leadT1ad

চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

পর্দায় ফুটে ওঠা চে গুয়েভারার বিপ্লবী জীবন

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৯: ৩০
স্ট্রিম গ্রাফিক

সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা চে গুয়েভারাকে নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক সিনেমা ও তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরপরই হলিউডে সিনেমা বানানো হয়েছিল, যেখানে অভিনয় করেছিলেন মরুর বুনো বেদুঈন-খ্যাত ওমর শরীফ। তবে চলচ্চিত্র সমালোচক ও বোদ্ধাদের মতে, চে-র ঘটনাবহুল ও মহাজাগতিক জীবনকে সত্যিকার অর্থে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া স্টিভেন সোডারবার্গের অস্কারজয়ী দুই পর্বের স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘চে’।

দুটি খণ্ডে নির্মিত এই চলচ্চিত্র চে গুয়েভারার জীবনকে অসাধারণ শৈল্পিকতায় দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেছে। ‘চে: পার্ট ওয়ান’-এ দেখানো হয়েছে চে-র সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর ঐতিহাসিক সাক্ষাতের মুহূর্ত। কিউবার মুক্তি সংগ্রামে জড়িয়ে তাঁর ‘চে’ হয়ে ওঠা এবং সফল বিপ্লবের কথা আঁকা হয়েছে এখানে।

অন্যদিকে, ‘চে: পার্ট টু’-তে দেখানো হয়েছে চে-র জীবনের শেষ যাত্রা, বলিভিয়ায় তাঁর আমৃত্যু লড়াইয়ের গল্প। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বেনিচ্চিও দেল তোরো, যাঁর অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। নিছক গৎ-বাধা চলচ্চিত্রের মতো কাহিনী প্রবাহ একদিকে না এগিয়ে এই বিশেষ চলচ্চিত্রে একাধিক ঘটনা, বিশেষ করে অতীত ও বর্তমানের সমন্বয় ঘটিয়ে বারংবার আগ-পিছ করা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির প্রথম পর্বের শুরু ১৯৬৪ সালের মে মাসের হাভানা দিয়ে, যেখানে চে স্মরণ করছেন পুরোনো দিনের নানান রঙের স্মৃতিময় দিনগুলো। ১৯৫২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কিউবার সামরিক জেনারেল বাতিস্তা ক্যু করে ক্ষমতা দখল করল, তারপরই শুরু হলো দেশবাসীর অধিকার পদদলিত করে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ঔপনিবেশিক প্রভুদের নির্লজ্জ পদলেহন।

বলিভিয়ায় চে। সংগৃহীত ছবি
বলিভিয়ায় চে। সংগৃহীত ছবি

১৯৫৫ সালের জুলাই মাসে মেক্সিকো সিটিতে এক নৈশভোজে কিউবার নির্বাসিত তরুণ আইনজীবী ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে চে-র পরিচয়। তারপর অবিরাম ১২ ঘণ্টা চলল তাঁদের কথোপকথন; অন্য বন্ধুরা ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু দুই ভবিষ্যৎ বিপ্লবীর কথা শেষ হয় না, আগামী দিনের সাম্রাজ্যবাদমুক্ত শক্তিশালী লাতিন আমেরিকার মায়াময় স্বপ্নে। এভাবেই শুরু হলো তাঁদের কিংবদন্তিতুল্য বন্ধুত্বের সূচনা—যা দুজনের জীবনেই কাজ করেছে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে।

সবার কাছে আর্নেস্তো নয়, বরং চে নামে পরিচিত হতে থাকেন তিনি (আর্জেন্টাইন ব্যক্তি হিসেবে সম্বোধন)। মুহূর্তের মধ্যেই চে নিজেকে আবিষ্কার করেন উত্তাল সমুদ্রের মাঝখানে এক পলকা জলযানে; ফিদেলের আহ্বানে সশস্ত্র বিপ্লবে অংশ নিতে চুপিসারে কিউবার দিকে পাড়ি জমিয়েছেন তাঁরা। শুরু হলো সিয়েরা মায়েস্ত্রা পার্বত্য অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ। দিন যতই গড়াচ্ছিল, সাধারণ মানুষের অকুন্ঠ সমর্থনে সেনা অপশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তাঁদের দলের যোদ্ধাদের সংখ্যা ততই বাড়তে থাকল।

দলের অন্য সবাই যখন সারা দিনের অভিযান, কসরত বা যুদ্ধ শেষে হৈ-হুল্লোড়ে মত্ত, চে তখন নিবিষ্ট থাকতেন রোজনামচা লেখায়। তাঁর রোজনামচা লেখার অভ্যাস ছিল আজীবন। এর মধ্যে যৌবনের প্রারম্ভে সমগ্র লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ নিয়ে লেখা ‘মোটরসাইকেল ডায়েরি’ তো ক্ল্যাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। সেই সঙ্গে আছে তাঁর কিউবার ডায়েরি, আফ্রিকার দিনলিপি ও বলিভিয়ার ডায়েরি। যুদ্ধের সেই চরম ব্যস্ততার মধ্যেও চে-র আশ্রয় ছিল বই পড়া আর আপন চিন্তা লিখে রাখা।

চলচ্চিত্রের পর্দায় সেই সংগ্রামময় গেরিলা জীবনের অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে আসি আমরা। চে এখন কিউবার শিল্পমন্ত্রী, আবার কখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর; এমনকি জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে সাংবাদিকদের সমস্ত কূটনীতির পর্দা ভেঙে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন—কিউবা স্বাধীনভাবে, মাথা উঁচু করে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বাঁচতে চায়। তারা কখনোই সোভিয়েত ইউনিয়নের কোনো ব্লক বা লাতিন আমেরিকার ঘাঁটি হিসেবে কাজ করবে না।

সিনেমার দ্বিতীয় খণ্ডের শুরুতেই দেখা যায়, ১৯৬৫ সালের মে মাসে চে কাউকে না জানিয়ে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। রেখে গেছেন প্রাণপ্রিয় বন্ধু ফিদেলের কাছে একটি বিদায়ী চিঠি। জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে ১৯৬৫ সালের ৩ অক্টোবর চিঠিটি পাঠ করেন আবেগাপ্লুত কিউবান প্রেসিডেন্ট। সেখানে লেখা ছিল, চে কিউবার দায়িত্ব পালনের পর চলেছেন অন্যান্য দেশে। সব দেশই যে তাঁর মাতৃভূমি!

আবার যুদ্ধের অরণ্যে ফিরে গিয়ে দেখা যায়, সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নীতি-নির্ধারণী সভা করছেন চে এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতা আরোপ করছেন। এর মধ্যেও দেখা যায়, গেরিলাদের নীতি ভঙ্গ করে পথভ্রষ্ট দু-একজন স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে খাদ্য-শস্য আদায় করে, অস্ত্রের মুখে নির্লিপ্ত ধর্ষণ চালায় কিষানি বালিকার ওপর। এদের একজন ছিল সেনাবাহিনীর চর, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল গেরিলাদের মহিমাকে কালিমালিপ্ত করা। নেতা হিসেবে অত্যন্ত কঠোর চে, বিপ্লবের আদর্শ ধরে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে সেই অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন।

কী সংগ্রামময় সে জীবন! আহার-নিদ্রার কোনোই নিশ্চয়তা নেই; বুক-সমান জলে হেঁটে গেরিলারা পাড়ি দিচ্ছে খরস্রোতা নদী, মাথার ওপরে ঝুলে আছে বেজায় ভারী বোঝার ভার। অসাধারণ ক্যামেরার কাজ মুহূর্তের মাঝে আমাদের নিয়ে যায় ক্রান্তীয় সেই দ্বীপে, চিটচিটে গরমের মাঝে ইক্ষু খেতে, কখনো বা নদীর শীতলতায়।

আবার জাতিসংঘের ভাষণে চে যুক্তরাষ্ট্রের সারা বিশ্বের ওপর ছড়ি ঘোরানোর স্বভাবের তীক্ষ্ণ ও কঠোর সমালোচনা করেন। উদাহরণ হিসেবে গুয়াতেমালা, মেক্সিকো, পানামাসহ নানা দেশে তাদের হঠকারী আগ্রাসন এবং সিআইএ-র মাধ্যমে সংঘটিত গুপ্তহত্যার কথা তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাদানুবাদে লিপ্ত হন ও সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।

আবার সিয়েরা মায়েস্ত্রোর গহীনে ফিদেল ও চে—তাবুর ভেতরে আগুনের অশরীরী আলোয় তাঁরা বিভোর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গঠনের সুদূর পরিকল্পনা নিয়ে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে কিউবান তরুণী গেরিলা অ্যালাইদার সঙ্গে পরিচয় হয় চে-র; বিপ্লব বাস্তবায়িত হওয়ার পর পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তাঁরা। একে একে শহরের পর শহর জুড়ে বিজয়কেতন ওড়াতে থাকেন গেরিলারা। যেসব জায়গায় তাঁরা যান, সেনাদখলদারিত্ব অবসানের পর উৎফুল্ল জনতা রাস্তায় নেমে এসে বরণ করে নেয় তাদের পরম আত্মীয়তায়। চে হয়ে ওঠেন তাদের স্বপ্ননায়ক; ভিনদেশি এক তরুণ তাদের দেশের মানুষের মুক্তির জন্য প্রাণবাজি রেখে অকুতোভয়ে লড়ে যাচ্ছেন, এই বিষয়টি তাদের বিশেষভাবে উদ্বেলিত করে তোলে, অনেকেই শুরু করে তাঁর স্বাক্ষর সংগ্রহ।

সিনেমার একটি দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি
সিনেমার একটি দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি

যদিও চে সবসময়ই উল্লসিত জনতাকে বলে এসেছেন, এই কৃতিত্ব তাঁর দলের সকল গেরিলার, এটি একটি দলগত প্রচেষ্টা। এর ফাঁকেই ফাঁকেই চলতে থাকে চে-র অন্য ভূমিকা—একজন ডাক্তার হিসেবে কেবলমাত্র আহত সহযোদ্ধাদেরই নয়, সুযোগ পেলেই রোগাক্রান্ত স্থানীয়দের সেবায় হাত বাড়িয়ে দিতেন এই ‘বিশ্বরেকর্ডধারী’ ডাক্তার।

কিউবার অন্যতম বৃহত্তম শহর সান্তা ক্লারার পতনের পর বেতারে খবর ভেসে আসে—স্বৈরাচারী বাতিস্তা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আমেরিকায়। উল্লাসে ফেটে পড়ে আপামর জনসাধারণ। এক সহযোদ্ধা আবেগে আপ্লুত হয়ে জিজ্ঞেস করে, বিপ্লব তো সফল, এখন তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারবে কি না। গভীর প্রজ্ঞা নিয়ে চে জানান, এটা কেবল একটা খণ্ড যুদ্ধজয়; এখন সবার মূল দায়িত্ব হবে দেশ গড়ার কাজে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু উৎসর্গ করা। রাজধানী হাভানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তাঁরা পরের দিন। পথে গুটিকয় গেরিলাকে লুট করা গাড়ি ব্যবহার করতে দেখে তাঁদের গতিপথ রোধ করে বজ্রকণ্ঠে চে জানান, এমন অরাজকতার জন্য বিপ্লব হয়নি। অন্যের জিনিস অন্যায়ভাবে ব্যবহার করার চেয়ে বরং পায়ে হেঁটে দূরের হাভানায় রওনা হওয়া অনেক শ্রেয়তর। তাঁর আদেশে লজ্জিত সহযোদ্ধা গাড়ি ফেরত দিতে যায়। শুরু হয় হাভানার পথযাত্রা, বাতাসে ভেসে আসে অপার্থিব সুরমূর্ছনা—এভাবেই যবনিকাপাত ঘটে প্রথম খণ্ডের।

সিনেমার দ্বিতীয় খণ্ডের শুরুতেই দেখা যায়, ১৯৬৫ সালের মে মাসে চে কাউকে না জানিয়ে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। রেখে গেছেন প্রাণপ্রিয় বন্ধু ফিদেলের কাছে একটি বিদায়ী চিঠি। জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে ১৯৬৫ সালের ৩ অক্টোবর চিঠিটি পাঠ করেন আবেগাপ্লুত কিউবান প্রেসিডেন্ট। সেখানে লেখা ছিল, চে কিউবার দায়িত্ব পালনের পর চলেছেন অন্যান্য দেশে। সব দেশই যে তাঁর মাতৃভূমি! বিপ্লবের আগুনের শুদ্ধিমন্ত্র ছড়িয়ে দিতে চান তিনি সবখানে, গাইতে চান প্রতিটি ভূখণ্ডে সাম্যবাদের গান।

