এক্সপ্লেইনার

পুশইন-পুশব্যাক ঠেকাতে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

কাজী নিশাত তাবাসসুম
কাজী নিশাত তাবাসসুম

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৮: ৩৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের দুটি উপজেলার ভারত-সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের (ঠেলে দেওয়া) চেষ্টা করে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তীব্র বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং প্রায় ৭০ ঘণ্টা শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ থাকার পর বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সীমান্ত রাজনীতি ও অভিবাসন সংকটের আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পুশব্যাক’ ও ‘পুশইন’। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা মানবিক সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ যখন একটি দেশের সীমান্তে আশ্রয় চাইতে আসে, তখন অনেক ক্ষেত্রে তাদের আবেদন বিবেচনা না করেই জোরপূর্বক ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও শরণার্থীবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রক্রিয়াকে ‘পুশব্যাক’ বলে থাকে।

অন্যদিকে ‘পুশইন’ বলতে বোঝানো হয়, কোনো দেশ সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের জোরপূর্বক অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়া বা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ অনেক বেড়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে? সীমান্তে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া কি বৈধ? আর মানুষকে জোর করে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি সুরক্ষা রয়েছে?

পুশব্যাক কী

পুশব্যাক হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সীমান্ত অতিক্রমকারী ব্যক্তি বা আশ্রয়প্রার্থীকে তার সুরক্ষার প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই না করেই সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয়। অনেক সময় নৌকায় করে সমুদ্রপথে আসা শরণার্থীদেরও আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের অভিযোগ বহুবার উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, পুশব্যাকের ফলে নির্যাতন, যুদ্ধ বা নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি: নন-রিফাউলমেন্ট

পুশব্যাকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো নন-রিফাউলমেন্ট। এই নীতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তার জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে এই নীতির উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এটি আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে কোনো রাষ্ট্র কনভেনশনের সদস্য না হলেও অনেক ক্ষেত্রে এই নীতি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউনাইটেড নেশন হাই কমিশনার ফর রিফিউজি (ইউএনএইচসিআর) দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়ে সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার পরিপন্থী।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের (ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটসের) ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তিরই নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য অন্য দেশে আশ্রয় খোঁজার অধিকার রয়েছে। পুশইন বা পুশব্যাক এই মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সনদের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো দেশে পুশব্যাক করা যাবে না যেখানে তিনি শারীরিক নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের শিকার হতে পারেন।

মানবাধিকার আইন কী বলে

শুধু শরণার্থী আইন নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনও পুশব্যাকের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করেছে। বিশেষ করে নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী, কাউকে এমন স্থানে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার ওপর নির্যাতন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, শিশু অধিকার সনদ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক মানবাধিকার ব্যবস্থাও রাষ্ট্রগুলোর ওপর মানবিক দায়িত্ব আরোপ করে। আন্তর্জাতিক আদালত ও মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়েও বলা হয়েছে, সীমান্তে পৌঁছানো ব্যক্তিদের অন্তত তাদের দাবি উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে।

পুশইন কেন বিতর্কিত

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু পুশব্যাক নয়, ‘পুশইন’ নিয়েও বিতর্ক বেড়েছে। যখন কোনো দেশ সীমান্তে আটক মানুষকে জোর করে প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেয়, তখন বিষয়টি শুধু মানবাধিকার নয়, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও তৈরি করে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রায়ই দুই দেশের মাঝামাঝি অবস্থানে আটকে পড়েন। যাকে নোম্যান্সল্যান্ড বা শূন্যরেখা সীমানা বলা হয়। যেখানে অনেক সময় তারা খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন। প্রতিনিয়ত ঘটছে এমন ঘটনা। বাংলাদেশের প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাত্র ২৪ দিনে ১ হাজার ১৪৩ জনকে ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

বিজিবির আরেক তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে তিন মাসে ২২৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশি, ভারতীয় ও মিয়ানমারের নাগরিকও ছিলেন বলে বলা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে যে, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে কমপক্ষে ১০টি পুশইনের চেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।

অন্যদিকে ভারতীয় পত্রিকা দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে বলা হয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) তথ্য অনুযায়ী মোট পাঁচ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গত তিন বছরে সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুশইন ও পুশব্যাক উভয় ক্ষেত্রেই মানবিক বিবেচনার চেয়ে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পুশইন-পুশব্যাকের শাস্তি

রিসার্চ গেটের আইনবিষয়ক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুশইন-পুশব্যাকের সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির কথা উল্লেখ নেই। তবে এটি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং এর ফলে দায়ী রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনি জরিমানা, নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। যদি কোনো রাষ্ট্র বা সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং সুপরিকল্পিত উপায়ে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পুশব্যাক করে, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধি অনুযায়ী তা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কেন না মানবাধিকার আইন বা শরণার্থী আইনের লঙ্ঘনের ফলে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক দায় সৃষ্টি হতে পারে। আদালতের রায়, ক্ষতিপূরণ, নিন্দা, নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক চাপ আসতে পারে।

পুশইন ও পুশব্যাকের শাস্তি দেশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। ইউরোপীয় দেশগুলোতে এর শাস্তিস্বরূপ বড় অঙ্কের টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিনির্ধারক বা কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে শাস্তির মুখোমুখি করার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২’ এবং পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে জেল বা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ভারতে কোনো বাংলাদেশি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করলে ভারতের ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬’ অনুযায়ী তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। যার শাস্তি হিসেবে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কেন আলোচনায়

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুশব্যাকের অভিযোগও বেড়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে বহুবার বিতর্ক হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পূর্ব ইউরোপের সীমান্ত, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এবং এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। দক্ষিণ এশিয়াতেও সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো বা অন্য দেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ সময়ে সময়েই সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

রাষ্ট্রগুলোর যুক্তি কী

পুশব্যাকের সমালোচনা থাকলেও রাষ্ট্রগুলো সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরে। তাদের দাবি, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। মানব পাচার, চোরাচালান কিংবা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকলেও তা মানবাধিকার ও শরণার্থী আইনের বাধ্যবাধকতার বাইরে নয়। কোনো ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাই না করে সরাসরি ফেরত পাঠানো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সমাধানের পথ কী

মার্কিন মানবাধিকার আইনজীবী এলিনর এসারসহ অভিবাসন ও শরণার্থী অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুশইন ও পুশব্যাক সংকট মোকাবিলায় কেবল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করাই যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতিগুলোও সমানভাবে অনুসরণ করতে হবে। তাদের মতে, প্রথমত সীমান্তে পৌঁছানো ব্যক্তিদের জন্য স্বচ্ছ, কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে সীমান্তে আটকে পড়া মানুষদের মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার থাকা প্রয়োজন। যাতে সম্ভাব্য অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। সর্বোপরি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র তার সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও সমানভাবে পালন করবে।

পুশইন ও পুশব্যাক নিয়ে বিতর্ক মূলত নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যকার টানাপোড়েনকে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক আইনের কেন্দ্রীয় নীতি হলো কোনো মানুষকে এমন স্থানে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। নন-রিফাউলমেন্ট নীতি, মানবাধিকার আইন এবং শরণার্থী সুরক্ষা কাঠামো এই সুরক্ষার ভিত্তি তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সীমান্ত সংকটগুলো দেখিয়েছে, অভিবাসন ও শরণার্থীর সংকটে রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান যতই কঠোর হোক না কেন, আন্তর্জাতিক আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর সেই কারণেই পুশইন ও পুশব্যাক ইস্যু আজ শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অংশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত