কাজী নিশাত তাবাসসুম

আশি আর নব্বই দশকে যাদের শৈশব কেটেছে, তারা জানেন, শুধু কাঠ আর কাপড়ের টুকরো দিয়ে একজন মানুষ কীভাবে পুরো একটা জাতির শৈশব রঙিন করে দিয়েছিলেন। সেই মানুষটিকে ‘পাপেটম্যান’ ছাড়া আর কী নামেই বা ডাকা যায়?
তাঁর কেতাবি নাম মুস্তাফা মনোয়ার। কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, শিশু-কিশোর সংস্কৃতির অন্যতম সংগঠক এবং পাপেট শোর অগ্রদূত। অনেকেই তাঁকে ভালোবেসে ডাকেন ‘পাপেট ম্যান’।
কেন তিনি ‘পাপেট ম্যান’
বাংলাদেশে পুতুলনাচের ইতিহাস শতাব্দী প্রাচীন। গ্রামবাংলার হাট, মেলা, ধর্মীয় উৎসব ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে পুতুলনাচ ছিল মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন। লোককথা, নৈতিক শিক্ষা, ইতিহাস এবং সামাজিক বার্তা সহজ-সরল ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই শিল্পমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদন মাধ্যমের বিস্তার এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প হারিয়ে যেতে শুরু করে।
সেসময়ে মুস্তাফা মনোয়ার উপলব্ধি করেন, পুতুল কেবল শিশুদের খেলনার বিষয় নয়, এটি হতে পারে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতা এবং সৃজনশীল শিল্পচর্চার এক শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি দেশীয় লোকজ পুতুলনাচকে আধুনিক নাট্যশৈলী, সংগীত, আলোকসজ্জা, মঞ্চনির্মাণ ও অভিনয়কলার সঙ্গে যুক্ত করে এক নতুন মাত্রা দেন। তাঁর হাত ধরে পাপেট শো গ্রামীণ বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্যও তিনি নানা বিষয়ভিত্তিক পাপেট শো নির্মাণ করেন।
পুতুলশিল্পের পুনর্জাগরণে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা এবং আজীবন নিবেদিত সাধনার স্বীকৃতি হিসেবেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মুস্তাফা মনোয়ারের নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায় ‘পাপেট ম্যান’ উপাধি। আজও বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের ইতিহাস উচ্চারিত হলে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
কীভাবে শুরু হয়েছিল তাঁর পুতুলযাত্রা
মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে পাস করার পর কর্মজীবন শুরু করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা কলেজের প্রভাষক হিসেবে। তিনি শিল্পীজীবন শুরু করেন চিত্রকলা দিয়ে। তিনি ঢাকা আর্ট কলেজে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে শিক্ষকতাও করেন। শিশুদের জন্য শিল্পচর্চা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় পুতুলনাটকের প্রতি। বিদেশে পাপেট থিয়েটারের বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের লোকজ পুতুলনাচের ঐতিহ্যও গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি নিজেই পুতুল তৈরি, চরিত্র নির্মাণ, গল্প নির্বাচন, মঞ্চসজ্জা ও পরিচালনার কাজে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠে আধুনিক পুতুলনাটকের একটি স্বতন্ত্র ধারা।
একসময় বাংলাদেশে শিশুদের বিনোদনের মাধ্যম ছিল খুবই সীমিত। সেই সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন পাপেট শো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ‘মনের কথা’ মুস্তাফা মনোয়ারের পরিকল্পনা, পরিচালনায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় পাপেট সিরিজ। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় এই অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় এবং আশি ও নব্বই দশকের শিশুদের কল্পনাশক্তি ও নৈতিকতা গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তী সময়ে মীনা, সিসিমপুরের মতো জনপ্রিয় পাপেট সিরিজের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। গল্পের মাধ্যমে এসব অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হতো নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বার্তা। ফলে পাপেট শো আর শুধুই বিনোদন নয়, এটি হয়ে ওঠে শিক্ষারও একটি কার্যকর মাধ্যম।
‘পাপেট ম্যান’ নামটি কীভাবে এলো
‘পাপেট ম্যান’ কোনো সরকারি উপাধি নয়। এটি মূলত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমের দেওয়া একটি সম্মানসূচক পরিচয়। কারণ বাংলাদেশে আধুনিক পুতুলনাটককে জনপ্রিয় করে তোলা, নতুন শিল্পী তৈরি, পুতুল নির্মাণের কৌশল উন্নয়ন এবং এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুস্তাফা মনোয়ারের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি প্রায় একক প্রচেষ্টায় পুতুলনাটককে জীবিত রেখেছেন। অনেকেই বলেন, বাংলাদেশের পুতুলনাটকের কথা উঠলেই প্রথম যে নামটি মনে আসে, সেটি মুস্তাফা মনোয়ার। আর সেই কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন দেশের ‘পাপেট ম্যান’।
মুস্তাফা মনোয়ার নতুন শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, কর্মশালা পরিচালনা করেছেন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং শিশুদের জন্য শিল্পচর্চাকে জনপ্রিয় করতে নিরলস ভূমিকা রেখেছেন।
অনেকেই শুধু পুতুলনাটকের জন্য তাঁকে মনে রাখলেও তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী। বইয়ের প্রচ্ছদ, পোস্টার, অলংকরণ, শিশুতোষ প্রকাশনা এবং গ্রাফিক ডিজাইনের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান ‘মনোয়ারের আসর’ উপস্থাপনার মাধ্যমে বহু প্রজন্মের দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শিশুদের ছবি আঁকা, গল্প বলা, গান, অভিনয় এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি
বাংলাদেশের পুতুলনাটককে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসব, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের ঐতিহ্য, নান্দনিকতা ও সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।
বিদেশি শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং নতুন প্রযুক্তি ও মঞ্চ উপস্থাপনার কৌশল শেখার মাধ্যমে তিনি দেশীয় পুতুলনাটককে আরও আধুনিক, বৈচিত্র্যময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশের শিল্পীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে পুতুলনাটকের প্রতি আগ্রহী করে তুলতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের পুতুলনাটককে বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

আশি আর নব্বই দশকে যাদের শৈশব কেটেছে, তারা জানেন, শুধু কাঠ আর কাপড়ের টুকরো দিয়ে একজন মানুষ কীভাবে পুরো একটা জাতির শৈশব রঙিন করে দিয়েছিলেন। সেই মানুষটিকে ‘পাপেটম্যান’ ছাড়া আর কী নামেই বা ডাকা যায়?
তাঁর কেতাবি নাম মুস্তাফা মনোয়ার। কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, শিশু-কিশোর সংস্কৃতির অন্যতম সংগঠক এবং পাপেট শোর অগ্রদূত। অনেকেই তাঁকে ভালোবেসে ডাকেন ‘পাপেট ম্যান’।
কেন তিনি ‘পাপেট ম্যান’
বাংলাদেশে পুতুলনাচের ইতিহাস শতাব্দী প্রাচীন। গ্রামবাংলার হাট, মেলা, ধর্মীয় উৎসব ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে পুতুলনাচ ছিল মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন। লোককথা, নৈতিক শিক্ষা, ইতিহাস এবং সামাজিক বার্তা সহজ-সরল ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই শিল্পমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদন মাধ্যমের বিস্তার এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প হারিয়ে যেতে শুরু করে।
সেসময়ে মুস্তাফা মনোয়ার উপলব্ধি করেন, পুতুল কেবল শিশুদের খেলনার বিষয় নয়, এটি হতে পারে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতা এবং সৃজনশীল শিল্পচর্চার এক শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি দেশীয় লোকজ পুতুলনাচকে আধুনিক নাট্যশৈলী, সংগীত, আলোকসজ্জা, মঞ্চনির্মাণ ও অভিনয়কলার সঙ্গে যুক্ত করে এক নতুন মাত্রা দেন। তাঁর হাত ধরে পাপেট শো গ্রামীণ বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্যও তিনি নানা বিষয়ভিত্তিক পাপেট শো নির্মাণ করেন।
পুতুলশিল্পের পুনর্জাগরণে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা এবং আজীবন নিবেদিত সাধনার স্বীকৃতি হিসেবেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মুস্তাফা মনোয়ারের নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায় ‘পাপেট ম্যান’ উপাধি। আজও বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের ইতিহাস উচ্চারিত হলে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
কীভাবে শুরু হয়েছিল তাঁর পুতুলযাত্রা
মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে পাস করার পর কর্মজীবন শুরু করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা কলেজের প্রভাষক হিসেবে। তিনি শিল্পীজীবন শুরু করেন চিত্রকলা দিয়ে। তিনি ঢাকা আর্ট কলেজে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে শিক্ষকতাও করেন। শিশুদের জন্য শিল্পচর্চা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় পুতুলনাটকের প্রতি। বিদেশে পাপেট থিয়েটারের বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের লোকজ পুতুলনাচের ঐতিহ্যও গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি নিজেই পুতুল তৈরি, চরিত্র নির্মাণ, গল্প নির্বাচন, মঞ্চসজ্জা ও পরিচালনার কাজে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠে আধুনিক পুতুলনাটকের একটি স্বতন্ত্র ধারা।
একসময় বাংলাদেশে শিশুদের বিনোদনের মাধ্যম ছিল খুবই সীমিত। সেই সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন পাপেট শো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ‘মনের কথা’ মুস্তাফা মনোয়ারের পরিকল্পনা, পরিচালনায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় পাপেট সিরিজ। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় এই অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় এবং আশি ও নব্বই দশকের শিশুদের কল্পনাশক্তি ও নৈতিকতা গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তী সময়ে মীনা, সিসিমপুরের মতো জনপ্রিয় পাপেট সিরিজের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। গল্পের মাধ্যমে এসব অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হতো নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বার্তা। ফলে পাপেট শো আর শুধুই বিনোদন নয়, এটি হয়ে ওঠে শিক্ষারও একটি কার্যকর মাধ্যম।
‘পাপেট ম্যান’ নামটি কীভাবে এলো
‘পাপেট ম্যান’ কোনো সরকারি উপাধি নয়। এটি মূলত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমের দেওয়া একটি সম্মানসূচক পরিচয়। কারণ বাংলাদেশে আধুনিক পুতুলনাটককে জনপ্রিয় করে তোলা, নতুন শিল্পী তৈরি, পুতুল নির্মাণের কৌশল উন্নয়ন এবং এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুস্তাফা মনোয়ারের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি প্রায় একক প্রচেষ্টায় পুতুলনাটককে জীবিত রেখেছেন। অনেকেই বলেন, বাংলাদেশের পুতুলনাটকের কথা উঠলেই প্রথম যে নামটি মনে আসে, সেটি মুস্তাফা মনোয়ার। আর সেই কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন দেশের ‘পাপেট ম্যান’।
মুস্তাফা মনোয়ার নতুন শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, কর্মশালা পরিচালনা করেছেন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং শিশুদের জন্য শিল্পচর্চাকে জনপ্রিয় করতে নিরলস ভূমিকা রেখেছেন।
অনেকেই শুধু পুতুলনাটকের জন্য তাঁকে মনে রাখলেও তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী। বইয়ের প্রচ্ছদ, পোস্টার, অলংকরণ, শিশুতোষ প্রকাশনা এবং গ্রাফিক ডিজাইনের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান ‘মনোয়ারের আসর’ উপস্থাপনার মাধ্যমে বহু প্রজন্মের দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শিশুদের ছবি আঁকা, গল্প বলা, গান, অভিনয় এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি
বাংলাদেশের পুতুলনাটককে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসব, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের ঐতিহ্য, নান্দনিকতা ও সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।
বিদেশি শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং নতুন প্রযুক্তি ও মঞ্চ উপস্থাপনার কৌশল শেখার মাধ্যমে তিনি দেশীয় পুতুলনাটককে আরও আধুনিক, বৈচিত্র্যময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশের শিল্পীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে পুতুলনাটকের প্রতি আগ্রহী করে তুলতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের পুতুলনাটককে বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়।
.png)

আমি যেসময় বড় হয়েছি, তখন স্যাটেলাইট টিভির জয়জয়কার। হরেক রকম বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ছিল নানা কিছু দেখার জিনিস। নাটক, সিনেমা, রান্নার অনুষ্ঠান, টকশো—কিছুরই অভাব ছিল না, অভাব ছিল ছোটদের অনুষ্ঠানের।
২ ঘণ্টা আগে
প্রাচ্যদেশে প্রতিমার বিশেষ ভূমিকা আছে, হয়তো ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই এই প্রতিমাকাণ্ড ঘটেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিমার অবসান ঘটলেও নিকট ও দূরপ্রাচ্যে এবং ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় আকছার রয়ে গেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে সবসময় দেখেছি সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ হিসেবে। সামনে কাগজ, হাতে রঙ তুলি। কয়েকটি আঁচড়েই ফুটে উঠত পাখি, ফুল, নদী কিংবা গ্রামের কোনো দৃশ্য। ছবি আঁকছেন ‘শিল্পী ভাই’ মুস্তাফা মনোয়ার। শুধু সাদা ক্যানভাস নয়, আমাদের শৈশবকেও রাঙিয়ে দিয়েছেন তাঁর রঙ-তুলির আঁচড়ে।
৫ ঘণ্টা আগে
সকালে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎই খবরটা এল—মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তখন তাঁর মৃত্যুর খবরটা স্রেফ ফাইল করার মতো আরেকটা খবর ছিল আমার কাছে।কাজের অংশ হিসেবে সংবাদটি লিখলাম, ওয়েবসাইটে আপলোড করলাম, এবং পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে চলে গেলাম।
৭ ঘণ্টা আগে