এর ঠিক এক বছর পর এক গোপন গ্রীষ্মকালীন আবাসে হাজির হন ফিদেল। দেখা হয় এক প্রৌঢ় উরুগুয়ান ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে থাকা চে-র সাথে। বলিভিয়া সফরের খুঁটিনাটি নিয়ে কথা হয় দুই বন্ধুর মাঝে। পরিবারের সঙ্গে আবেগঘন অল্প সময় কাটানোর পরপরই বলিভিয়া রওনা দেন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করেন স্থানীয় সাম্যবাদীদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পনামত। দলে দলে তরুণেরা যোগ দিতে থাকে, চে তাঁদেরকে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল শেখাতে থাকেন হাতে-কলমে। আর্থিকভাবে প্রচণ্ড দরিদ্র স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানরা; শিক্ষা-চিকিৎসার কোনো বালাই নেই, নেই কোনো কর্মসংস্থান। আছে ক্ষুধাক্রান্ত কচি শিশুমুখের সারি প্রতিটি ঘরে। অপ্রতুল অবস্থার মাঝেও চে চেষ্টা করে যান যথাসম্ভব সুচিকিৎসা দানের।

সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

বলিভিয়ায় আগমনের পর ১০০ দিন পার হয় গেরিলাদের সংগঠিত করার কাজে। এর মাঝেই তাঁদের গোপন আস্তানায় সেনাবাহিনী হামলা চালিয়ে পায় কিউবার চিহ্নযুক্ত একটি শার্ট। প্রেসিডেন্টের প্যালেসে বসে জরুরি গোপন সভা—উচ্চপদস্থ আমেরিকানরা চায় বিপ্লব দমানোর জন্য তাদের নিয়ন্ত্রিত পুতুল বলিভিয়ান রাষ্ট্রপতিকে সর্বতো সাহায্য করতে। পরবর্তীতে সিআইএ যোগ দেয় এই দমনপীড়নে।

২৮০ দিনের মাথায় প্রবল অসুস্থ চে শিকার হন গুপ্ত আক্রমণের। আত্নগোপন করেন তাঁরা। ৩২৪ দিনের মাথায় ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম লা হিগুয়েরায় ক্যাম্প স্থাপন করেন গেরিলারা। সেখানকার শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেন রকমারি খাবার, বড়দের উদ্দেশ্যে আগুনঝরা বক্তব্য রাখেন চে। স্বপ্ন বুনে দেন শ্রেণি-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের। পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতির খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকবার চোরাগোপ্তা আক্রমণের শিকার হন তারা। বলিভিয়ায় প্রবেশের ৩৪০ দিনের মাথায় জীবনের শেষ যুদ্ধে শত্রুর গুলিতে রাইফেল ভেঙে যাওয়ার পর শারীরিকভবে অতি দুর্বল ও ক্লান্ত চে সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হন।

কিন্তু বিপ্লবের মন্ত্রে তখনো তাঁর সত্তায় সমানভাবে উদ্দীপ্ত, প্রজ্জ্বলিত তার ক্ষুরধার বক্তব্য। তাকে হেয় করার জন্য বন্দিশালায় তার সামনেই প্রিয় দুই সহযোদ্ধার মৃতদেহ ফেলে রাখে সৈন্যরা। পাহারাদার সৈন্যের কৌতূহলী প্রশ্নে ঠোঁটের কোণে আলতো রহস্যময় হাসি নিয়ে তিনি স্মরণ করেন নিজের পুত্র-কন্যাদের। দার্শনিকের মতো জানান, রূপকথার ঈশ্বরে বিশ্বাস নেই তার। অবাক পাহারাদার প্রশ্ন করে, ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকলে একজন মানুষ বা একটি জাতি এগোতে পারে কীভাবে! চে-র উত্তর ছিল—নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে, মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখে।

৯ অক্টোবর, ১৯৬৭। বলিভিয়ায় অবস্থানের ৩৪১তম দিনে সিআইএ কর্মকর্তার নির্দেশে চে গুয়েভারাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ বাক্য ছিল—‘গুলি কর, তোমরা তো হত্যা করছ কেবল একজন মানুষকে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত