আজ শাবানার জন্মদিন
ফাবিহা বিনতে হক

‘হা ভাই, শুরু হচ্ছে বিউটি কুইন শাবানা-র ছবির বিজ্ঞাপন তরঙ্গ’/ ‘আসিতেছে, জনগণ নন্দিত নায়িকা শাবানার ছবি..’
রেডিওর বিজ্ঞাপনে এভাবেই পরিচয় করানো হতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানাকে। আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার দিনে আমরা অনেকেই তাঁকে চিনি সেলাই মেশিন কিংবা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলা ‘না আ আ, এ হতে পারে না’—ডায়লগের মাধ্যমে।
সিনেমায় শাবানার চরিত্র মানেই ছিল আদর্শ স্ত্রী, জনম দুঃখী মা কিংবা প্রিয় ভাবী বা ত্যাগী বোন। অথচ ৩৬ বছরের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে বোঝা যায়, এইসব ছকবাঁধা চরিত্রের বাইরেও তাঁর অনেক বৈচিত্র্যময় ‘ক্যারেক্টার’ রয়েছে।
২০০২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিনোদন পত্রিকা ‘চিত্রালী’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘শাবানার পর সুপারস্টার কোথায়?’
বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই রোমান্টিক নায়িকার ‘রোল’ থেকে সরে আসেন শাবানা। কিন্তু তাতে জনপ্রিয়তা কমেনি বরং ‘বয়সী’ চরিত্র করেও সমানভাবে স্ক্রিন ভাগাভাগি করছেন সিনেমার নায়ক-নায়িকার সঙ্গে।

‘মাস্টার ভাই’ নামে পরিচিত এফডিসির একজন সিনেমা পরিবেশক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেন, সে সময় ছবির গল্প শাবানাকে কেন্দ্র করে লেখা হতো। যে বয়সে তাঁকে যে চরিত্রে মানায়, সেটিই হয়ে উঠত ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র। শাবানা যতদিন অভিনয় করছেন, ততদিন হলে ছিল নারীদের আনাগোনা।
শাবানার সিনে-যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। ‘চকোরি’ ছবিতে নায়ক নাদিমের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হন। এরপর ২০০০ সালে যখন স্বেচ্ছায় চলচ্চিত্র জগত ত্যাগ করেন, ততদিনে তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়ে গেছে ২৯৯টি সিনেমা! ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক; টানা তিন যুগেরও বেশি সময় ঢাকাই সিনেমার জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
১৯৭৪ সালে শাবানা-জাভেদ অভিনীত ‘মালকাবানু’ ছবিটি সেই সময়ের সুপার ডুপার হিট ছবি। রূপবানের পর ‘মালকাবানু’ ছবিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সিনেমাহলগুলোতে একটানা চলেছে।
শহুরে মডার্ন তরুণী, গ্রামীণ সরল বধূ কিংবা রূপকথার জিপসি মেয়ে—সব চরিত্রেই দর্শকই শাবানাকে সাদরে গ্রহণ করছে। পালাবি কোথায়, মরণের পরে, ভাত দে, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, ছুটির ঘণ্টা, রাঙ্গা ভাবী, দুই পয়সার আলতা, অবদান, নাজমা, অপেক্ষা, সান্ত্বনা, সখি তুমি কার, মাটির ঘর, অশান্তি, কাজের বেটি রহিমা, ঘরে ঘরে যুদ্ধ,রাঙ্গা ভাবী, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, সখিনার যুদ্ধ, বাংলার বধূ, বাংলার মা এবং মা ও ছেলে—শাবানা অভিনীত সিনেমার লিস্টে বাণিজ্যিক সিনেমা যেমন আছে, আছে আর্ট ঘরানার ভিন্নধর্মী সিনেমাও।

‘মরণের পরে’ ছবিতে সন্তানদের দত্তক দিয়ে নিজের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা কিংবা পানি না খেতে পেয়ে মারা যাওয়ার দৃশ্য ছিল অনবদ্য। আবার ‘ভাত দে’ সিনেমায় ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার, ভাতের জন্য টিকে থাকার সংগ্রাম পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শাবানা।
এ ছাড়া, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন মধ্যবয়স্কা ভাবী কিংবা মায়ের চরিত্র সিনেমার প্রধান আকর্ষণ হওয়া খুব সহজ না। কিন্তু শাবানার এখানে ব্যতিক্রম। রাঙ্গা ভাবী, চাঁপা ডাঙার বউ, সত্যের মৃত্যু নেই, এই ঘর এই সংসার সিনেমার মতো অসংখ্য সিনেমায় শাবানা কোনো ‘লাস্যময়ী’ নায়িকার চরিত্রে না থাকলেও দর্শকের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন।
শাবানার সেলাই মেশিন নিয়ে ট্রল তো আমরা সবাই কমবেশি দেখেছি। সেলাই মেশিন চালাতে চালাতেই শাবানা গরীব থেকে হয়ে ওঠেন বড়লোক। কখনও স্বামীর থেকে কিছু টাকা নিয়ে মাটির ব্যাংকে জমান। সেই টাকা বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়ে যায়। তবে সেলাই মেশিন চালিয়ে যে রাতারাতি গরীব থেকে ধনী হওয়া যায় না; তা আমরা জানি।
কিন্তু আশি-নব্বইয়ের দশকে নিম্নবিত্ত ঘরের সাধারণ নারীও যে সংসার চালানোতে অবদান রাখতে পারে, সেই ধারণা শাবানা অভিনীত সিনেমাগুলোর মাধ্যমে পাওয়া যায়। কে জানে, হয়তো শাবানাকে দেখে সেলাই মেশিন কিনে অনেক সাধারণ ঘরের নারী ‘চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হোক-বা না হোক, স্বাবলম্বী হওয়ার ভাবনা কিংবা সংসারে নারীর অবদানকে সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন তিনি।
যে শাবানা বেশিরভাগ সিনেমায় শুধু কাঁদেন, তিনিই আবার ‘পালাবি কোথায়’ সিনেমায় হয়ে ওঠেন প্রতিবাদী কর্মজীবী নারীর কণ্ঠস্বর। কখনও উকিল হয়ে নিজের স্বামী-সন্তানকে অন্যায়-অবিচারের হাত থেকে বাঁচান, কখনও হাসপাতালের নার্স হয়ে রোগীর জীবন বাঁচান, আবার কখনও সন্তানকে ‘মানুষের মতো মানুষ’ করে জোরালো কণ্ঠে বলেন, ‘চৌধুরি সাহেব, আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু আমাদের আত্মসম্মান আছে।’
শাবানার নারী ভক্ত যেমন আছে, আছে অগণিত পুরুষ ভক্তও। ‘ছিল’ কেন বলছি, এখনও আছে! বিশেষ করে তাঁর ক্যারিয়ারের মধ্যভাগে ও শেষভাগে শাবানাকে গ্ল্যামারাস পোশাকে পর্দায় আসতে দেখা যায় না। দেখা যেত আটপৌরে শাড়িতে, মাথায় ঘোমটা দেওয়া ভাবী বা মায়ের চরিত্রে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শাবানার জনপ্রিয়তা কমেনি একটুও।

অন্যদিকে, নারীদের কাছে শাবানার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু কেন? সাধারণ নারীরা পর্দার শাবানার মাঝে নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। সংসারে নিজেদের না-বলা কষ্ট, শাশুড়ি-ননদের গঞ্জনা এবং আর্থিক টানাপোড়েনের যে বাস্তব চিত্র তারা প্রতিদিন দেখতেন, শাবানা পর্দায় তা ফুটিয়ে তুলতেন সুনিপুণ দক্ষতায়। টেলিভিশনের সামনে বসে শাবানার অভিনয় দেখে অনেকে কেঁদে বুক ভাসাতেন—এমন ঘটনাও আমি দেখেছি। কান্নার অভিনয়ে শাবানা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ জন্যই বিখ্যাত পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেছিলেন, ‘শাবানার চোখের পানির দাম কোটি টাকা।’
শাবানা যখন পর্দায় কাঁদতেন, দর্শকরাও কাঁদতেন-ব্যথিত হতেন। আর সিনেমা শেষে শাবানা যখন সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে জয়ী হতেন, তখন সাধারণ নারীরা নিজেদের জীবনের না-পাওয়া জয়ের স্বাদ হয়তো পর্দার শাবানার মাঝেই খুঁজে পেতেন।
শাবানা তাঁর সময়কে বুঝেছিলেন, নারীর মনও বুঝেছিলেন। আর এজন্যই শাবানা দীর্ঘ ৩৬ বছর ঢালিউডের রানী হয়ে দেশের চলচ্চিত্র জগত শাসন করেছিলেন সগৌরবে।

‘হা ভাই, শুরু হচ্ছে বিউটি কুইন শাবানা-র ছবির বিজ্ঞাপন তরঙ্গ’/ ‘আসিতেছে, জনগণ নন্দিত নায়িকা শাবানার ছবি..’
রেডিওর বিজ্ঞাপনে এভাবেই পরিচয় করানো হতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানাকে। আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার দিনে আমরা অনেকেই তাঁকে চিনি সেলাই মেশিন কিংবা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলা ‘না আ আ, এ হতে পারে না’—ডায়লগের মাধ্যমে।
সিনেমায় শাবানার চরিত্র মানেই ছিল আদর্শ স্ত্রী, জনম দুঃখী মা কিংবা প্রিয় ভাবী বা ত্যাগী বোন। অথচ ৩৬ বছরের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে বোঝা যায়, এইসব ছকবাঁধা চরিত্রের বাইরেও তাঁর অনেক বৈচিত্র্যময় ‘ক্যারেক্টার’ রয়েছে।
২০০২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিনোদন পত্রিকা ‘চিত্রালী’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘শাবানার পর সুপারস্টার কোথায়?’
বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই রোমান্টিক নায়িকার ‘রোল’ থেকে সরে আসেন শাবানা। কিন্তু তাতে জনপ্রিয়তা কমেনি বরং ‘বয়সী’ চরিত্র করেও সমানভাবে স্ক্রিন ভাগাভাগি করছেন সিনেমার নায়ক-নায়িকার সঙ্গে।

‘মাস্টার ভাই’ নামে পরিচিত এফডিসির একজন সিনেমা পরিবেশক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেন, সে সময় ছবির গল্প শাবানাকে কেন্দ্র করে লেখা হতো। যে বয়সে তাঁকে যে চরিত্রে মানায়, সেটিই হয়ে উঠত ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র। শাবানা যতদিন অভিনয় করছেন, ততদিন হলে ছিল নারীদের আনাগোনা।
শাবানার সিনে-যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। ‘চকোরি’ ছবিতে নায়ক নাদিমের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হন। এরপর ২০০০ সালে যখন স্বেচ্ছায় চলচ্চিত্র জগত ত্যাগ করেন, ততদিনে তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়ে গেছে ২৯৯টি সিনেমা! ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক; টানা তিন যুগেরও বেশি সময় ঢাকাই সিনেমার জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
১৯৭৪ সালে শাবানা-জাভেদ অভিনীত ‘মালকাবানু’ ছবিটি সেই সময়ের সুপার ডুপার হিট ছবি। রূপবানের পর ‘মালকাবানু’ ছবিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সিনেমাহলগুলোতে একটানা চলেছে।
শহুরে মডার্ন তরুণী, গ্রামীণ সরল বধূ কিংবা রূপকথার জিপসি মেয়ে—সব চরিত্রেই দর্শকই শাবানাকে সাদরে গ্রহণ করছে। পালাবি কোথায়, মরণের পরে, ভাত দে, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, ছুটির ঘণ্টা, রাঙ্গা ভাবী, দুই পয়সার আলতা, অবদান, নাজমা, অপেক্ষা, সান্ত্বনা, সখি তুমি কার, মাটির ঘর, অশান্তি, কাজের বেটি রহিমা, ঘরে ঘরে যুদ্ধ,রাঙ্গা ভাবী, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, সখিনার যুদ্ধ, বাংলার বধূ, বাংলার মা এবং মা ও ছেলে—শাবানা অভিনীত সিনেমার লিস্টে বাণিজ্যিক সিনেমা যেমন আছে, আছে আর্ট ঘরানার ভিন্নধর্মী সিনেমাও।

‘মরণের পরে’ ছবিতে সন্তানদের দত্তক দিয়ে নিজের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা কিংবা পানি না খেতে পেয়ে মারা যাওয়ার দৃশ্য ছিল অনবদ্য। আবার ‘ভাত দে’ সিনেমায় ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার, ভাতের জন্য টিকে থাকার সংগ্রাম পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শাবানা।
এ ছাড়া, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন মধ্যবয়স্কা ভাবী কিংবা মায়ের চরিত্র সিনেমার প্রধান আকর্ষণ হওয়া খুব সহজ না। কিন্তু শাবানার এখানে ব্যতিক্রম। রাঙ্গা ভাবী, চাঁপা ডাঙার বউ, সত্যের মৃত্যু নেই, এই ঘর এই সংসার সিনেমার মতো অসংখ্য সিনেমায় শাবানা কোনো ‘লাস্যময়ী’ নায়িকার চরিত্রে না থাকলেও দর্শকের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন।
শাবানার সেলাই মেশিন নিয়ে ট্রল তো আমরা সবাই কমবেশি দেখেছি। সেলাই মেশিন চালাতে চালাতেই শাবানা গরীব থেকে হয়ে ওঠেন বড়লোক। কখনও স্বামীর থেকে কিছু টাকা নিয়ে মাটির ব্যাংকে জমান। সেই টাকা বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়ে যায়। তবে সেলাই মেশিন চালিয়ে যে রাতারাতি গরীব থেকে ধনী হওয়া যায় না; তা আমরা জানি।
কিন্তু আশি-নব্বইয়ের দশকে নিম্নবিত্ত ঘরের সাধারণ নারীও যে সংসার চালানোতে অবদান রাখতে পারে, সেই ধারণা শাবানা অভিনীত সিনেমাগুলোর মাধ্যমে পাওয়া যায়। কে জানে, হয়তো শাবানাকে দেখে সেলাই মেশিন কিনে অনেক সাধারণ ঘরের নারী ‘চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হোক-বা না হোক, স্বাবলম্বী হওয়ার ভাবনা কিংবা সংসারে নারীর অবদানকে সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন তিনি।
যে শাবানা বেশিরভাগ সিনেমায় শুধু কাঁদেন, তিনিই আবার ‘পালাবি কোথায়’ সিনেমায় হয়ে ওঠেন প্রতিবাদী কর্মজীবী নারীর কণ্ঠস্বর। কখনও উকিল হয়ে নিজের স্বামী-সন্তানকে অন্যায়-অবিচারের হাত থেকে বাঁচান, কখনও হাসপাতালের নার্স হয়ে রোগীর জীবন বাঁচান, আবার কখনও সন্তানকে ‘মানুষের মতো মানুষ’ করে জোরালো কণ্ঠে বলেন, ‘চৌধুরি সাহেব, আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু আমাদের আত্মসম্মান আছে।’
শাবানার নারী ভক্ত যেমন আছে, আছে অগণিত পুরুষ ভক্তও। ‘ছিল’ কেন বলছি, এখনও আছে! বিশেষ করে তাঁর ক্যারিয়ারের মধ্যভাগে ও শেষভাগে শাবানাকে গ্ল্যামারাস পোশাকে পর্দায় আসতে দেখা যায় না। দেখা যেত আটপৌরে শাড়িতে, মাথায় ঘোমটা দেওয়া ভাবী বা মায়ের চরিত্রে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শাবানার জনপ্রিয়তা কমেনি একটুও।

অন্যদিকে, নারীদের কাছে শাবানার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু কেন? সাধারণ নারীরা পর্দার শাবানার মাঝে নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। সংসারে নিজেদের না-বলা কষ্ট, শাশুড়ি-ননদের গঞ্জনা এবং আর্থিক টানাপোড়েনের যে বাস্তব চিত্র তারা প্রতিদিন দেখতেন, শাবানা পর্দায় তা ফুটিয়ে তুলতেন সুনিপুণ দক্ষতায়। টেলিভিশনের সামনে বসে শাবানার অভিনয় দেখে অনেকে কেঁদে বুক ভাসাতেন—এমন ঘটনাও আমি দেখেছি। কান্নার অভিনয়ে শাবানা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ জন্যই বিখ্যাত পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেছিলেন, ‘শাবানার চোখের পানির দাম কোটি টাকা।’
শাবানা যখন পর্দায় কাঁদতেন, দর্শকরাও কাঁদতেন-ব্যথিত হতেন। আর সিনেমা শেষে শাবানা যখন সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে জয়ী হতেন, তখন সাধারণ নারীরা নিজেদের জীবনের না-পাওয়া জয়ের স্বাদ হয়তো পর্দার শাবানার মাঝেই খুঁজে পেতেন।
শাবানা তাঁর সময়কে বুঝেছিলেন, নারীর মনও বুঝেছিলেন। আর এজন্যই শাবানা দীর্ঘ ৩৬ বছর ঢালিউডের রানী হয়ে দেশের চলচ্চিত্র জগত শাসন করেছিলেন সগৌরবে।

সভ্যতার চাকা সচল রাখতে মানুষের পাশে সবসময় ছিল বিভিন্ন প্রাণী। মানুষ যখন যাযাবর জীবন ছেড়ে চাষবাস শুরু করল, তখন থেকেই প্রাণীদের ব্যবহার বাড়তে থাকে। জমি চাষ থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন, এমনকি দুর্গম পথে যোগাযোগ রক্ষায় প্রাণীরা ছিল মানুষের প্রধান ভরসা।
৪ ঘণ্টা আগে
নিজের ওয়ার্ডে নিরাপদ পানির বিষয়ে কাজ করতে ‘পানি আপা’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কনকলতার কণ্ঠে এখন আত্মবিশ্বাসের সুর।
৭ ঘণ্টা আগে
কৌতূহল আর খটকা থেকেই মশিউর ‘বাঁধন’-এর একজন হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে তিনি বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।
১ দিন আগে
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা চে গুয়েভারাকে নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক সিনেমা ও তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরপরই হলিউডে সিনেমা বানানো হয়েছিল, যেখানে অভিনয় করেছিলেন মরুর বুনো বেদুঈন-খ্যাত ওমর শরীফ। তবে চলচ্চিত্র সমালোচক ও বোদ্ধাদের মতে, চে-র ঘটনাবহুল ও মহাজাগতিক জীবনকে সত্যিকা
১ দিন আগে