এক্সপ্লেইনার
কাজী নিশাত তাবাসসুম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশলের বিবাহবিচ্ছেদ। দাম্পত্য, সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁদের জনপ্রিয় ভিডিও সিরিজ ‘কাপলস কর্নার’ একসময় অসংখ্য মানুষের কাছে সুখী সংসার গড়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই ভিডিওগুলোতে তাঁরা শিখিয়েছেন কীভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক সুন্দর রাখা যায়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব সামাল দেওয়া যায়, সন্তানের সুষ্ঠু লালন-পালন বা ‘গুড প্যারেন্টিং’ নিশ্চিত করা যায়।
সেই বহুল প্রশংসিত দম্পতির বিচ্ছেদের খবরের পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন—‘তবে কি সত্যিই উচ্চশিক্ষিত মানুষের মধ্যেই এখন বিবাহবিচ্ছেদের হার বাড়ছে?’ নাকি আলোচিত ব্যক্তিদের বিচ্ছেদ সামনে আসায় এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০২৩ সালে প্রতি ১০ হাজার জনে ১১টি বিবাহবিচ্ছেদ রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৪টি, ২০২১ সালে ৭টি এবং ২০২০ সালে ৮টি। অর্থাৎ বছরভেদে কিছু ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বিচ্ছেদের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ দুই হারই শহরের তুলনায় বেশি।
এর আগে বিবিএসের আরেকটি বিশ্লেষণে প্রথমবারের মতো বিবাহবিচ্ছেদের কারণও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, পরকীয়ার অভিযোগ, দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস ছিল বিচ্ছেদের প্রধান কারণ।
বিবিএসের একটি তথ্য চমকে দেওয়ার মতো বাস্তবতা সামনে এনেছে। তারা বলছে, উচ্চমাধ্যমিক পাস করা মানুষদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন হাজারে ১ দশমিক ৭, অথচ অশিক্ষিতদের মধ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৫।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. জিনাত হুদা বলেছেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকায় একজন শিক্ষিত নারী এখন তার পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতে পারছেন। ফলে পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে অনেক নারী নিজের পেশাজীবনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মনোবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল গবেষক রাজু আকন তাঁর ডিভোর্স স্ট্যাটিস্টিকস ইন বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণায় দেখিয়েছেন, শিক্ষা ব্যক্তিকে সামাজিক নিয়ম ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধকে প্রশ্ন করার সাহস দেয়। এটি ব্যক্তিগত বিকাশ ও আত্মপরিপূর্ণতার আকাঙ্ক্ষা জন্ম দেয়। ফলে শিক্ষাগত মান যত বাড়ে, মানুষ অসুখী বা নিপীড়নমূলক বিবাহের বিকল্প খোঁজার প্রবণতাও তত বাড়ায়।
শিক্ষিত দম্পতিরা বিবাহে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক সংযোগ এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামো প্রায়ই সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। ফলে বিচ্ছেদ একটি সচেতন সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।
আবার ব্যক্তিত্বের সংঘাতের কারণেও অনেকে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন। স্ত্রীর করা আবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, স্বামীর সন্দেহপ্রবণ মনোভাব, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি এবং ব্যক্তিত্বের সংঘাত প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ আছে।
দুজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ যখন বিবাহবন্ধনে আসেন, তখন দুজনেরই নিজস্ব পেশাগত পরিচয়, মতামত ও জীবনদর্শন থাকে। এই দুটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে সমন্বয় অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন একজনের ক্যারিয়ার এগিয়ে যায় আর অন্যজন সেটি মেনে নিতে পারেন না।
হোয়াই উইমেন গেট ডিভোর্স ইন বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণায় তরিকুল ইসলাম তানভীর ও শাফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেছেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রভাবিত করছে। বিশেষত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লিভ-ইন সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যে নারীরা বিয়ের আগে স্বাধীন জীবনে অভ্যস্ত হন, তারা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক নিয়মকানুনকে নিয়ন্ত্রণ হিসেবে অনুভব করেন এবং অনেক সময় বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।
এদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, শিক্ষিত ও চাকরিজীবী নারীরা পরিবারে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নিতে চান না এবং এটি বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে অপর মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যা নিজের স্বামী বা স্ত্রীকে অপর্যাপ্ত মনে করায় এবং বিবাহবিচ্ছেদে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সচেতন মানুষরা এই ফাঁদে বেশি পড়ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শাফি মোস্তফা এবং তারিকুল ইসলাম তানভীরের গবেষণায় বলা হয়েছে, শিল্পায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীবাদী আন্দোলন ঢাকার নারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য তৈরি করেছে যা তাদের অন্য শহরের নারীদের তুলনায় বেশি শিক্ষিত ও ক্ষমতাশালী করে তুলেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলেও বিবাহবিচ্ছেদের হার উল্লেখযোগ্য, কিছু ক্ষেত্রে তা শহরের চেয়েও বেশি। ফলে বিচ্ছেদকে শুধু শিক্ষিত, শহুরে বা উচ্চবিত্ত সমাজের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের চাপ, মাদকাসক্তি, দীর্ঘদিন কর্মসূত্রে স্বামী বা স্ত্রীর দূরে থাকা, অভিবাসন, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দাম্পত্য সম্পর্কে গভীর সংকট সৃষ্টি করে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে নির্যাতন বা অসম্মানজনক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবেও বিচ্ছেদ বেছে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, একক কোনো কারণ নয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিভিন্ন বাস্তবতার সম্মিলিত প্রভাবেই আজ বিচ্ছেদের হার বাড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশলের বিবাহবিচ্ছেদ। দাম্পত্য, সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁদের জনপ্রিয় ভিডিও সিরিজ ‘কাপলস কর্নার’ একসময় অসংখ্য মানুষের কাছে সুখী সংসার গড়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই ভিডিওগুলোতে তাঁরা শিখিয়েছেন কীভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক সুন্দর রাখা যায়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব সামাল দেওয়া যায়, সন্তানের সুষ্ঠু লালন-পালন বা ‘গুড প্যারেন্টিং’ নিশ্চিত করা যায়।
সেই বহুল প্রশংসিত দম্পতির বিচ্ছেদের খবরের পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন—‘তবে কি সত্যিই উচ্চশিক্ষিত মানুষের মধ্যেই এখন বিবাহবিচ্ছেদের হার বাড়ছে?’ নাকি আলোচিত ব্যক্তিদের বিচ্ছেদ সামনে আসায় এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০২৩ সালে প্রতি ১০ হাজার জনে ১১টি বিবাহবিচ্ছেদ রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৪টি, ২০২১ সালে ৭টি এবং ২০২০ সালে ৮টি। অর্থাৎ বছরভেদে কিছু ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বিচ্ছেদের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ দুই হারই শহরের তুলনায় বেশি।
এর আগে বিবিএসের আরেকটি বিশ্লেষণে প্রথমবারের মতো বিবাহবিচ্ছেদের কারণও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, পরকীয়ার অভিযোগ, দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস ছিল বিচ্ছেদের প্রধান কারণ।
বিবিএসের একটি তথ্য চমকে দেওয়ার মতো বাস্তবতা সামনে এনেছে। তারা বলছে, উচ্চমাধ্যমিক পাস করা মানুষদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন হাজারে ১ দশমিক ৭, অথচ অশিক্ষিতদের মধ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৫।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. জিনাত হুদা বলেছেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকায় একজন শিক্ষিত নারী এখন তার পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতে পারছেন। ফলে পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে অনেক নারী নিজের পেশাজীবনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মনোবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল গবেষক রাজু আকন তাঁর ডিভোর্স স্ট্যাটিস্টিকস ইন বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণায় দেখিয়েছেন, শিক্ষা ব্যক্তিকে সামাজিক নিয়ম ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধকে প্রশ্ন করার সাহস দেয়। এটি ব্যক্তিগত বিকাশ ও আত্মপরিপূর্ণতার আকাঙ্ক্ষা জন্ম দেয়। ফলে শিক্ষাগত মান যত বাড়ে, মানুষ অসুখী বা নিপীড়নমূলক বিবাহের বিকল্প খোঁজার প্রবণতাও তত বাড়ায়।
শিক্ষিত দম্পতিরা বিবাহে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক সংযোগ এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামো প্রায়ই সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। ফলে বিচ্ছেদ একটি সচেতন সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।
আবার ব্যক্তিত্বের সংঘাতের কারণেও অনেকে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন। স্ত্রীর করা আবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, স্বামীর সন্দেহপ্রবণ মনোভাব, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি এবং ব্যক্তিত্বের সংঘাত প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ আছে।
দুজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ যখন বিবাহবন্ধনে আসেন, তখন দুজনেরই নিজস্ব পেশাগত পরিচয়, মতামত ও জীবনদর্শন থাকে। এই দুটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে সমন্বয় অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন একজনের ক্যারিয়ার এগিয়ে যায় আর অন্যজন সেটি মেনে নিতে পারেন না।
হোয়াই উইমেন গেট ডিভোর্স ইন বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণায় তরিকুল ইসলাম তানভীর ও শাফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেছেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রভাবিত করছে। বিশেষত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লিভ-ইন সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যে নারীরা বিয়ের আগে স্বাধীন জীবনে অভ্যস্ত হন, তারা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক নিয়মকানুনকে নিয়ন্ত্রণ হিসেবে অনুভব করেন এবং অনেক সময় বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।
এদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, শিক্ষিত ও চাকরিজীবী নারীরা পরিবারে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নিতে চান না এবং এটি বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে অপর মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যা নিজের স্বামী বা স্ত্রীকে অপর্যাপ্ত মনে করায় এবং বিবাহবিচ্ছেদে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সচেতন মানুষরা এই ফাঁদে বেশি পড়ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শাফি মোস্তফা এবং তারিকুল ইসলাম তানভীরের গবেষণায় বলা হয়েছে, শিল্পায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীবাদী আন্দোলন ঢাকার নারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য তৈরি করেছে যা তাদের অন্য শহরের নারীদের তুলনায় বেশি শিক্ষিত ও ক্ষমতাশালী করে তুলেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলেও বিবাহবিচ্ছেদের হার উল্লেখযোগ্য, কিছু ক্ষেত্রে তা শহরের চেয়েও বেশি। ফলে বিচ্ছেদকে শুধু শিক্ষিত, শহুরে বা উচ্চবিত্ত সমাজের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের চাপ, মাদকাসক্তি, দীর্ঘদিন কর্মসূত্রে স্বামী বা স্ত্রীর দূরে থাকা, অভিবাসন, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দাম্পত্য সম্পর্কে গভীর সংকট সৃষ্টি করে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে নির্যাতন বা অসম্মানজনক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবেও বিচ্ছেদ বেছে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, একক কোনো কারণ নয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিভিন্ন বাস্তবতার সম্মিলিত প্রভাবেই আজ বিচ্ছেদের হার বাড়ছে।
.png)

দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ পণ্য সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয়। তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে শুরু করে কয়লা, ক্লিংকার, স্ক্র্যাপ লোহা, জ্বালানি, সার কিংবা খাদ্যশস্য—সবকিছুর বড় অংশই আসে কিংবা যায় সমুদ্রপথে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরশীল।
২ ঘণ্টা আগে
বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারেরও বন্ধন। কিন্তু সব সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না। মতের অমিল, সহিংসতা, বিশ্বাসভঙ্গ কিংবা অন্য নানা কারণে অনেক দম্পতিই শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।
৩ ঘণ্টা আগে
আবারও আলোচিত ‘পাগলা মসজিদের’ দানবাক্স থেকে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। মসজিদটি কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর এই মসজিদের দানবক্সগুলো থেকে টাকা বের করা হয়। এবার গত শনিবার (২৭ জুন) ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়েছে এবং সেখান থেকে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩৬টি বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে—অর্থাৎ প্রতি ৪০ মিনিটে একটি দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে। একসময়ের ‘অমর সঙ্গী’ টার্মটি এখন মরে যেতে বসেছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তবে চিত্রটি একমাত্রিক নয়। বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাটি স্পষ্ট—বিচ্ছেদ বাড়ছে।
৮ ঘণ্টা আগে