ফাবিহা বিনতে হক

‘সুচিত্রা সেন’ নাম উচ্চারণ করলেই বাঙালির মানসপটে আজও ভেসে ওঠে একজন চিরতরুণীর মুখচ্ছবি। তাঁর পাখির নীড়ের মত চোখের মায়াময় চাহনি দেখে মনে হয় এক্ষুণি উত্তম কুমার বলে বসবেন, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন!’
জীবনের দীর্ঘসময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পরও দর্শকের মন থেকে তাঁর স্মৃতি মুছে যায়নি। তাঁর কথা বলার ধরন, তাকানোর ভঙ্গিমা আর মুখের অভিব্যক্তি—সবকিছুই ছিল জাদুকরী। সিনেমায় তাঁর চরিত্রকেও দিতেন নিত্যনতুন লুক। দর্শক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকত। এই সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মোহময় ব্যক্তিত্ব।
ষাটের দশকে কলকাতার বাংলা সিনেমায় অনেক গুণী ও জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। কিন্তু সুচিত্রা সেন ছিলেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে, একেবারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। পাবনার রমা থেকে তিনি পুরো প্রজন্মের স্বপ্নের নায়িকাতে পরিণত হয়েছিলেন।
ষাটের দশকে কলকাতায় সুপ্রিয়া দেবী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি নায়িকারা অভিনয় করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই অভিনয়ে দারুণ ছিলেন। কিন্তু সুচিত্রা সেন ছিলেন সবার চেয়ে আলাদা। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সুপারস্টার। সেই সময়ের হিসেবে একজন নায়িকার স্টার হয়ে ওঠা খুব সহজ ছিল না।

এই এগিয়ে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তাঁর অভিনয় দক্ষতা, অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স এবং নিজের স্টাইলকে বহন করার আত্মবিশ্বাসের কথা বলা যেতে পারে। সুচিত্রা সেন খুব নিখুঁতভাবে সিনেমার চরিত্র অনুযায়ী নিজের লুক ও ফ্যাশন বদলে ফেলতেন। তিনি যখন যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাঁর পোশাক ঠিক সেই চরিত্রের কথাই বলেছে।
অন্য নায়িকারা যখন সাধারণ আটপৌরে শাড়িতে পর্দায় আসতেন, সুচিত্রা সেন তখন শাড়ি পরার ধরনেও নতুনত্ব নিয়ে এসেছিলেন। সাধারণ একটি সুতির শাড়িকেও তিনি কীভাবে যেন রাজকীয় রূপ দিতে পারতেন। পর্দার সামনে কখনো তিনি সপ্তপদীর রিনা ব্রাউন, কখনো ‘হারানো সুরে’র রমা ব্যানার্জি হয়ে, কখনো ‘দেবদাসে’র পার্বতী।
শাড়ির আঁচল টেনে কোমরে গুঁজে রাখা, ঘাড় সামান্য বাঁকিয়ে তাকানো আর পর্দার সামনে সাবলীল উপস্থিতি; অনন্যা করে তুলেছিল সুচিত্রাকে।
সুচিত্রার সাজে বাহুল্য থাকত না, তাতে ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। চিবুকের তিল, নিখুঁত ভ্রু, আর টানা চোখের কাজল সাধারণ বাঙালি মেয়েদের ফ্যাশনের ধরন পালটে দিয়েছিল।
সুচিত্রা সেন যখন মধ্যবিত্ত বা সাধারণ ঘরের নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তখন তাঁর সাজ ছিল একদম স্নিগ্ধ আর ছিমছাম। যেমন ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবির কথা বলা যায়। এই ছবিতে তিনি সাধারণ সুতির ছাপা শাড়ি আর রং মেলানো ব্লাউজ পরতেন। চুলে ফিতা দিয়ে সাধারণ বেণি করতেন। গলায় থাকত ছোট্ট মালা। এই সাদামাটা সাজেও তিনি ছিলেন অনন্যা।

আবার ‘হারানো সুর’ ছবিতে তিনি চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেন। ড. রমা চরিত্রে তার পরনে ছিল একদম সাধারণ একরঙা শাড়ি। মুখে হালকা মেকআপ আর চুল টাইট করে বাঁধা। একজন পেশাজীবী নারীর গাম্ভীর্য আর স্নিগ্ধতা তাঁর পোশাকে দারুণভাবে ফুটে উঠেছিল।
অন্যদিকে তিনি যখন কোনো ধনী পরিবারের মেয়ের চরিত্রে পর্দায় আসতেন, তখন তাঁর গ্ল্যামার দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যেত। ‘সাগরিকা’ ছবিতে তিনি ছিলেন ধনাঢ্য ঘরের তরুণী। এই ছবিতে তার পরনে ছিল দামি জর্জেট শাড়ি। কানে বড় ঝোলানো দুল, কপালে মানানসই টিপ আর গলায় মুক্তার মালা। ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ বা ‘পথে হল দেরি’ ছবিতেও তাঁর সাজ ছিল দারুণ আভিজাত্যপূর্ণ।
চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে ব্লাউজের ডিজাইনেও তিনি বৈচিত্র্য আনতেন। কখনো পরতেন ফুলহাতা ব্লাউজ, কখনো থ্রি-কোয়ার্টার, আবার কখনো কুঁচি দেওয়া লেসের ব্লাউজ।
সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেন আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকার পড়লে বোঝা যায়, মা সুচিত্রা সেন তাঁর চরিত্রের পোশাক বাছাইয়ে কতটা সচেতন ছিলেন।
মুনমুন সেন জানান, ‘ফরিয়াদ’ সিনেমায় সুচিত্রা সেনের পরা সেই বিখ্যাত গাউনটি ছিল তাঁর নিজের ডিজাইন করা। শুধু তাই নয়, কালজয়ী ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির ব্লাউজের নকশাও করেছিলেন তিনি।
এমনকি মা সুচিত্রা সেন যখন বিয়ের কনের চরিত্রে অভিনয় করতেন, তখন সুচিত্রা সেন নিজেই চাইতেন তাঁর কপালের চন্দন যেন মেয়ে পরিয়ে দেয়। মায়ের কোলের ওপর বসে সেই ছোট্ট হাতেই সুচিত্রা সেনের কপালে চন্দন এঁকে দিতেন কিশোরী মুনমুন।

আনন্দবাজারকে দেওয়া সেই সাক্ষাতকারে মুনমুন সেন বলেন, ‘প্রফুল্ল থেকে দেবী চৌধুরাণী হয়ে ওঠার পথে শাড়ি আর সাজের যে বদল, তা নিয়ে মায়ের নিজেরও অনেকটা ভাবনা ছিল। আমার কাছেও খুব স্পষ্ট ছিল, মা ঠিক কী চাইছেন। ‘দেবী চৌধুরাণী’র ব্লাউজ়ের ডিজ়াইনও আমার করা।”
সুচিত্রা সেনের ফ্যাশনের সবচেয়ে বড় দিক হলো, তিনি গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে পারতেন। সেই যুগে বাঙালি নারীদের জন্য পশ্চিমা পোশাক পরা বেশ সাহসের ব্যাপার ছিল। তিনি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ভিন্নধর্মী লুক পর্দায় নিয়ে এসেছিলেন।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ‘সপ্তপদী’ সিনেমা। এই ছবিতে তিনি ‘রিনা ব্রাউন’ নামের এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন। উত্তম কুমারের পেছনে মোটরসাইকেলে বসে আছেন তিনি। বাতাসে উড়ছে তাঁর পনিটাইল করে বাঁধা চুল। গলায় জড়ানো স্কার্ফ আর পরনে ওয়েস্টার্ন ড্রেস। উত্তম কুমার গাইছেন, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়..’

এই একটি দৃশ্য যেন বাঙালি মেয়েদের ফ্যাশন নিয়ে ভাবনার জগতটাই বদলে দিয়েছিল।
আটপৌরে শাড়িতে সুচিত্রাকে দেখে অভ্যস্ত দর্শকরা ওয়েস্টার্ন লুকেও নায়িকাকে সাদরে গ্রহণ করে নিল।
সুচিত্রার এই ওয়েস্টার্ন লুকের মধ্যে কোনো আড়ষ্টতা ছিল না। স্লিভলেস বা হাতাকাটা ব্লাউজ পরার সাহসও তিনি প্রথম দেখান। তাঁর এই ছকভাঙা ফ্যাশন সেই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ছিল।
সুচিত্রা সেই মিষ্টি রহস্যময় হাসি, বড় লকেট দেওয়া গলার চেন, টানা করে বাঁধা খোঁপা আর মায়াবী চোখ আজও মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণী আজও শাড়ি পরার সময় সুচিত্রা সেনের লুক অনুকরণ করার চেষ্টা করেন। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর ফ্যাশনের এমন অভাবনীয় মেলবন্ধন বাংলা সিনেমায় আগে কখনো আসেনি। বাঙালির মনে, মননে আর ফ্যাশনে সুচিত্রা সেন তাই চিরকাল রহস্যে ঘেরা রাজকন্যা হয়েই বেঁচে থাকবেন।

‘সুচিত্রা সেন’ নাম উচ্চারণ করলেই বাঙালির মানসপটে আজও ভেসে ওঠে একজন চিরতরুণীর মুখচ্ছবি। তাঁর পাখির নীড়ের মত চোখের মায়াময় চাহনি দেখে মনে হয় এক্ষুণি উত্তম কুমার বলে বসবেন, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন!’
জীবনের দীর্ঘসময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পরও দর্শকের মন থেকে তাঁর স্মৃতি মুছে যায়নি। তাঁর কথা বলার ধরন, তাকানোর ভঙ্গিমা আর মুখের অভিব্যক্তি—সবকিছুই ছিল জাদুকরী। সিনেমায় তাঁর চরিত্রকেও দিতেন নিত্যনতুন লুক। দর্শক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকত। এই সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মোহময় ব্যক্তিত্ব।
ষাটের দশকে কলকাতার বাংলা সিনেমায় অনেক গুণী ও জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। কিন্তু সুচিত্রা সেন ছিলেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে, একেবারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। পাবনার রমা থেকে তিনি পুরো প্রজন্মের স্বপ্নের নায়িকাতে পরিণত হয়েছিলেন।
ষাটের দশকে কলকাতায় সুপ্রিয়া দেবী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি নায়িকারা অভিনয় করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই অভিনয়ে দারুণ ছিলেন। কিন্তু সুচিত্রা সেন ছিলেন সবার চেয়ে আলাদা। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সুপারস্টার। সেই সময়ের হিসেবে একজন নায়িকার স্টার হয়ে ওঠা খুব সহজ ছিল না।

এই এগিয়ে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তাঁর অভিনয় দক্ষতা, অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স এবং নিজের স্টাইলকে বহন করার আত্মবিশ্বাসের কথা বলা যেতে পারে। সুচিত্রা সেন খুব নিখুঁতভাবে সিনেমার চরিত্র অনুযায়ী নিজের লুক ও ফ্যাশন বদলে ফেলতেন। তিনি যখন যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাঁর পোশাক ঠিক সেই চরিত্রের কথাই বলেছে।
অন্য নায়িকারা যখন সাধারণ আটপৌরে শাড়িতে পর্দায় আসতেন, সুচিত্রা সেন তখন শাড়ি পরার ধরনেও নতুনত্ব নিয়ে এসেছিলেন। সাধারণ একটি সুতির শাড়িকেও তিনি কীভাবে যেন রাজকীয় রূপ দিতে পারতেন। পর্দার সামনে কখনো তিনি সপ্তপদীর রিনা ব্রাউন, কখনো ‘হারানো সুরে’র রমা ব্যানার্জি হয়ে, কখনো ‘দেবদাসে’র পার্বতী।
শাড়ির আঁচল টেনে কোমরে গুঁজে রাখা, ঘাড় সামান্য বাঁকিয়ে তাকানো আর পর্দার সামনে সাবলীল উপস্থিতি; অনন্যা করে তুলেছিল সুচিত্রাকে।
সুচিত্রার সাজে বাহুল্য থাকত না, তাতে ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। চিবুকের তিল, নিখুঁত ভ্রু, আর টানা চোখের কাজল সাধারণ বাঙালি মেয়েদের ফ্যাশনের ধরন পালটে দিয়েছিল।
সুচিত্রা সেন যখন মধ্যবিত্ত বা সাধারণ ঘরের নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তখন তাঁর সাজ ছিল একদম স্নিগ্ধ আর ছিমছাম। যেমন ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবির কথা বলা যায়। এই ছবিতে তিনি সাধারণ সুতির ছাপা শাড়ি আর রং মেলানো ব্লাউজ পরতেন। চুলে ফিতা দিয়ে সাধারণ বেণি করতেন। গলায় থাকত ছোট্ট মালা। এই সাদামাটা সাজেও তিনি ছিলেন অনন্যা।

আবার ‘হারানো সুর’ ছবিতে তিনি চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেন। ড. রমা চরিত্রে তার পরনে ছিল একদম সাধারণ একরঙা শাড়ি। মুখে হালকা মেকআপ আর চুল টাইট করে বাঁধা। একজন পেশাজীবী নারীর গাম্ভীর্য আর স্নিগ্ধতা তাঁর পোশাকে দারুণভাবে ফুটে উঠেছিল।
অন্যদিকে তিনি যখন কোনো ধনী পরিবারের মেয়ের চরিত্রে পর্দায় আসতেন, তখন তাঁর গ্ল্যামার দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যেত। ‘সাগরিকা’ ছবিতে তিনি ছিলেন ধনাঢ্য ঘরের তরুণী। এই ছবিতে তার পরনে ছিল দামি জর্জেট শাড়ি। কানে বড় ঝোলানো দুল, কপালে মানানসই টিপ আর গলায় মুক্তার মালা। ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ বা ‘পথে হল দেরি’ ছবিতেও তাঁর সাজ ছিল দারুণ আভিজাত্যপূর্ণ।
চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে ব্লাউজের ডিজাইনেও তিনি বৈচিত্র্য আনতেন। কখনো পরতেন ফুলহাতা ব্লাউজ, কখনো থ্রি-কোয়ার্টার, আবার কখনো কুঁচি দেওয়া লেসের ব্লাউজ।
সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেন আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকার পড়লে বোঝা যায়, মা সুচিত্রা সেন তাঁর চরিত্রের পোশাক বাছাইয়ে কতটা সচেতন ছিলেন।
মুনমুন সেন জানান, ‘ফরিয়াদ’ সিনেমায় সুচিত্রা সেনের পরা সেই বিখ্যাত গাউনটি ছিল তাঁর নিজের ডিজাইন করা। শুধু তাই নয়, কালজয়ী ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির ব্লাউজের নকশাও করেছিলেন তিনি।
এমনকি মা সুচিত্রা সেন যখন বিয়ের কনের চরিত্রে অভিনয় করতেন, তখন সুচিত্রা সেন নিজেই চাইতেন তাঁর কপালের চন্দন যেন মেয়ে পরিয়ে দেয়। মায়ের কোলের ওপর বসে সেই ছোট্ট হাতেই সুচিত্রা সেনের কপালে চন্দন এঁকে দিতেন কিশোরী মুনমুন।

আনন্দবাজারকে দেওয়া সেই সাক্ষাতকারে মুনমুন সেন বলেন, ‘প্রফুল্ল থেকে দেবী চৌধুরাণী হয়ে ওঠার পথে শাড়ি আর সাজের যে বদল, তা নিয়ে মায়ের নিজেরও অনেকটা ভাবনা ছিল। আমার কাছেও খুব স্পষ্ট ছিল, মা ঠিক কী চাইছেন। ‘দেবী চৌধুরাণী’র ব্লাউজ়ের ডিজ়াইনও আমার করা।”
সুচিত্রা সেনের ফ্যাশনের সবচেয়ে বড় দিক হলো, তিনি গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে পারতেন। সেই যুগে বাঙালি নারীদের জন্য পশ্চিমা পোশাক পরা বেশ সাহসের ব্যাপার ছিল। তিনি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ভিন্নধর্মী লুক পর্দায় নিয়ে এসেছিলেন।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ‘সপ্তপদী’ সিনেমা। এই ছবিতে তিনি ‘রিনা ব্রাউন’ নামের এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন। উত্তম কুমারের পেছনে মোটরসাইকেলে বসে আছেন তিনি। বাতাসে উড়ছে তাঁর পনিটাইল করে বাঁধা চুল। গলায় জড়ানো স্কার্ফ আর পরনে ওয়েস্টার্ন ড্রেস। উত্তম কুমার গাইছেন, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়..’

এই একটি দৃশ্য যেন বাঙালি মেয়েদের ফ্যাশন নিয়ে ভাবনার জগতটাই বদলে দিয়েছিল।
আটপৌরে শাড়িতে সুচিত্রাকে দেখে অভ্যস্ত দর্শকরা ওয়েস্টার্ন লুকেও নায়িকাকে সাদরে গ্রহণ করে নিল।
সুচিত্রার এই ওয়েস্টার্ন লুকের মধ্যে কোনো আড়ষ্টতা ছিল না। স্লিভলেস বা হাতাকাটা ব্লাউজ পরার সাহসও তিনি প্রথম দেখান। তাঁর এই ছকভাঙা ফ্যাশন সেই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ছিল।
সুচিত্রা সেই মিষ্টি রহস্যময় হাসি, বড় লকেট দেওয়া গলার চেন, টানা করে বাঁধা খোঁপা আর মায়াবী চোখ আজও মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণী আজও শাড়ি পরার সময় সুচিত্রা সেনের লুক অনুকরণ করার চেষ্টা করেন। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর ফ্যাশনের এমন অভাবনীয় মেলবন্ধন বাংলা সিনেমায় আগে কখনো আসেনি। বাঙালির মনে, মননে আর ফ্যাশনে সুচিত্রা সেন তাই চিরকাল রহস্যে ঘেরা রাজকন্যা হয়েই বেঁচে থাকবেন।
.png)

রেলে ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ একটা রব উঠেছে! সে খবর ইঞ্জিন, লাইন, ঘণ্টা, সিগন্যাল এদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তাই এরা একটা সভা ডাকল। মস্ত সভা। পূর্ণিমার দিন রাত দুটোয় অস্পষ্ট মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর নীচে সবাই জড়ো হল। হাঁপাতে হাঁপাতে বিশালবপু সভাপতি ইঞ্জিন মশাই এলেন। তাঁর লেট হয়ে গেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
বন্ধুমহলে নাম শুনেছিলুম আগেই; চোখে দেখলুম লেক-লগ্ন একটি ক্লাবের বাইশে শ্রাবণের অনুষ্ঠানে। উজ্জ্বল আলোয়, সুবেশ, চিক্কণ এবং সাধারণত কাব্য সম্বন্ধে উদাসীন মেয়ে পুরুষের ভিড়ের মধ্যে কালো একটি ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে, বেশ চেঁচিয়ে, বেশ স্পষ্ট ক’রে রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে নিজের লেখা একটি কবিতা পড়লো।
১২ ঘণ্টা আগে
কম করে হলেও এক হাজার বছর ধরে কবিতা লিখছে বাংলাভাষী মানুষ; এ অঞ্চলে জন্মেছেন অগণিত ভাবমূর্তিসম্পন্ন কবি। উপাধিপ্রবণ বাঙালি কবিসমাজ তৈরি করে নিয়েছে নানা ধরনের উপাধি—‘কবিকঙ্কন’, ‘বিশ্বকবি’, ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘পল্লীকবি’, ‘রূপসী বাংলার কবি’। তবে ‘কিশোর-কবি’ অভিধা পেয়েছেন মূলত একজনই—সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬
১২ ঘণ্টা আগে
কাব্য-সাহিত্যের অনুর্বরতাও এই জন্য যে কবিতা লেখার মজুরীতে কবি বাঁচে না। নতুন যুগের অলঙ্ঘ নির্দেশে তাকে আজ দেহমনে চব্বিশ ঘণ্টার সাহচার্য বরণ করে নিতে হয় তার যে উলঙ্গ ছেলেরা আজ বুলেট খেয়ে মরছে তাদের, কাব্যচর্চা আর জীবিকাচর্চার শোষণে সে ক্ষয় হয়ে যায়।
১৩ ঘণ্টা আগে