জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরান যুদ্ধ যেভাবে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলছে

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৪৪
প্রতীকী ছবি

গত রোববার দুবাইয়ে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের একটি ডেটা সেন্টারে আগুন লাগে। ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সেখানে আঘাত করেছিল। যুদ্ধের কারণে কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সম্ভবত ইতিহাসে এটিই প্রথম।

ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন চরিত্রকে স্পষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান শুধু তাদের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়নি। বরং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে।

গত কয়েক দিনে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তেল প্ল্যাটফর্ম, শোধনাগার, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, হোটেল এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হেনেছে। এসব লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করে ইরান একটি বড় কৌশলগত ঝুঁকি নিয়েছে।

তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ও বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা এমন দেশগুলোকে আঘাত করছে, যারা সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে সক্রিয় ছিল।

উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেছিলেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক চুক্তির পথে ফেরানোর উদ্যোগও নিয়েছিলেন। তাই ইরানের এই হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস—এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। তিনি ইরানকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাই বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের এই হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারে এবং ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় অংশও নিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে চাপ দিচ্ছেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব

গত ২৫ বছরে উপসাগরীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অর্জন করেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। ওমান ছাড়া প্রায় সব উপসাগরীয় দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

কিন্তু ইরানি ড্রোন যখন প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে, তখন সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও প্রকাশ পায়। এতে স্পষ্ট হয়, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

দুবাইয়ের বাসিন্দা ও পর্যটকদের উদ্বেগ কমাতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সম্প্রতি দুবাই মলে ঘুরে বেড়ান। তবে বিনিয়োগকারী ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আশ্বস্ত করতে উপসাগরীয় নেতাদের আরও বড় উদ্যোগ নিতে হতে পারে।

বোর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের বিশ্লেষক এসফান্দিয়ার বাতমানঘেলিদজ বলেন, “দুবাই, দোহা ও রিয়াদের উঁচু আকাশচুম্বী ভবনগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দৃশ্যমান প্রতীক। কিন্তু এই অঞ্চলের প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যায় বৈশ্বিক পণ্য, সেবা, পুঁজি ও মানুষের চলাচলের সঙ্গে এর সংযোগ বিশ্লেষণ করলে। যুদ্ধের কারণে এসব প্রবাহ ব্যাহত হলে এর প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়বে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি সাধারণ কোনো আঞ্চলিক সংঘাত নয়। উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানকার স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রবাণিজ্য, বিমান পরিবহন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল—সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো সংঘাত সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতির এমন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে আঘাত করছে।

জ্বালানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি

এই সংঘাতের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিতে। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপরিশোধিত তেল, মিথানল ও সার এবং প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই রপ্তানি দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বর্তমানে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে ধারণা করা হচ্ছে যুদ্ধ হয়তো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু যদি সংঘাত দীর্ঘ হয় এবং দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকে, তাহলে রাশিয়ার মতো দেশ এতে লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে চীনের জ্বালানি বাজারে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর অংশীদারত্বের একটি অংশ দখল করতে পারে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বেশিরভাগই তেলবাহী নয়, বরং কনটেইনারবাহী জাহাজ। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে অভিযান চালানোর সময় দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে বছরে প্রায় ৫০ লাখ কনটেইনার ওঠানামা করত। এরপর এই পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে।

বর্তমানে জেবেল আলি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত কনটেইনার বন্দরের অন্যতম। এটি বিশ্বের ১৫০টির বেশি বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বন্দরের তুলনায়ও এখানে বেশি পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এই অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমিত থাকবে না; এর অভিঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়বে।

জেবেল আলি বন্দরকে বিশ্বায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে এই বন্দরের ভূমিকা আরও বেড়েছে। বর্তমানে জেবেল আলির মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে পাঁচ শতাধিক চীনা কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আফ্রিকার কোনো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যদি চীনের কোনো সরবরাহকারীর কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনে, তাহলে তা অনেক সময় জেবেল আলি বন্দর হয়ে পাঠানো হয়।

বিশ্ব বাণিজ্যের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলো বৈশ্বিক বিমান চলাচলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুবাই ও দোহাসহ এই অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত ও সংযুক্ত বিমানবন্দরের মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এই বিমানবন্দরগুলো থেকে আট ঘণ্টার ফ্লাইট দূরত্বের মধ্যে বাস করে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এসব বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক আকাশপথে পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৈশ্বিক আকাশপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় ১০ শতাংশ এই অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে সম্পন্ন হয়। বাতমানগেলিদজ বলেন, “রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ব্যবসায়ীরা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির হিসাব করতে শিখেছে। কিন্তু পারস্য উপসাগরে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হলে বিদ্যমান সব অর্থনৈতিক মডেলই ভেঙে পড়তে পারে।”

আর্থিক প্রবাহ ও বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে প্রভাব

উপসাগরীয় অর্থনীতির মধ্য দিয়ে জ্বালানি ও পণ্যের প্রবাহ বাড়ার ফলে এই অঞ্চলের সেবা খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে এখানে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং খাত গড়ে উঠেছে।

গত বছর উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক ইতালির মোট ব্যাংক আমানতের সমান। তবে ইতালির তুলনায় এখানে একটি বড় অংশের আমানত বিদেশিদের। কাতারে মোট আমানতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই হার প্রায় এক-দশমাংশ।

দুবাই ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোরও একটি বড় কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ পাঠানোর কাজই করে না, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যকার সীমান্তপারের অর্থ লেনদেনও পরিচালনা করে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ স্বর্ণ বাণিজ্য দুবাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক অর্থনীতির জন্য দুবাই একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উত্থান আন্তর্জাতিক পুঁজির প্রবাহও সহজ করেছে। যদিও এই অঞ্চলের পুঁজিবাজার তুলনামূলক ছোট, তবু দুবাই, আবুধাবি ও দোহা ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি এখানে বিনিয়োগ করছেন।

এই বিশেষ ভূমিকার একটি প্রতীকী উদাহরণ হলো—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টেরও দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেটে সরাসরি স্বার্থ রয়েছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের পরিকল্পিত প্রকল্পগুলোর প্রথমটি, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ার, বর্তমানে দুবাইয়ে নির্মাণাধীন।

বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলো বিদেশে সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমেও তাদের ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য এগিয়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকারীদের বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রায় ৪৩ শতাংশ এসেছে এই অঞ্চলের সাতটি প্রধান সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে। ওই বছর তাদের মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের বড় চুক্তিগুলোর মধ্যে ছিল কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির একটি বড় বিনিয়োগ, যা করা হয় জ্যারেড কুশনারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে।

যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত

কিন্তু চলমান যুদ্ধ এই সব অর্থনৈতিক প্রবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের মাত্র এক-পঞ্চমাংশেরও নিচে নেমে আসে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের উদ্দেশে ৭০ শতাংশের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই সময়ে কাতার ও সৌদি আরবের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শেয়ারবাজারে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দুবাইয়ের স্বর্ণবাজারও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এত বড় অর্থনৈতিক ঝাঁকুনির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সমন্বিত কোনো পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থব্যবস্থার বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন একবার বলেছিলেন, আধুনিক যুগে যুদ্ধের প্রভাব আর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পড়তেই পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, সেখানে বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে ছিল। বাতমানগেলিদজ উল্লেখ করেন, এই প্রথম কোনো সংঘাত সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রগুলোকে আঘাত করছে। কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক বা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধগুলো কখনোই বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি ব্যবস্থার মূল অবকাঠামোসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও এভাবে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলেনি।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, তখন তা উপসাগরীয় মিত্রদের নজিরবিহীন হামলার মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, জ্বালানি ও পুঁজির প্রবাহকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

সম্পর্কিত