌঁছেছে। বিমানটিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। তারা সবাই সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এমন বহিষ্কারকারী বিমানগুলো নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি।

পরে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় করা একটি আবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, ১৬০ জন বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে গ্রহণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসোয়াতিনিকে ৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬০ কোটি টাকা দেওয়ার চুক্তি করেছে। অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খরচ পড়েছে প্রায় ৩২ হাজার ডলার বা প্রায় ৩৯ লাখ টাকা।

২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ইসোয়াতিনিতে ৩০ জন বহিষ্কৃত ব্যক্তি পৌঁছেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোট ২৭টি ‘তৃতীয় দেশ’-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছিলেন। এসব চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের ওই দেশগুলোতে রাখা হবে। সবগুলো চুক্তিই বর্তমানে বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এই চুক্তিগুলোর বড় সুবিধাভোগীদের একটি রুয়ান্ডা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫০ জনকে গ্রহণ করার জন্য রুয়ান্ডা ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৯১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র সাতজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি রুয়ান্ডায় পৌঁছেছেন। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য রুয়ান্ডার পাওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

রুয়ান্ডার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তি

যুক্তরাজ্যও আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু এই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

২০২২ সালের জুনে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের শেষ মুহূর্তের একটি রায়ের কারণে যুক্তরাজ্য থেকে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালির উদ্দেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত একটি বিমান আর উড়তে পারেনি। বিমানটি তখন লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরের রানওয়েতে প্রস্তুত ছিল।

এই পরিকল্পনার খরচও ছিল অনেক বেশি। দ্য গার্ডিয়ান যুক্তরাজ্য সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ২০২২ সালের জুনে যে একমাত্র চার্টার্ড ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছিল, তাতে সাতজন আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। সেই একটি ফ্লাইটের খরচ হয়েছিল ৫ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

রুয়ান্ডাকে এই পরিকল্পনার জন্য মোট ২৯০ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত চারজন স্বেচ্ছায় রুয়ান্ডায় গিয়েছিলেন।

২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতায় এসে পরিকল্পনাটি বাতিল করেন। এরপর রুয়ান্ডা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা মামলা করে। রুয়ান্ডার দাবি ছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি যুক্তরাজ্য ভঙ্গ করেছে। হেগের স্থায়ী সালিশি আদালতে মামলাটি করা হয়।

শরণার্থীদের সীমান্তে পৌঁছাতেই না দেওয়া

শরণার্থীদের অন্য দেশে পাঠানোই পশ্চিমা দেশগুলোর একমাত্র কৌশল নয়। আরেকটি পদ্ধতি হলো—তারা যেন শুরুতেই ইউরোপ বা অন্য ধনী দেশগুলোর সীমান্তে পৌঁছাতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা।

এই ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী তুরস্ক। দেশটি ১৯৬১ সালে ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য হয়। পরে ২০১৪ সালে দেশটি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নিজস্ব আইন চালু করে। এর দুই বছর পর, ২০১৬ সালে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এর আওতায় তুরস্কের উপকূলের কাছে থাকা গ্রিক দ্বীপগুলোতে কোনো আশ্রয়প্রার্থী পৌঁছালে তাকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।

২০১৬ সাল থেকে এই চুক্তির আওতায় তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে ১২ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছে। স্বল্পমেয়াদে এই চুক্তির একটি ফল হয়েছে। তুরস্কের কাছের গ্রিক দ্বীপগুলো দিয়ে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা কমেছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে মানুষ ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা বন্ধ করেছে।

‘ইলিগ্যালিটি ইনকর্পোরেটেড: ক্ল্যান্ডেস্টাইন মাইগ্রেশন অ্যান্ড দ্য বিজনেস অব বর্ডারিং ইউরোপ’ বইয়ের লেখক সুইডিশ নৃতাত্ত্বিক রুবেন অ্যান্ডারসন বলেন, একটি পথ বন্ধ হলে মানুষ অন্য পথ খুঁজে নেয়।

নিজ দেশের দারিদ্র্য, যুদ্ধ বা খারাপ পরিস্থিতি থেকে পালাতে মরিয়া মানুষদের সামনে একটি পথ বন্ধ করে দিলে তারা অন্য, অনেক বেশি বিপজ্জনক পথ বেছে নেয়। এর ফলে অভিবাসীদের যাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে আল জাজিরার একটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফ্রন্টেক্স অভিবাসীবাহী নৌকার জিপিএস অবস্থানের তথ্য লিবিয়ার একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘তারেক বিন জিয়াদ’ বা টিবিজেড ব্রিগেডের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিল। পরে ওই মিলিশিয়া ইউরোপীয় জলসীমা থেকে অভিবাসীদের ধরে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যেত। তাদের লিবিয়ার কারাগারে নির্যাতন করা হতো।

এই নির্যাতনের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকারদের মধ্যে ছিল পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিরা।

এই ব্যবস্থার খরচ কত

শরণার্থীদের অন্য দেশে আটকে রাখার এই ব্যবস্থা এখন শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে বাণিজ্যিক সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।

পাকিস্তান ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘জেনারেলাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সেস প্লাস’ বা জিএসপি+ সুবিধা পেয়ে থাকে। এর ফলে পাকিস্তানি পণ্য ইউরোপের বাজারে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পায়। তবে এই সুবিধা পাওয়ার সঙ্গে কিছু শর্তও রয়েছে। এর মধ্যে মানবাধিকার রক্ষা অন্যতম।

জেনারেল জিয়ার পাকিস্তান শীতল যুদ্ধের সময় বৈদেশিক সহায়তার বিনিময়ে আফগান শরণার্থীদের গ্রহণ করেছিল। তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ ও রাজনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে শরণার্থী নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে। আর রুয়ান্ডা ও ইসোয়াতিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ এবং কূটনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গ্রহণ করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামো। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ২০২৬ সালের জন্য প্রয়োজন-ভিত্তিক বাজেট নির্ধারণ করেছে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, শুধু অভিবাসী পাচারের বৈশ্বিক বাজারমূল্যই বছরে অন্তত সাত বিলিয়ন ডলার। আর সামগ্রিক মানবপাচার শিল্প—যেখানে জোরপূর্বক শ্রম ও যৌন শোষণ অন্তর্ভুক্ত, তারা বছরে মুনাফা করে প্রায় ১৭৩ বিলিয়ন ডলার। কোনো কোনো হিসাবে যা ২৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।

তবে এই ব্যবস্থার মূল্য শুধু অর্থ দিয়ে হিসাব করা যায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় মানুষের ওপর সামাজিক চাপ এবং বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তনও।

তথ্যসূত্র: ডন, আইএলও, ফোর্বস, ইউএনএইচসিআর, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইউএনএফপিএ

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত